রাজসিংহাসনের প্রস্তাব ফিরিয়ে ফুটবলকেই বেছে নিলেন উগান্ডার গোলকিপার
Advertisement
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজা হওয়ার সুযোগ পেয়েও রাজমুকুটের বদলে ফুটবল মাঠকেই বেছে নিয়েছেন জর্জ ডেসমন্ড কামুরাসি। উগান্ডার ঐতিহ্যবাহী তোড়ো রাজ্যের সিংহাসনে বসার প্রস্তাব পেয়েছিলেন ইংল্যান্ডের নবম স্তরের ফুটবল ক্লাব এসই ডনসের ৩৬ বছর বয়সি এই গোলকিপার ও অধিনায়ক। তবে রাজকীয় দায়িত্বের চেয়ে নিজের বর্তমান জীবন ও ফুটবল ক্যারিয়ারকেই প্রাধান্য দিয়েছেন তিনি।
তোড়ো রাজ্যের রাজা ওয়ো নাইমবা কাবাম্বা ইগুরু রুকিদি চতুর্থ গত ২৭ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাত্র ৩৪ বছর বয়সে ক্যানসারে মারা যান। ১৯৯৫ সালে মাত্র তিন বছর বয়সে সিংহাসনে বসে বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সি জীবিত রাজা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন তিনি। তার মৃত্যুর পর নতুন উত্তরাধিকারী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করে রয়্যাল সাকসেশন কমিটি।
কমিটির প্রথম পছন্দ ছিলেন প্রয়াত রাজার চাচাতো ভাই কামুরাসি। কিন্তু রয়টার্স ও উগান্ডার সংবাদমাধ্যম পালস উগান্ডার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। রয়্যাল সাকসেশন কমিটির সদস্য ফাদার ড. চার্লস ওয়োর ভাষ্য অনুযায়ী, কামুরাসি জানান, বর্তমান জীবনের প্রতি তার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়বদ্ধতা রয়েছে। তাই এই মুহূর্তে রাজা হওয়ার মতো বড় দায়িত্ব নেওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়।
কামুরাসি সরে দাঁড়ানোর পর নতুন করে উত্তরাধিকারী খোঁজার প্রক্রিয়া শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত সাবেক টেলিভিশন সংবাদ উপস্থাপক প্রিন্স এডওয়ার্ড রুকিদি কিজানাঙ্গোমাকে তোড়ো রাজ্যের নতুন রাজা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
৬ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতার কামুরাসি ইংল্যান্ডের নন-লিগ ফুটবলে ‘বিগ জি’ নামে পরিচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ জনপ্রিয় এসই ডনসেরও তিনি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। সিংহাসনের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার পর এখন তার পুরো মনোযোগ আবারও ফুটবলেই।
এবার নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এফএ কাপে খেলছে এসই ডনস। গত শনিবার এরিথ টাউনকে ২-০ গোলে হারিয়ে তারা টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় বাছাইপর্বে জায়গা করে নিয়েছে। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর চিচেস্টার সিটির বিপক্ষে মাঠে নামবে দলটি। সেই ম্যাচসহ ইংল্যান্ডের ফুটবলেই এখন কামুরাসির সব মনোযোগ।
উল্লেখ্য, উগান্ডায় সাংবিধানিকভাবে নির্বাচিত সংসদ ও প্রেসিডেন্ট-শাসিত সরকারব্যবস্থা চালু রয়েছে। ফলে তোড়ো রাজ্যের রাজার কোনো নির্বাহী বা রাজনৈতিক ক্ষমতা নেই। তবে দেশটির অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী রাজপরিবারের মতো তোড়ো রাজপরিবারও সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যের দিক থেকে উগান্ডায় এখনো অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান।

