পারিবারিক জীবন নিয়ে মরিনিওর অকপট স্বীকারোক্তি
Advertisement
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ফুটবল মাঠে জোসে মরিনিওর ব্যস্ততা ও সাফল্যের গল্প অনেকেরই জানা। প্রায় ২৫ বছর ধরে ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর কোচিং করাচ্ছেন পর্তুগিজ এই কোচ। বেনফিকা, পোর্তো, চেলসি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রোমা ও ইন্টার মিলানের মতো ক্লাব ঘুরে এখন দ্বিতীয় মেয়াদে রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্বে আছেন তিনি।
কিন্তু এত ব্যস্ততার মধ্যেও পরিবারকে কতটা সময় দিতে পারেন মরিনিও—এ প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে নিজের পারিবারিক জীবন নিয়ে বেশ খোলামেলা কথা বলেছেন ৬৩ বছর বয়সি এই কোচ।
মরিনিও জানিয়েছেন, পরিবারের সঙ্গে খুব বেশি সময় কাটানোর সুযোগ তার হয় না। তবে আশ্চর্যের বিষয়, তার স্ত্রী ও সন্তানরা তাকে পাশে না পেলেই নাকি নিজেদের সময় বেশি উপভোগ করেন!
শৈশবের বান্ধবী মাতিলদে ‘তামি’ ফারিয়াকে বিয়ে করেছেন মরিনিও। তাদের সম্পর্কের বয়স ৩৫ বছরেরও বেশি। এই দম্পতির দুই সন্তান—৩০ বছর বয়সি মাতিলদে এবং ২৬ বছর বয়সি জোসে মারিও জুনিয়র।
ম্যানচেস্টারে কোচিংয়ের সময় মরিনিও একাই লউরি হোটেলে থাকতেন। অন্যদিকে, সন্তানরা বড় হওয়ার সময় পশ্চিম লন্ডনের পারিবারিক বাড়িতেই থাকত। সম্প্রতি নেটফ্লিক্সের একটি নতুন ডকুমেন্টারিতে নিজের পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
মরিনিও বলেন, ‘মাঝে মাঝে আপনার মনে হতে পারে যে আমার সেখানে থাকা উচিত ছিল, কিন্তু আমি সেখানে নেই। তবে আমি চাই না আপনি ভাবুন যে পরিবার আমার কাছে কম গুরুত্বপূর্ণ কিছু। তারা এমন এক জায়গায় আছে যার সাথে ফুটবলের কোনো তুলনাই হতে পারে না।’
পরিবারের সঙ্গে নিজের অনুপস্থিতি নিয়ে আরও খোলামেলা হয়ে তিনি বলেন, ‘তবে সত্যি বলতে, আমি জানি আমাকে ছাড়া তারা জীবনটা অনেক বেশি উপভোগ করে। এটাই বাস্তবতা। এটাই সত্য। তারা যদি আমাকে নিয়ে কোনো রেস্তোরাঁয় যায়, তবে তা আমাকে ছাড়া যাওয়ার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন অনুভূতি দেয়।’
কোচ হিসেবে নিজের দীর্ঘ সাফল্যের পেছনে স্ত্রী তামির অবদানও স্বীকার করেন মরিনিও। তিনি বলেন, ‘আমি যতটা সম্ভব তাদের সুরক্ষিত রাখতে চেষ্টা করি। কিন্তু অবশ্যই আমি অনেকবার ব্যর্থ হয়েছি। এটা সহজ নয়।’
স্ত্রীর প্রশংসা করে মরিনিও আরও বলেন, ‘তামি একজন অসাধারণ মা। তারা বোঝে যে আমি ফুটবলে যা, তা আমার জীবনের অংশ। তাদেরকে এটা বুঝতে হবে। আপনারা আমাকে নিজেকে নিয়ে কথা বলতে জোর করবেন, কিন্তু আমি এটা চাই না।’
ফুটবল ও ব্যক্তিগত জীবনের সীমারেখা নিয়েও নিজের দর্শন তুলে ধরেছেন মরিনিও। তার ভাষায়, ‘আমি মনে করি আপনার খুশি, কষ্ট এবং সমস্যাগুলো অনুশীলন মাঠেই ছেড়ে আসবেন। হয়ত এটা বিষয়গুলোকে দেখার একটি সেকেলে ব্যাপার, কিন্তু আমি এমনই। আমি বদলাতে চাই না, অনেক দেরি হয়ে গেছে।’
মরিনিওর কথায় স্পষ্ট, ফুটবল তার জীবনের বড় একটি অংশ হলেও পরিবার তার কাছে আলাদা এক জগত। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের ব্যস্ততার কারণে পরিবার থেকে দূরে থাকতে হলেও নিজের এই জীবনযাপন নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি বেশ বাস্তববাদী।

