Logo
Logo
×
   

Advertisement

খেলা

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ

অংশগ্রহণের গৌরব, পদকের আক্ষেপ

Advertisement

মোজাম্মেল হক চঞ্চল

মোজাম্মেল হক চঞ্চল

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১১:১৩ পিএম

অংশগ্রহণের গৌরব, পদকের আক্ষেপ

Advertisement

এশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া মঞ্চ। অলিম্পিকের পর মহাদেশের সবচেয়ে মর্যাদার আসর। চার বছর অন্তর যখন এশিয়ান গেমসের পতাকা ওঠে, তখন তার নিচে দাঁড়ায় এশিয়ার ক্রীড়াশক্তিগুলো।সেখানে বাংলাদেশের গল্পটা একটু অন্য রকম। অংশগ্রহণ আছে, লড়াই আছে, কখনও উজ্জ্বল সাফল্যও এসেছে। কিন্তু ধারাবাহিক পদকের ইতিহাস এখনও লেখা হয়নি।

১৯৭৮। ব্যাংকক। স্বাধীন বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য নতুন এক দরজা খুলেছিল। সেই প্রথম এশিয়ান গেমসে নাম লেখায় বাংলাদেশ। পদক আসেনি। কিন্তু এসেছিল একটি পরিচয়, এশিয়ার ক্রীড়া মানচিত্রে বাংলাদেশের উপস্থিতি। এরপর ১৯৮২, ১৯৮৬, ১৯৯০ থেকে এক আসর পেরিয়ে আর এক আসরে উঠেছে বাংলাদেশের পতাকা।

প্রথম পদকের অপেক্ষা অবশ্য শেষ হতে আরও আট বছর। ১৯৮৬ সালের সিউল। বক্সিং রিংয়ে নেমেছিলেন মোশাররফ হোসেন। লাইট হেভিওয়েট বিভাগে তাঁর ব্রোঞ্জই এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রথম পদক। সেই একটি ব্রোঞ্জ যেন দীর্ঘ অপেক্ষার দরজা খুলে দিয়েছিল।

তারপর বাংলাদেশের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদকের ঠিকানা হয়ে উঠল কাবাডি। ১৯৯০ বেইজিংয়ে রুপা, ১৯৯৪ হিরোশিমায় আবার রুপা, ১৯৯৮ ব্যাংককে ব্রোঞ্জ, ২০০২ বুসানে রুপা এবং ২০০৬ দোহায় ব্রোঞ্জ। একের পর এক আসরে কাবাডিই টেনে নিয়ে চলল বাংলাদেশের পদকের ঝুলি।

২০১০ গুয়াংজু। বাংলাদেশের এশিয়ান গেমস ইতিহাসের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায়গুলোর একটি। ক্রিকেটে পুরুষ দল জিতল স্বর্ণ। সেটিই এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের একমাত্র স্বর্ণ । একই আসরে নারী ক্রিকেটে রুপা এবং নারী কাবাডিতে ব্রোঞ্জ। প্রথমবার এক আসরে একাধিক পদক। চার বছর পর ইনচনেও এল তিন পদক। পুরুষ ও নারী ক্রিকেটে রুপা এবং নারী কাবাডিতে ব্রোঞ্জ।

তারপর আলোটা একটু একটু করে ম্লান। ২০১৮ জাকার্তা-পালেমবাংয়ে বাংলাদেশ কোনও পদকই পেল না। কাবাডিতে পঞ্চম, হকিতে ষষ্ঠ। ২০২২ হাংঝৌয়ে আবার ক্রিকেটের হাত ধরে এল দুটি ব্রোঞ্জ। সব মিলিয়ে এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের পদক ১২টি। একটি স্বর্ণ, পাঁচটি রুপা এবং ছয়টি ব্রোঞ্জ। এর মধ্যে ১১টিই এসেছে কাবাডি ও ক্রিকেট থেকে। অন্যটি সেই ১৯৮৬ সালের বক্সিং ব্রোঞ্জ।

তাহলে এত বছর পরও পদকের পরিধি কেন বাড়ল না। উত্তর খুঁজতে গেলে শুধু খেলোয়াড়ের দিকে তাকালে হবে না। দেখতে হবে প্রস্তুতি, কোচ, নির্বাচন, অর্থায়ন এবং ক্রীড়া প্রশাসনের দিকেও।

আইচি নাগোয়া এশিয়ান গেমস সামনে। ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর। ১৬ দিনের এই আসরে ৪৫ দেশ ও অঞ্চলের ১১ হাজারের বেশি ক্রীড়াবিদ অংশ নেবেন। ৪৩টি খেলায় ৭১টি ডিসিপ্লিন ও ৪৬৯টি ইভেন্ট। বাংলাদেশ এবার ২২টি ডিসিপ্লিনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

প্রস্তুতির পাশাপাশি আবারও সামনে এসেছে পুরনো প্রশ্ন। কারা যাচ্ছেন, কেন যাচ্ছেন এবং কী যোগ্যতায় যাচ্ছেন। গত চারটি আন্তর্জাতিক গেমসে বাংলাদেশের ২৪৮ সদস্যের প্রতিনিধিদলে খেলোয়াড় ছিলেন ১৪২ জন। কোচ ১৭, ফিজিও ও টিম ডাক্তার পাঁচ। আর কর্মকর্তা ৮৪।

এবারও কর্মকর্তা নির্বাচন নিয়ে তৈরি হয়েছে টানাপোড়েন। নতুন কমিটি, পুরনো তালিকা, নিউ এন্ট্রি। সব মিলিয়ে বিওএ এবং ফেডারেশনগুলির মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। কয়েকটি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদককে দলের কোচ হিসেবে পাঠানোর প্রশ্নও উঠেছে।

এই জায়গাতেই ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের প্রশ্ন, ‘সারা বছর যে কোচ খেলোয়াড়দের প্রস্তুত করেন, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় গিয়ে তাঁর জায়গা কেন কোনও কর্মকর্তা নেবেন। ভবিষ্যতে এই সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি তিনি চান না।’

বাংলাদেশ কি শুধু এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে যায়, নাকি সত্যিই পদকের জন্য দল তৈরি করে। চার দশকের বেশি সময় ধরে এশিয়ার মঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা উঠছে। খেলোয়াড় বদলেছেন, কর্মকর্তা বদলেছেন, সরকার বদলেছে, ক্রীড়া প্রশাসনের কাঠামো বদলেছে। বদলায়নি শুধু একটি অপেক্ষা। আরও একটি স্বর্ণের জন্য অপেক্ষা।

আর সেই স্বর্নের পথে কেবল প্রতিভা যথেষ্ট নয়। দরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, যোগ্য কোচ, বিজ্ঞানভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং স্বচ্ছ নির্বাচন।

একটি স্বর্ণ থেকে আরও অনেক স্বর্ণের স্বপ্ন। এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের পরের অধ্যায় কি এবার লেখা হবে?

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম