Logo
Logo
×
   

খেলা

জাতীয় দলের অধিনায়ক হয়েও শুনতে হতো ‘ক্রিকেট ভাত দেবে না’

Icon

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম

জাতীয় দলের অধিনায়ক হয়েও শুনতে হতো ‘ক্রিকেট ভাত দেবে না’

বাংলাদেশের প্রথম টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক শাহরিয়ার নাফীস। ক্রিকেট থেকে অবসরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগের দায়িত্ব পালন করছেন।

জাতীয় দলের অধিনায়ক হওয়ার পরও শাহরিয়ার নাফীকে তার বাবা বলেছিলেন, ‘ক্রিকেট শেষ পর্যন্ত তোমাকে ভাত দেবে না’।

সম্প্রতি ক্রিকেটের পাশাপাশি পড়ালেখার গুরুত্ব বোঝাতে বই লিখছেন নাফীস। শনিবার ‘প্লে, স্টাডি, উইন দ্য রেস’ নামের বইটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে নিজের খেলোয়াড়ী জীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরেন তিনি।

বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে নিজের শৈশবের কথা বলতে গিয়ে নাফীস জানান, ক্রিকেট খেললেও পড়াশোনার বিষয়ে তার পরিবার কখনো ছাড় দেয়নি। নাফীস বলেন, ‘আমি যখন একদম ছোট, বাসায় আব্বা-আম্মু প্রচণ্ড চাপ দিতেন। অনেক সময় স্যাররা বলতেন, ‘‘তুই ক্রিকেট খেলে কী করবি, সারাদিন পড়াশোনা কর।’’ বাসায়ও সব সময় এই চাপটা ছিল।’

নাফীস আরও বলেন, ‘আমি যখন জাতীয় দলের ক্যাপ্টেন হয়েছিলাম, তখনো আমার আব্বার কথা কানে ভাসত। আব্বা একটা কথা বলতেন, “ক্রিকেট শেষ পর্যন্ত ভাত দেবে না।” তখন খুব বিরক্ত লাগত। আমি জাতীয় দলের ক্যাপ্টেন্সি করছি, আর আব্বা বলছে ক্রিকেট ভাত দেবে না! কিন্তু ওই কথার মর্মটা আমি এখন বুঝি।’

জাতীয় দলের সাবেক এই তারকা ক্রিকেটার বলেন, ‘আমাদের বইয়ের মূল ভাবনা ছিল এমন কিছু মানুষের গল্প তুলে ধরা, যারা অনেক প্রমিজিং ক্রিকেটার বা স্পোর্টস পারসন ছিলেন, কিন্তু খেলাটায় শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ জায়গায় যেতে পারেননি। তাদের জীবনে পড়াশোনা কতটা কাজে এসেছে, সেটাই তারা সুন্দর করে ব্যাখ্যা করেছেন।’

নাফীস বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে বাস করি, বাংলাদেশের বাস্তবতা আমাদের মেনে নিতে হবে। এখানে খেলাধুলা বলেন, নাটক-অভিনয় বলেন এই সেক্টরগুলো এখনো এত বড় ইন্ডাস্ট্রি হয়ে ওঠেনি যে পরে আপনার কোনো ব্যাকআপ না থাকলেও চলবে। এ জন্য আমার কাছে পড়াশোনাটা খুবই জরুরি।’

অভিভাবকদেরও সন্তানদের খেলাধুলার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক এই অধিনায়ক। তবে একই সঙ্গে তরুণ খেলোয়াড়দের পড়াশোনার প্রতিও মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ তার। ‘আমি বাচ্চাদের বাবা-মাকে বলি, আপনার বাচ্চাকে খেলতে দিন। কিন্তু বাচ্চাদের আবার বলি, তুমি যতই খেলো না কেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যদি পড়াশোনা না করো, তোমার জীবন কঠিন হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমার বাবা-মার সঙ্গে সব সময় একটা বার্গেইন ছিল। তারা বলতেন, পড়াশোনা ও রেজাল্ট ভালো না হলে খেলতে দেবেন না। আর আমার ছিল, আমাকে খেলতেই হবে, তাই কিছুটা হলেও পড়াশোনা করতে হবে। এই সমঝোতাটা সব সময় ছিল।’

ত্রিকেট বোর্ডের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘সবাই বলে পড়তে হবে, পড়তে হবে। আবার শিক্ষকরা বলেন খেলতে হবে। আসলে দুটোই প্রয়োজন। বাবা-মাকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে বাচ্চাদের খেলতে দেওয়ার জন্য। আবার খেলোয়াড়দেরও বলতে হবে, পড়াশোনা করলে পারফরম্যান্সও উন্নত হবে। পড়াশোনা মানেই মাস্টার্সে ফার্স্ট ক্লাস বা ডক্টরেট ডিগ্রি নয়, আপনার পড়ার অভ্যাস থাকতে হবে।’

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম