মেসির অবসর নিয়ে স্পষ্ট বার্তা আর্জেন্টিনা ফুটবল প্রধানের
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিশ্বকাপের পর আর্জেন্টিনার দলে লিওনেল মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা-কল্পনা থামছেই না। আলবিসেলেস্তে অধিনায়ককে নিয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লাউদিও তাপিয়া। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, জাতীয় দলে খেলা চালিয়ে যাওয়া বা না যাওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি মেসির ব্যক্তিগত ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে।
টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে এএফএ সভাপতি মহাতারকাকে নিয়ে তাড়াহুড়ো করে কোনো গুঞ্জন না ছড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, গত বিশ্বকাপের আগেও মেসির থাকা না-থাকা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল।
কোচ লিওনেল স্কালোনি সম্পর্কে বলতে গিয়ে তাপিয়া তাকে আর্জেন্টিনার ‘প্ল্যান এ, বি এবং সি’ হিসেবে আখ্যা দেন। তারপর মেসির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি পুরোপুরি তার নিজের একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। আমাদের উচিত তাকে এখন শান্তিতে থাকতে দেওয়া। ২০২২ সালেও আমরা জানতাম না, সে ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলবে কি না। সে বলেছিল প্রত্যেক ম্যাচ ধরে ধরে এগোতে চায়।’
তাপিয়া আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়, বিশ্বকাপে আমরা লিওর সর্বকালের অন্যতম সেরা এক সংস্করণ দেখেছি। আমাদের উচিত তাকে নির্ভার হয়ে ফুটবল উপভোগ করতে দেওয়া, আর এরপর যা সঠিক মনে হয়—সেই সিদ্ধান্তটি নেওয়ার সুযোগ তার ওপরই ছেড়ে দেওয়া।’
স্পেনের কাছে ফাইনালে হারের বেদনা থাকলেও পুরো টুর্নামেন্টে মেসির পারফরম্যান্স ছিল চোখধাঁধানো। টুর্নামেন্টে ৮টি গোল ও ৪টি অ্যাসিস্ট করেন তিনি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে হ্যাটট্রিক করার পাশাপাশি সুইজারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও বল পায়ে আলো ছড়িয়েছেন ৩৯ বছর বয়সি এই ফুটবলার।
মেসির পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করে তাপিয়া বলেন, ‘লিওর জন্য এটি ছিল এক দুর্দান্ত বিশ্বকাপ। আমরা এটি ভীষণ উপভোগ করেছি এবং আমাদের গর্বিত হওয়া উচিত। আমি প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেছি। নিঃসন্দেহে এই বিশ্বকাপে তিনিই ছিলেন দলটির মূল কান্ডারি। যদি তার পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করেন, তবে আমার চোখে তিনিই ছিলেন পুরো টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়। একের পর এক ম্যাচে তিনি রেকর্ড ভেঙেছেন।’
বিশ্বকাপ চলাকালীন মেসির সঙ্গে গড়ে ওঠা ব্যক্তিগত সম্পর্কের স্মৃতিচারণা করে এএফএ প্রধান বলেন, ‘প্রতিটি ম্যাচের পর আমাদের দেখা হওয়া আর সেই কোলাকুলিগুলোর স্মৃতি আমি সারাজীবন সঙ্গে রাখব। আমাদের মধ্যে যে ভালোবাসা ও সুসম্পর্ক রয়েছে, সেটাই আমার বড় প্রাপ্তি।’

