Logo
Logo
×
   

খেলা

নারী অ্যাথলেট পুরুষ প্রমাণিত, আজীবন নিষেধাজ্ঞা

Icon

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম

নারী অ্যাথলেট পুরুষ প্রমাণিত, আজীবন নিষেধাজ্ঞা

জাতীয় অ্যাথলেটিক্সে জান্নাত বেগম ও কবিতা রায়ের লিঙ্গ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন বিষয়টি সমাধানের জন্য মেডিকেলের কাছে পাঠায়।

বাংলাদেশ মেডিকেল দীর্ঘ এক বছর পরীক্ষা নিরীক্ষার পর চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। সেই প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে আজ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন নির্বাহী কমিটির সভায় দুই অ্যাথলেটের পদক বাতিল করে এবং নারী বিভাগে খেলার নিষেধাজ্ঞা দেয়।

বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের আওতাধীন রেজিস্টার্ড অ্যাথলেট জান্নাত বেগম (বাংলাদেশ সেনাবাহিনী) এবং কবিতা রায় (বাংলাদেশ নৌবাহিনী) এর লিঙ্গ নির্ধারণ বিষয়ে স্ব-স্ব সংস্থার অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার অনুরোধ জানায়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর একটি ৫ (পাঁচ) সদস্য বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড গঠন করে অ্যাথলেটদের শারীরিক পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু করে। যা ২০২৬ সালের ১১ মে শেষ হয়। গত ১৬ মে তারিখে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন ফেডারেশনের নিকট হস্তান্তরের মাধ্যমে মতামত প্রকাশ করে।

মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী অ্যাথলেট জান্নাত বেগম (বয়স: ২৮ বছর) এবং কবিতা রায় (বয়স: ১৯ বছর) এর হরমোন ও শারীরিক পরীক্ষায় 46, XY DSD (Differences of Sex Development) ধরা পড়েছে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী তাদের পুরুষ হিসেবে চিহ্নিত করে। বিজ্ঞ বোর্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী উভয় অ্যাথলেটের পেনোস্ক্রোটাল হাইপোস্পেডিয়াস (Penoscrotal Hypospadias) রয়েছে এবং উভয় গোনাড (জননগ্রন্থি) ইনগুইনাল ক্যানেলে অবস্থিত।

রক্তে জান্নাত বেগমের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা 19.66 nmol/L, যা ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিক্সের নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমা (2.5 nmol/L) অপেক্ষা প্রায় ৮ গুণ বেশি, কবিতা রায়ের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা 16.50 nmol/L, যা নির্ধারিত সীমা (2.5 nmol/L) অপেক্ষা সাড়ে ৬ গুণেরও বেশি। ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিক্সের বিধিমালা অনুযায়ী নারী বিভাগে অংশগ্রহণের জন্য অ্যাথলেটের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা টানা ২৪ মাস ধরে ২.৫ nmol/L-এর নিচে থাকা বাধ্যতামূলক। উভয় অ্যাথলেটই এই শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন।

অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন আজকের সভায় জান্নাত বেগম ও কবিতা রায় চিকিৎসা শাস্ত্র ও বিশ্ব সংস্থার বিধি অনুযায়ী পুরুষ বিবেচিত হওয়ায় তাদের নারী অ্যাথলেট হিসেবে প্রতিযোগিতা থেকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করেছে। জান্নাত বেগমের জ্যাভলিন থ্রো ও ডিসকাস থ্রো ইভেন্টে অর্জিত ২টি নতুন জাতীয় রেকর্ডসহ ৮টি স্বর্ণ, ১টি রৌপ্য ও ২টি ব্রোঞ্জ পদক এবং কবিতা রায়ের ১০০ মিটার, ২০০ মিটার ও ৪×১০০ মিটার ইভেন্টে অর্জিত ১টি স্বর্ণ, ১টি রৌপ্য ও ২টি ব্রোঞ্জ পদক বাতিল করেছে। উক্ত ইভেন্টগুলোর পদকসমূহ তালিকায় পরবর্তী স্থানে থাকা অ্যাথলেটদের মাঝে আইনানুযায়ী পুনঃবণ্টন হবে।

বাংলাদেশে এমন ঘটনা এর আগে কখনো ঘটেনি। বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন ক্রীড়াঙ্গনে বিশ্ব অ্যাথলেটিক্সের সঠিক নিয়ম-নীতি অনুসরণ, স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। 

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .