চ্যাম্পিয়ন্স লিগ
তোরেসের হ্যাটট্রিকে পিএসজির উড়ন্ত শুরু
Advertisement
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৩ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ফরাসি লিগে সময়টা মোটেও ভালো যাচ্ছে না ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন পিএসজির। তিন ম্যাচে দুটি ড্র ও এক পরাজয়ে পয়েন্ট টেবিলের ১৩ নম্বরে নেমে গেছে লুইস এনরিকের দল। তবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নামতেই যেন বদলে গেল পিএসজি।
তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষ স্লোভান ব্রাতিস্লাভাকে ৬-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ইউরোপীয় মিশন শুরু করেছে টানা দুইবারের চ্যাম্পিয়নরা।
এই ম্যাচে পিএসজির হয়ে সবচেয়ে বেশি আলো ছড়িয়েছেন বার্সেলোনা থেকে আসা ফেরান তোরেস। মৌসুমের প্রথম ম্যাচেই গোল করা এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড এবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক তুলে নিয়েছেন। তার সঙ্গে জোড়া গোল করেছেন উসমান দেম্বেলে, আর একটি গোল এসেছে ফ্যাবিয়ান রুইজের পা থেকে।
পার্ক দ্য প্রিন্সেসে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে পিএসজি। বল দখলে তাদের আধিপত্য ছিল ৭২ শতাংশ, আর লক্ষ্যে রাখা শট ছিল ১৪টি। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই প্রথম সুযোগ তৈরি করে তারা। ফার্নান্দেজের শট অবশ্য ব্রাতিস্লাভার গোলরক্ষক কর্নারের বিনিময়ে ঠেকিয়ে দেন।
তবে বেশিক্ষণ গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয়নি স্বাগতিকদের। ১৬ মিনিটে নুনো মেন্দেসের জোরালো শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বল পেয়ে বাঁ পায়ের শক্তিশালী শটে জালে পাঠান দেম্বেলে। আট মিনিট পর আবারও গোলের উৎসব। ম্যাঘনেস অ্যাকলিউচের ক্রস ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দেম্বেলের সামনে এলে কাছ থেকে হেড করে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ফরাসি ফরোয়ার্ড।
৩১ মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ান তোরেস। দেম্বেলের ক্রস থেকে বল পেয়ে পিএসজির হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজের প্রথম গোলটি করেন তিনি। এর আগে অবশ্য একটি সুযোগ নষ্ট করেছিলেন এই স্প্যানিশ তারকা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই তোরেস আবারও জালের দেখা পান। অ্যাকলিউচ দুর্দান্ত গতিতে বক্সে ঢুকে কাটব্যাক করলে জায়গা তৈরি করে জোরালো শটে বল জালে পাঠান তিনি। ৫৫ মিনিটে নুনো মেন্দেসের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হলেও তার দুই মিনিট পরই হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তোরেস। দেম্বেলের কর্নার থেকে পাওয়া বলে অদ্ভুত ভঙ্গিতে হাঁটু দিয়ে শট নিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি।
এরপর ম্যাচে কিছুটা অপ্রত্যাশিতভাবেই একটি গোল শোধ করে ব্রাতিস্লাভা। সুলেমান কামারার দুর্দান্ত গোলে ব্যবধান কমে ৫-১। তবে সেটিই ছিল সফরকারীদের একমাত্র সান্ত্বনা।
৬৪ মিনিটে একসঙ্গে তিন খেলোয়াড় বদল করেন এনরিকে। এতে পিএসজির আক্রমণের গতি কিছুটা কমে যায়। তবুও ম্যাচের শেষদিকে আরেকবার গোলের দেখা পায় তারা। ৮৮ মিনিটে প্রতিপক্ষের পা থেকে পাওয়া বল কাজে লাগিয়ে জালে পাঠান ফ্যাবিয়ান রুইজ।
শেষ পর্যন্ত ৬-১ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পিএসজি। ঘরোয়া লিগের হতাশা পেছনে ফেলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এমন দাপুটে শুরু নিঃসন্দেহে এনরিকের দলের জন্য বড় আত্মবিশ্বাসের কারণ হয়ে থাকবে।

