Logo
Logo
×

Advertisement

খেলা

এশিয়ান গেমসে অ্যাথলেটের চেয়ে ‘অ্যাটাচি’ বেশি!

Advertisement

মোজাম্মেল হক চঞ্চল

মোজাম্মেল হক চঞ্চল

প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম

এশিয়ান গেমসে অ্যাথলেটের চেয়ে ‘অ্যাটাচি’ বেশি!

Advertisement

এশিয়ান গেমস ক্রীড়াবিদদের স্বপ্নপূরণের মঞ্চ। দেশের পতাকা কাঁধে নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় লড়াই করবেন অ্যাথলেটরা। পদকের জন্য প্রস্তুতি, ঘাম আর অনুশীলনের শেষ নেই তাদের। কিন্তু বাংলাদেশের এশিয়ান গেমসের দল গঠনের তালিকা সামনে আসতেই ক্রীড়াঙ্গনে উঠছে অন্য প্রশ্ন। অ্যাথলেটদের প্রয়োজনের তুলনায় কর্মকর্তাদের বিদেশযাত্রার আগ্রহই কি বেশি?

কারও নাম দলনেতা, কারও কোচ, কেউ ডেলিগেট, কেউ ‘সেফ দ্য মিশন’। আবার একই কর্মকর্তাকে একাধিক আন্তর্জাতিক আসরে ঘুরেফিরে দেখা যাচ্ছে। কোথাও একজন অ্যাথলেটের সঙ্গে যাচ্ছেন দুজন কর্মকর্তা। অথচ অন্য ডিসিপ্লিনে দুজন অ্যাথলেটের জন্যও একজন কোচের বেশি বরাদ্দ নেই, নেই কোনও ম্যানেজার। এমন বৈপরীত্যই প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) দল নির্বাচন ও কর্মকর্তা মনোনয়নের নীতি নিয়ে।

বিওএ ২৭৪ জনের তালিকাসম্বলিত চিঠি (স্মারক নং-বিওএ-১২০৭/২০২৬/০১৫৫, তারিখ-২৭/০৮/২০২৬) পাঠিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে সরকারি অর্ডার (জিও) জারি করার জন্য। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সোমবার যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে জিও জারির জন্য চিঠি (স্মারক নং-৩৪.০৩.০০০০.০০০.০০৪.৫৫.০০০৪.২৩.১০৩৫) দিয়েছে।

বিওএর সহসভাপতি মেজর (অব.) ইমরোজকে ঘিরে ক্রীড়াঙ্গনে বেশ আলোচনা। চীনে বিচ গেমসের ভারপ্রাপ্ত সেফ দ্য মিশন, গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসের সেফ দ্য মিশনদের সভা, গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে জেনারেল টিম ম্যানেজার, গত সপ্তাহে পাকিস্তানে দক্ষিণ এশিয়ান অলিম্পিক কমিটির সভায় যোগদানের পর এবার এশিয়ান গেমসের ‘সেফ দ্য মিশন’ হিসেবে জাপান যাচ্ছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক প্রতিটি সফরে একই পরিচিত মুখের উপস্থিতি নিয়ে তাই প্রশ্ন উঠছে। কোন যোগ্যতা বা প্রয়োজনের ভিত্তিতে কর্মকর্তাদের নির্বাচন করা হচ্ছে?

গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে টিম অ্যাটাচি হিসেবে সফর করা বিওএর মহাপরিচালক শেফাউল কবির জাপানেও যাচ্ছেন টিম অ্যাটাচি হয়ে। দলের সঙ্গে গ্লাসগো গেলেও দলের সঙ্গে দেশে ফেরেননি তিনি। কেন ফেরেননি, কোথায় অবস্থান করেছেন এবং তাঁর সফর ও অতিরিক্ত অবস্থানের ব্যয় কীভাবে বহন করা হয়েছে, সে সব বিষয়েও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা নেই। বিওএতে অল্প সময়ে যোগ দিয়ে ইতিমধ্যেই শেফাউল কবির ক্রীড়াঙ্গনের ‘ইবনে বতুতা’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।

জিমন্যাস্টিকসে আরও অদ্ভুত চিত্র। একজন জিমন্যাস্টের সঙ্গে যাচ্ছেন দলনেতা হাবিবুর রহমান ও কোচ আবদুল্লাহ আল মাসুম। হাবিবুর রহমান আগেও গ্লাসগো কমনওয়েলথ সফরে ছিলেন। সেখানে তিনি দলকে রেখে নিজে ঘোরাফেরা করেছেন। একই কর্মকর্তার পুনরায় বিদেশ সফরে যাওয়ার বিষয়টি তাই নতুন করে আলোচনায় এসেছে। প্রশ্ন উঠছে, একজন অ্যাথলেটের সঙ্গে দুজন কর্মকর্তা পাঠানো কতটা জরুরি?

একই দলের কুস্তি ডিসিপ্লিনে আবার সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র। দুজন কুস্তিগিরের জন্য বরাদ্দ মাত্র একজন কোচ। কোনও ম্যানেজার নেই। একজন কোচকেই দুই অ্যাথলেটের প্রশিক্ষণ, প্রতিযোগিতা চলাকালীন ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করতে হবে।

পুরুষ ও মহিলা বিচ ভলিবলেও একই ধরনের চিত্র। দুই দলের জন্য দেওয়া হয়েছে দুজন কোচ। কোথাও একজন অ্যাথলেটের সঙ্গে দুজন কর্মকর্তা, আবার কোথাও একাধিক অ্যাথলেটের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনাগত লোকবলও নেই। ফলে কর্মকর্তা বণ্টনের এই বৈপরীত্য নিয়েই প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সহকারী পরিচালক শাহরিয়ার সুলতানা সুচীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর চাকরি কোচের। তিনি নিয়মিত আন্তর্জাতিক আসরে জাজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এবার এশিয়ান গেমসের তালিকাতেও তাঁর নাম রয়েছে।

একজন সরকারি কর্মকর্তার মূল দায়িত্ব কী এবং কোন প্রক্রিয়ায় তিনি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পাচ্ছেন, তা নিয়েও স্পষ্টতা প্রয়োজন। কোচের পদে থাকা একজন কর্মকর্তা যদি বারবার জাজ হিসেবে আন্তর্জাতিক সফরে যান, তাহলে তাঁর মনোনয়ন ও দায়িত্ব নির্ধারণের প্রক্রিয়াটি কী, সেই প্রশ্নও উঠছে।

বিওএর ডেলিগেট হিসেবে রয়েছেন মাহবুবুর রহমান শাহীন। তিনিও গ্লাসগো দলের সঙ্গে ছিলেন। এ ছাড়া এশিয়ান গেমসের তালিকায় রয়েছেন ক্রীড়া সংগঠনের আরও কয়েকজন পরিচিত মুখ। বক্সিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এম এ কুদ্দুস, ভলিবল ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি ফারুক হাসান, রাগবির সাবেক সভাপতি আব্দুল্লাহ আল জাহির স্বপন, মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদিকা ফিরোজা করিম নেলী এবং আর্চারি ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ রয়েছেন এই তালিকায়।

সাবেক কর্মকর্তাদের আন্তর্জাতিক আসরে থাকার প্রয়োজনীয়তা থাকতেই পারে। কিন্তু প্রশ্ন হল, প্রত্যেকের দায়িত্বটা কী? ডেলিগেট হিসেবে গেলে তাঁর সুনির্দিষ্ট কাজ কী, সেই দায়িত্বের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রীড়া দলের প্রয়োজনের সম্পর্ক কোথায়? এই তথ্য প্রকাশ করা হলে বিতর্কের অবকাশ অনেকটাই কমে।

সাঁতারেও রয়েছে একই প্রশ্ন। দুজন সাঁতারুর সঙ্গে যাচ্ছেন দলনেতা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক স্বজল এবং কোচ নাজিম উদ্দিন। দুজন অ্যাথলেটের সঙ্গে একজন দলনেতা ও একজন কোচ। এটি সাংগঠনিকভাবে প্রয়োজনীয় হতে পারে। কিন্তু যখন একই প্রতিনিধিদলের অন্য ডিসিপ্লিনে জনবল সংকট রয়েছে, তখন সামগ্রিকভাবে কর্মকর্তা বণ্টনের যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।

এশিয়ান গেমসে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন অ্যাথলেটরা। তাঁদের প্রস্তুতি, প্রশিক্ষণ, প্রতিযোগিতাকালীন সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনাই হওয়া উচিত সবার আগে। সেখানে কোথাও প্রয়োজনের তুলনায় বেশি কর্মকর্তা, আবার কোথাও প্রয়োজনীয় লোকবলের ঘাটতি—এই দুই চিত্র পাশাপাশি থাকলে প্রশ্ন উঠবেই।

বিওএর উচিত এ নিয়ে ধোঁয়াশা না রেখে প্রতিনিধিদলের পূর্ণাঙ্গ তালিকা, প্রত্যেক কর্মকর্তার দায়িত্ব, মনোনয়নের কারণ এবং সফর ব্যয়ের কাঠামো প্রকাশ করা। অ্যাথলেটরা যখন দেশের হয়ে পদকের জন্য লড়বেন, তখন তাঁদের পাশে থাকা প্রতিটি কর্মকর্তারও থাকতে হবে স্পষ্ট দায়িত্ব ও জবাবদিহি।

বিদেশ সফর নয়, অগ্রাধিকার হোক অ্যাথলেট। পদ নয়, প্রয়োজন হোক মনোনয়নের ভিত্তি। আর গোপনীয়তা নয়, স্বচ্ছতাই হোক এশিয়ান গেমসের দল গঠনের প্রথম শর্ত।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

কেপটাউনে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন অস্ট্রেলিয়ার

কেপটাউনে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন অস্ট্রেলিয়ার

মাইলফলকের দ্বারপ্রান্তে মুশফিক

মাইলফলকের দ্বারপ্রান্তে মুশফিক

টেস্ট ক্রিকেটের সাম্প্রতিক উন্নতি ধরে রাখাই লক্ষ্য

টেস্ট ক্রিকেটের সাম্প্রতিক উন্নতি ধরে রাখাই লক্ষ্য

নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে পর্তুগাল দলে ফিরছেন রোনালদো

নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে পর্তুগাল দলে ফিরছেন রোনালদো

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম