Logo
Logo
×
   

Advertisement

খেলা

সাবালেঙ্কার হ্যাটট্রিক আটকে ইউএস ওপেনের রানী রিবাকিনা

Advertisement

Icon

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১১ এএম

সাবালেঙ্কার হ্যাটট্রিক আটকে ইউএস ওপেনের রানী রিবাকিনা

সংগৃহীত

Advertisement

ইউএস ওপেনের ফাইনালে আরিনা সাবালেঙ্কাকে হারালেন এলেনা রিবাকিনা। এই জয়ে সাবালেঙ্কার টানা তৃতীয় শিরোপা জেতা হলো না। ম্যাচের ফল ছিল ৬-৪, ৫-৭, ৬-২। এই জয়ের সঙ্গে রিবাকিনা এখন বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড়ও হয়ে গেলেন। যাকে হারিয়ে তিনি চ্যাম্পিয়ন হলেন, সেই সাবালেঙ্কার জায়গাতেই এখন উঠলেন তিনি।

কাজাখস্তানের রিবাকিনা সেমিফাইনালে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই র‍্যাঙ্কিংয়ে সাবালেঙ্কাকে টপকে যাওয়া নিশ্চিত হয়ে যায়। এবার ফাইনাল জিতে তিনি পেলেন নিজের তৃতীয় গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা। এর আগে তিনি ২০২২ সালে উইম্বলডন জিতেছিলেন। আর এই বছরই জিতেছিলেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেন। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালেও প্রতিপক্ষ ছিলেন এই সাবালেঙ্কাই।

রিবাকিনার চারটি গ্র্যান্ড স্লাম ফাইনালের মধ্যে তিনটিই খেলেছেন সাবালেঙ্কার বিপক্ষে। এর মধ্যে দুটিতে জিতেছেন তিনি। একটিতে হেরেছেন, সেটা ছিল ২০২৩ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেন।

ট্রফি হাতে নিয়ে রিবাকিনা বলেন, ‘এখন আমার মুখে কোনো কথা আসছে না। নিউইয়র্কের প্রেমে আমি দিন দিন আরও বেশি পড়ে যাচ্ছি।’ এর আগে এই টুর্নামেন্টে কখনো চতুর্থ রাউন্ডের বেশি যেতে পারেননি তিনি।

ফ্লাশিং মিডোজে আগের ২০টি ম্যাচে অপরাজিত ছিলেন সাবালেঙ্কা। দ্বিতীয় সেটে তিনি লড়াইয়ে ফেরেন। শেষ গেমে প্রথমবার রিবাকিনার সার্ভিস ভাঙেন তিনি। এতে ম্যাচ চলে যায় তৃতীয় সেটে।

কিন্তু নিজের চেনা রূপে ফিরে রিবাকিনা তৃতীয় সেটে দাপট দেখান। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর হতাশ সাবালেঙ্কা চেয়ারে বসেই র‍্যাকেট আছড়ে ফেলেন। তখন গ্যালারিতে করতালি চলছিল রিবাকিনার জন্য।

সাবালেঙ্কার বয়স ২৮। ২০২২ সালের পর এই প্রথম কোনো গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা ছাড়াই বছর শেষ করলেন তিনি।

মেয়েদের টেনিসে শীর্ষে থাকা দুই খেলোয়াড়ের লড়াই শুরু হয় দাপটের সঙ্গেই। দ্বিতীয় গেমে রিবাকিনা কোনো পয়েন্ট না হারিয়ে সার্ভিস ধরে রাখেন। তৃতীয় গেমে সাবালেঙ্কাকে চাপে ফেলে দেন তিনি। এক দুর্দান্ত ব্যাকহ্যান্ড শটে ম্যাচের প্রথম ব্রেক পয়েন্ট তৈরি করেন রিবাকিনা।

সাবালেঙ্কা প্রথম ব্রেক পয়েন্ট বাঁচান ফোরহ্যান্ডে লাইনের ওপর দিয়ে শট মেরে। পরের পয়েন্টেও ফোরহ্যান্ডে উইনার মারেন তিনি। এরপর রিবাকিনার একটি ডাবল ফল্টে আরেকটি সুযোগ আসে। কিন্তু ভলি উইনার মেরে সেই গেমও ধরে রাখেন সাবালেঙ্কা। প্রথম এসও করেন তিনি এই গেমেই।

তবে দুই গেম পরই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন রিবাকিনা। গভীর গ্রাউন্ডস্ট্রোকে সাবালেঙ্কাকে পেছনে ঠেলে দিতে থাকেন তিনি। চাপে পড়ে ব্রেক পয়েন্টে ডাবল ফল্ট করেন সাবালেঙ্কা। এরপর রাগে বল আকাশে ছুঁড়ে মারেন তিনি। এ জন্য তাকে সতর্ক করা হয়।

রিবাকিনা আরেকটি গেম সহজেই জেতেন। সাবালেঙ্কা একটি ব্রেক পয়েন্ট বাঁচান। তখন স্কোর দাঁড়ায় ৪-৩।

সাত গেম পর্যন্ত একটিও আনফোর্সড এরর করেননি রিবাকিনা। সাবালেঙ্কাকে দেখাচ্ছিল ক্রমশ হতাশ।

৩-৫ পিছিয়ে থেকে সেট বাঁচানোর সার্ভে সাবালেঙ্কা একটি ওভারহেড শট বেসলাইনের অনেক বাইরে মারেন। এরপর নিজেকে সামলে নিয়ে এস আর সার্ভিস উইনারে গেমটি ধরে রাখেন।

তবু রিবাকিনাকে থামানো যায়নি। ম্যাচে নিজের প্রথম ডাবল ফল্ট করেও তিনি ঘাবড়াননি। এক দুর্দান্ত ব্যাকহ্যান্ড উইনারে সেট জেতেন ৬-৪ গেমে। শেষ পয়েন্টে সাবালেঙ্কার শট বাইরে চলে যায়।

দ্বিতীয় সেটও শুরু হয় প্রায় একইভাবে। তৃতীয় গেমে দুটি ব্রেক পয়েন্ট বাঁচান সাবালেঙ্কা। এরপর জোরালো সার্ভে গেমটি ধরে রাখেন তিনি।

রিবাকিনার সার্ভিসে তখনো তেমন কিছু করতে পারছিলেন না সাবালেঙ্কা। তবে নিজের সার্ভিসে ভালো খেলছিলেন তিনি। দুবার কোনো পয়েন্ট না হারিয়ে গেম জিতে ৫-৪ ব্যবধানে এগিয়ে যান।

ম্যাচের প্রথম ব্রেক পয়েন্ট পান সাবালেঙ্কা। সেট শেষ করার সুযোগ ছিল তার সামনে। কিন্তু প্রথমটিতে ফোরহ্যান্ড বাইরে মারেন। দ্বিতীয়টিতে সার্ভিস রিটার্ন বাইরে যায়। এতে সেট ফিরে আসে ৫-৫ ব্যবধানে।

তারপরও আত্মবিশ্বাস বাড়ছিল সাবালেঙ্কার। ৬-৫ গেমে এগিয়ে যান তিনি। এরপর দাপটের সঙ্গে রিবাকিনার সার্ভিস ভেঙে ম্যাচ নিয়ে যান তৃতীয় সেটে। কিন্তু এই স্বস্তি বেশিক্ষণ থাকেনি। শেষ হাসি হাসেন রিবাকিনাই।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম