ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি প্লাতিনির
Advertisement
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি করেছেন ফরাসি ফুটবলের কিংবদন্তি ও উয়েফার সাবেক সভাপতি মিচেল প্লাতিনি। বিশ্ব ফুটবলে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
বিশ্বকাপসহ বিভিন্ন ফুটবল প্রতিযোগিতার অংশীদারিত্ব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিলেন ইনফান্তিনো। উয়েফাসহ একাধিক ফুটবল সংস্থার তীব্র বিরোধিতার মুখে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসেন তিনি। তবে এর মধ্যেই ৫৬ বছর বয়সি সুইস-ইতালিয়ান প্রশাসককে ঘিরে সমালোচনা আরও জোরালো হয়েছে। সর্বশেষ বিশ্বকাপ চলাকালেও বেশ কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত তার প্রতি সমর্থন কমিয়েছে।
ইনফান্তিনোর সমালোচনা করে ক্যানাল-কে প্লাতিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক বিষয় এক জিনিস, কিন্তু ইনফান্তিনো ব্যর্থ হয়েছেন কারণ তিনি ফুটবলের নিয়মের একজন রক্ষক এবং সেগুলোকে সম্মান করেননি।’
বিশ্বকাপের ম্যাচে হাইড্রেশন ব্রেক এবং ফাইনালে ৩০ মিনিটের হাফটাইম বিরতিরও সমালোচনা করেছেন প্লাতিনি। তার ভাষায়, ‘বিজ্ঞাপন বিরতি কোনো নিয়ম নয়, ফাইনালে ৩০ মিনিটের হাফটাইম বিরতিও নিয়মের মধ্যে পড়ে না। আর সেই লাল কার্ড, সেটা ছিল আরও বাজে বিষয়।’
ইনফান্তিনোর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে প্লাতিনি আরও বলেন, ‘তিনি রক্ষক (নিয়মের), যেগুলোকে তিনি পাত্তা দেন না, তাকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে।’
শুধু নিয়ম না মানার অভিযোগই নয়, ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অর্থ ও ক্ষমতার প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণের অভিযোগও তুলেছেন প্লাতিনি। তিনি বলেন, ‘ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানগুলো এই সমস্যার সমাধান করে তাকে নিচে নামাতে পারবে না। উয়েফা যদি তার বিদায় চায়, তাহলে সেটা করতে হবে আদালতের মাধ্যমে। আমি সবসময় জানতাম তিনি অর্থ ও ক্ষমতা ভালোবাসতেন।’
২০১৫ সালে দুর্নীতির অভিযোগে ফিফার তৎকালীন সভাপতি সেপ ব্লাটারের কাছ থেকে ২০ লাখ ডলার অবৈধভাবে নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত হন প্লাতিনি। সে সময় তিনি উয়েফা সভাপতি ছিলেন এবং ব্লাটারের উত্তরসূরি হিসেবে ফিফা সভাপতি হওয়ার দৌড়ে ছিলেন। অভিযোগ ওঠার পর তিনি পদত্যাগ করেন। পরে ২০২৫ সালে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন ফরাসি এই কিংবদন্তি।
প্লাতিনির মতে, তার সরে দাঁড়ানোর সুযোগ কাজে লাগিয়েই ২০১৬ সালে ফিফার সভাপতি নির্বাচিত হন ইনফান্তিনো। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তিনি আমাকে নামাননি, বরং লাভবান হয়েছেন। কিন্তু এখন তাকে নিয়ে সারা বিশ্বে অনেক তদন্ত চলছে। গুঞ্জন রয়েছে কীভাবে তিনি নির্দিষ্ট বিষয়ে এতকিছু জানতেন। দেখা যাক এরপর কী হয়।’

