Logo
Logo
×
   

Advertisement

খেলা

১৫ বছরেই কোটি কোটি রুপি আয়, বৈভবের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ

Advertisement

Icon

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৬ পিএম

১৫ বছরেই কোটি কোটি রুপি আয়, বৈভবের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ

Advertisement

যে বয়সে পড়াশোনা, খেলাধুলা আর ক্রিকেট অনুশীলন নিয়েই ব্যস্ত থাকার কথা, সেই ১৫ বছর বয়সেই কোটি কোটি রুপির বাণিজ্যিক বাজার তৈরি হয়েছে বৈভব সূর্যবংশীকে ঘিরে। ক্রিকেটে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে আলোচনায় আসা এই ভারতীয় কিশোর এখন বিজ্ঞাপনদাতা ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কাছেও আকর্ষণীয় নাম।

তবে অল্প বয়সে পাওয়া বিপুল অর্থ ও তারকাখ্যাতির সঙ্গে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন—এত চাপ সামলে ক্রিকেটে নিজের মনোযোগ ধরে রাখতে পারবেন তো বৈভব?

মাঠের পারফরম্যান্সের প্রভাব পড়েছে বিজ্ঞাপনের বাজারেও। হিন্দুস্তান টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ কিংবা এক দিনের শুটিংয়ের জন্য বৈভব বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ থেকে ২ কোটি রুপি পারিশ্রমিক পাচ্ছেন। তার জনপ্রিয়তা আরও বাড়লে এই পারিশ্রমিক ৩ থেকে ৪ কোটি রুপি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

অর্থাৎ, মাত্র ১৫ বছর বয়সেই ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিতির পাশাপাশি বড় ধরনের বাণিজ্যিক মূল্যও তৈরি হয়েছে বৈভবের। আর বিপুল এই বাণিজ্যিক সাফল্যই এখন তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিশোর বয়সে এত অর্থ, বিজ্ঞাপন, প্রচার এবং মানুষের প্রত্যাশার চাপ সামলে ক্রিকেটে মনোযোগী থাকা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

বৈভবের বয়সের কারণে বিষয়টি আরও জটিল। তিনি এখনো নাবালক। ভারতে নাবালক ক্রীড়াবিদদের বাণিজ্যিক স্বত্ব সুরক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ‘এনআইএল’-এর মতো নির্দিষ্ট কোনো কাঠামো নেই। ফলে বৈভব নিজে সরাসরি বাণিজ্যিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে পারেন না; এ ধরনের চুক্তির ক্ষেত্রে তার অভিভাবকের সম্মতি প্রয়োজন।

বর্তমানে বৈভবের আইনি ও বাণিজ্যিক বিষয়গুলো দেখভাল করছেন তার পরিবারের সদস্যরা এবং রাজস্থান রয়্যালসের বাণিজ্যিক পরামর্শক দলের সদস্যরা। তবে তিনি ১৮ বছরে পা দেওয়ার পর বিদ্যমান চুক্তিগুলোর কী হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর বৈভব কোনো চুক্তির শর্ত নিয়ে নতুন করে আলোচনা করতে চাইলে সেখান থেকে আইনি জটিলতার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।

অল্প বয়সে বিপুল অর্থ ও খ্যাতি পাওয়া নিঃসন্দেহে বড় সুযোগ হলেও এর সঙ্গে দায়িত্বও কম নয়। বিশেষ করে সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা একজন কিশোরের জন্য পেশাদার ক্রিকেটের পাশাপাশি বিজ্ঞাপন, চুক্তি ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার মতো জটিল বিষয় সামলানো সহজ নয়। এ কারণে মাঠের বাইরে অভিজ্ঞ ও দক্ষ পরামর্শকের প্রয়োজনীয়তাও ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

ইতোমধ্যে কমপ্লানের মতো প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হয়েছেন বৈভব। একাধিক জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের সঙ্গেও তার চুক্তি হয়েছে। তবে এখনো কোনো স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রতিনিধিত্ব করছে না।

ভবিষ্যতে রাজস্থান রয়্যালসের সঙ্গে তার সম্পর্কের ধরন বদলালে কিংবা কোনো বাণিজ্যিক চুক্তি নিয়ে বিরোধ তৈরি হলে বৈভবের স্বার্থ কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে, সেই প্রশ্নও সামনে রয়েছে। ফলে ক্রিকেট মাঠে দ্রুত উত্থানের পাশাপাশি মাঠের বাইরের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক দিক সামলানোও এখন ১৫ বছর বয়সি এই ক্রিকেটারের ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম