বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্তে যা বললেন আসিফ নজরুল
Advertisement
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চে নিরাপত্তা ইস্যুতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট করে বাংলাদেশ। সেই সময় যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন আসিফ নজরুল। তিনিই বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত নেন।
আলোচিত সেই সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ অনুসন্ধানে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আজ মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে। ২২ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনে এককভাবে কারো নাম সরাসরি উল্লেখ করা না হলেও, অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলের কাঁধেই এই সিদ্ধান্তের মূল দায় চাপানো হয়েছে। তদন্ত কমিটি জানিয়েছেন, তার বক্তব্য নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করা হলেও আসিফ নজরুল সারা দেননি।
রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ এক স্ট্যাটাস দিয়ে পুরো বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন সাবেক এই ক্রীড়া উপদেষ্টা।
আসিফ নজরুল প্রশ্ন তোলেন যে, ‘যে কথা তিনি আগেই একাধিকবার প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, এতদিন পর সেই একই বিষয় নিয়ে কেন ঘটা করে তদন্ত প্রকাশ করা হলো।’
সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর চাপে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে অপমানজনকভাবে বাদ দেওয়ার ঘটনা থেকেই মূলত সংকটের সূত্রপাত। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা এবং দেশের প্রতি অবমাননার প্রতিবাদেই ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আইসিসির রিপোর্টের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, তাদের সেই শঙ্কা অমূলক ছিল না; কারণ আইসিসির প্রথম প্রতিবেদনেও ভারতে নিরাপত্তার ঘাটতির বিষয়গুলো স্পষ্ট করা হয়েছিল। বিকল্প ভেন্যুতে খেলার জন্য নানা চেষ্টা চালানো হলেও আইসিসিতে ভারতীয় আধিপত্যের কারণে এবং ভারতীয় কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।
দেশের মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখাকেই নিজের সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে আসিফ নজরুল বলেন, সে সময় আশঙ্কা করা হয়েছিল যে বিশ্বকাপ বয়কট করলে অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেট বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা পরবর্তীতে বিসিবির কূটনৈতিক পদক্ষেপে সফলভাবেই দূর করা হয়েছিল।
‘আমি মনে করি, আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম', দাবি করেন সাবেক এই উপদেষ্টা আরও লেখেন, 'একটি ছোট দেশ বলে কেউ আমাদের ইচ্ছেমতো অপমান করবে, আর আমরা সবসময় তা মুখ বুঝে মেনে নেব—এমন প্রত্যাশা করা ঠিক নয়। আমি সমমর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সাথে বন্ধুত্বে বিশ্বাসী, মাথা নত করে সব মেনে নেয়াতে না।’
