‘ইমরান খানের সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে, তা বর্বরতার শামিল’
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরানের খানের মুক্তি চেয়ে সরব ক্রিকেট দুনিয়া।এবার সেই তালিকায় নাম লেখালেন বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেটার সৈয়দ আশরাফুল হক।
এক দীর্ঘ বিবৃতিতে ইমরানের মুক্তি চেয়ে সৈয়দ আশরাফ লিখেন, ‘ইমরান খান বিশ্বজুড়েই অত্যন্ত সম্মানিত একজন ব্যক্তি। পাকিস্তানে যে দুর্নীতি চলছে, তা থেকে দেশকে মুক্ত করাই ছিল রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার তার একমাত্র উদ্দেশ্য। দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য জনগণের কাছ থেকে তিনি স্পষ্ট ম্যান্ডেট পেয়েছেন। তাকে অমানবিক পরিবেশে কারাগারে আটকে রাখা- বিশ্ববাসী তো নয়ই, কোনো সভ্য দেশই এমনটা চাইবে না। মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি সম্পূর্ণ বেআইনি এবং সংবিধানবিরোধী। ইমরান খানের সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে, তা বর্বরতার শামিল।’
‘১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে আমি ইমরান খানকে চিনি। সে সময় সে ঢাকায় লাহোর অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে খেলতে এসেছিল। তখন সে ছিল দুর্দান্ত এক তরুণ। খুব জোরে বল করত। তবে আমার মনে আছে, আমাদের বিপক্ষে সে শেষ পর্যন্ত সেঞ্চুরি করেছিল। সেই ম্যাচেই আমাদের বন্ধুত্ব হয় এবং এরপর থেকে সবসময়ই আমাদের যোগাযোগ ছিল।’
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক এই সাধারণ সম্পাদক আরও লিখেন, ‘স্বাধীনতার পর ইংল্যান্ডে আমরা দুজনই যখন পড়াশোনা করতাম, তখন প্রায়ই দেখা হতো। আমি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কিবল কলেজে তার সঙ্গে দেখা করতে যেতাম। সেখানে সে মাঝেমধ্যে হকি খেলত। ভারতেও আমি তার সঙ্গে দেখা করেছি, যখন পাকিস্তান সেখানে টেস্ট সিরিজ খেলতে যেত। বিশ্বের আরও বিভিন্ন জায়গায় আমাদের দেখা হয়েছে। সে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পরও আমাদের বন্ধুত্ব অটুট ছিল।’
আশরাফুল আরও লিখেছেন, ‘পরবর্তী বছরগুলোতে যখনই তার সঙ্গে দেখা হতো, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে আমি তার জীবন নিয়ে শঙ্কিত থাকতাম। কিন্তু সে একজন ধর্মভীরু মানুষ। আমার মনে আছে, পাকিস্তান থেকে প্রথম রাজনীতিবিদ হিসেবে ইমরানই জোর দিয়ে বলেছিল, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের করা সব নৃশংসতার জন্য তাদের ক্ষমা চাওয়া উচিৎ।
এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সাবেক এই প্রধান নির্বাহী আরও লিখেছেন, ‘ইমরান চাইলে খুব স্বাচ্ছন্দ্যের জীবন কাটাতে পারত, কিন্তু নিজের নীতির কারণে সে সবকিছু ছেড়ে দিয়েছিল। সে পাকিস্তানের জন্য ভালো কিছু করতে চেয়েছিল। অথচ তার সঙ্গে যেভাবে আচরণ করা হচ্ছে, তা অমানবিক। পুরো বিশ্বের প্রতিক্রিয়ার দিকে তাকান। সবাই বলছে, এভাবে চলা ঠিক নয়। আমার মনে হয়, আমাদের সবার উচিত ঐক্যবদ্ধ হয়ে তার জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তি বা মুক্তির ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা।’
