শেফালির বিশ্বরেকর্ডে এশিয়া কাপ পুনরুদ্ধার ভারতের
Advertisement
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১১ এএম
এশিয়ার মঞ্চে আবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিল ভারত।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
এশিয়ার মঞ্চে আবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিল ভারত। শেফালি ভার্মা ও স্মৃতি মান্ধানার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের পর বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে ২০২৬ নারী এশিয়া কাপের শিরোপা জিতেছে তারা। ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারিয়ে ট্রফি ঘরে তোলে ভারত।
দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১৮৩ রান সংগ্রহ করে ভারত। জবাবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা ১১১ রানে গুটিয়ে যায়।
এ জয়ে টি-টোয়েন্টি নারী এশিয়া কাপে ভারতের শিরোপা সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারটিতে। এর আগে ওয়ানডে সংস্করণের চারটি আসরেও (২০০৪, ২০০৫-০৬, ২০০৬ ও ২০০৮) চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল দলটি।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন ভারতের দুই ওপেনার শেফালি ও স্মৃতি। পাওয়ার প্লেতেই ৫৭ রান তুলে শ্রীলঙ্কার বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করেন তারা। চলতি টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো পাওয়ার প্লেতে ৫০ রানের গণ্ডি পেরোয় ভারত।
দ্রুত রান তোলার ধারাবাহিকতায় মাত্র ২৪ বলে ক্যারিয়ারের ২১তম টি-টোয়েন্টি ফিফটি পূর্ণ করেন শেফালি ভার্মা। নারী এশিয়া কাপের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে এটি দ্রুততম ফিফটি। অন্যদিকে ৩৫ বলে নিজের ৩৬তম টি-টোয়েন্টি ফিফটি তুলে নেন স্মৃতি মান্ধানা।
দুই ওপেনারের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ১০.৩ ওভারেই দলীয় শতরান পূর্ণ করে ভারত। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক নারী টি-টোয়েন্টিতে ১০০ বা তার বেশি রানের জুটি গড়ার সংখ্যায় যৌথভাবে শীর্ষে ওঠেন শেফালি ও স্মৃতি। তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতের এশা ওজা ও থির্থা সতীশের ছয়টি শতরানের জুটির রেকর্ড স্পর্শ করেন।
চামুদি প্রভোদার বলে আউট হওয়ার আগে শেফালি ৩৯ বলে ৫৯ রান করেন। তার ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার ও তিনটি ছক্কা। তার বিদায়ের মধ্য দিয়ে ভাঙে ১২৯ রানের উদ্বোধনী জুটি, যা নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপের ইতিহাসে যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ। এছাড়া অন্তত পাঁচটি দল অংশ নেওয়া কোনো নারী টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের ফাইনালেও এটি সর্বোচ্চ রানের জুটি।
শেফালির বিদায়ের পরের ওভারেই রানআউট হয়ে ফেরেন স্মৃতি। হারমানপ্রীত কৌরের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির কারণে সাজঘরে ফেরার আগে তিনি ৩৯ বলে ৫৯ রান করেন, যেখানে ছিল চারটি চার ও তিনটি ছক্কা। চলতি আসরে এটি ছিল তার তৃতীয় রানআউট।
মধ্যভাগে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ ফেরায় শ্রীলঙ্কার বোলাররা। হারমানপ্রীত কৌর ১৪ বলে ১৪ রান করে আউট হন। রিচা ঘোষ করেন ১৩ বলে ১৭ রান, আর দীপ্তি শর্মা রানআউট হওয়ার আগে করেন ৭ বলে ৫ রান।
শেষ দিকে গুণালন কমলিনীর মাত্র পাঁচ বলে ১৫ রানের ঝড়ো ইনিংসে ভর করে ২০ ওভারে ১৮৩ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় ভারত। নারী টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের কোনো ফাইনালে এটিই সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ।
শ্রীলঙ্কার হয়ে চামারি আতাপাত্তু, মিথালি আয়োধ্যা ও নীলাক্ষিকা সিলভা একটি করে উইকেট শিকার করেন।
১৮৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় শ্রীলঙ্কা। দলীয় চার রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারানোর পর দ্বিতীয় উইকেটে ৫৮ রানের জুটি গড়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন বিশমি গুনারত্নে ও চামারি আতাপাত্তু।
তবে ৩৬ রান করে আতাপাত্তু আউট হওয়ার পরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ভারতের হাতে চলে যায়। পরের ওভারেই ২০ রান করা গুনারত্নে ফিরলে ভেঙে পড়ে লঙ্কান ব্যাটিং লাইনআপ। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকা শ্রীলঙ্কা শেষ পর্যন্ত ১১১ রানেই অলআউট হয়।
ভারতের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন শ্রী চরণী। তিনি চার ওভারে ২০ রান দিয়ে চারটি উইকেট নেন। দীপ্তি শর্মা চার ওভারে ১৯ রান খরচায় শিকার করেন তিন উইকেট। তাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়েই বড় জয় নিশ্চিত করে ভারত।

-6aa6eeacb0123.jpg)