ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে এগিয়ে আছেন যারা
Advertisement
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৮ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর ব্যালন ডি’অরের ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সের পর সেই তালিকার অনেক হিসাবই নতুন করে আলোচনায় এসেছে। স্পেনের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা রদ্রি ও লামিন ইয়ামালের মতো তারকাদের সম্ভাবনাও বেড়েছে। এখন নতুন ক্লাব মৌসুমে তাদের পারফরম্যান্সও থাকবে বিশেষ নজরে।
তবে ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে আপাতত শীর্ষে আছেন হ্যারি কেইন। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে দুর্দান্ত গোলস্কোরিং মৌসুম কাটানোর পর বিশ্বকাপেও ইংল্যান্ডের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অবদান রেখেছেন তিনি। নতুন মৌসুমেও যদি এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেন, তাহলে দলীয় অর্জনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের গুরুত্ব নিয়েই বড় আলোচনা হতে পারে।
বিশ্বকাপে বয়সকে যেন নতুন করে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন লিওনেল মেসিও। ৩৯ বছর বয়সে আট গোল করে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলেছেন তিনি। একপর্যায়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতাও ছিলেন, পরে তাকে ছাড়িয়ে যান কিলিয়ান এমবাপ্পে। ইন্টার মিয়ামির হয়ে ক্যাম্পিওনেস কাপ জয়ে মেসির অবদানের পর ডেভিড বেকহামও তাকে ব্যালন ডি’অরের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সমর্থন করেছেন।
৫. লিওনেল মেসি
মেসি আবার ব্যালন ডি’অর জিততে পারবেন কি না, সেটি অনেকের কাছেই বিস্ময়ের বিষয় হতে পারে। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপের পরও তার নাম সম্ভাব্য বিজয়ীদের আলোচনায় থাকা দেখিয়ে দেয়, এই পুরস্কারের সমীকরণে প্রভাব ফেলার মতো সামর্থ্য এখনো তার রয়েছে। ৩৯ বছর বয়সে আট গোল করে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তোলেন তিনি। স্পেনের কাছে ফাইনালে হেরে গেলেও পুরো টুর্নামেন্টে তার পারফরম্যান্স ছিল নজরকাড়া।
আর্জেন্টিনা টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিততে পারলে মেসির অবস্থান হয়ত আরও শক্ত হতো। ২০২৩ সালের ব্যালন ডি’অরও জিতেছিলেন তিনি, আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের ১০ মাস পর। তখন তিনি ইন্টার মিয়ামির হয়ে খেলছিলেন। এবারও বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স, বিচারকদের কাছে তার দীর্ঘদিনের গ্রহণযোগ্যতা এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলে ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ের আবহ—সব মিলিয়ে মেসিকে আলোচনার বাইরে রাখা কঠিন।
৪. রদ্রি
স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে মাঝমাঠের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছিলেন রদ্রি। রক্ষণে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আক্রমণ গড়ে তোলা এবং দলের খেলার গতি ও ছন্দ ধরে রাখায় বড় ভূমিকা রেখেছেন তিনি। তার পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিও মিলেছে বিশ্বকাপের গোল্ডেন বল জয়ের মাধ্যমে।
বিশ্বকাপের পর একসময় মনে হচ্ছিল, দ্বিতীয়বার ব্যালন ডি’অর জয়ের পথে এই পুরস্কার রদ্রিকে বড় সুবিধা এনে দিতে পারে। তবে ক্লাব ফুটবলে তার মৌসুমটা ততটা উজ্জ্বল ছিল না। চোট থেকে ফিরে ম্যানচেস্টার সিটির জার্সিতে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে সময় লেগেছে। সিটি এফএ কাপ ও লিগ কাপ জিতলেও প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিততে পারেনি।
নতুন মৌসুমে বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার পর এখন পর্যন্ত ছয় ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে পুরো ৯০ মিনিট খেলেছেন রদ্রি। ফলে বিশ্বকাপে পাওয়া সাফল্যকে ক্লাব ফুটবলের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দিয়ে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তিনি এখনো পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেননি।
৩. লামিন ইয়ামাল
মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ ও বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলে দুটিতেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কীর্তি গড়েছেন ইয়ামাল। ২০২৫ সালের ব্যালন ডি’অরে দ্বিতীয় হওয়া এই স্প্যানিশ তরুণ এবার প্রথমবারের মতো পুরস্কারটি জয়ের লড়াইয়েও শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।
বিশ্বকাপে গোল ও অ্যাসিস্টের সংখ্যা তার স্বাভাবিক মানদণ্ড অনুযায়ী খুব বেশি না হলেও স্পেনের পুরো টুর্নামেন্ট অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন ইয়ামাল। আর ক্লাব ফুটবলের পরিসংখ্যান তার দাবিকে আরও জোরালো করেছে। গত মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২৪ গোলের পাশাপাশি ১৮টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। নতুন মৌসুমেও দুর্দান্ত শুরু করেছেন—প্রথম সাত ম্যাচেই করেছেন আট গোল।
২. কিলিয়ান এমবাপ্পে
২৭ বছর বয়সে পা রাখলেও এখনো ব্যালন ডি’অরের ট্রফি হাতে ওঠেনি কিলিয়ান এমবাপ্পের। তবে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পারফর্ম করে আসা এই ফরাসি তারকা এবারও পুরস্কারের অন্যতম বড় দাবিদার।
২০২৬ বিশ্বকাপে ১০ গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছেন এমবাপ্পে। মিরোস্লাভ ক্লোসেকে পেছনে ফেলে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়ার পর তিনি ছাড়িয়ে গেছেন মেসিকেও। গোল্ডেন বলের লড়াইয়েও অবশ্য মেসি ও এমবাপ্পে দুজনেরই শক্ত দাবি ছিল।
রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে গত মৌসুমে নানা চাপ ও বিতর্কের মধ্যেও গোল করার ধারায় কোনো বড় ছেদ পড়েনি তার। ৪৪ ম্যাচে করেছেন ৪২ গোল। যদিও রিয়াল বড় কোনো শিরোপা জিততে পারেনি, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের দিক থেকে এমবাপ্পের মৌসুম ছিল দুর্দান্ত।
১. হ্যারি কেইন
বিশ্বকাপে নিজের সেরা ছন্দে না থাকলেও ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন হ্যারি কেইন। এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে তার দুর্দান্ত গোলস্কোরিং মৌসুম।
গত মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫১ ম্যাচে ৬১ গোল করেছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে বায়ার্ন লিগ ও কাপ—দুটি শিরোপাই জিতেছে। ইউরোপের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার পাশাপাশি দলকে ডাবল জেতানোর পথেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তার।
বিশ্বকাপেও অবশ্য পুরোপুরি বিবর্ণ ছিলেন না কেইন। ছয় গোল করেছেন তিনি, যার মধ্যে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে করা জোড়া গোলও রয়েছে। তার পারফরম্যান্সের সুবাদে ইংল্যান্ড ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা ফল পেয়েছে।
নতুন মৌসুমেও শেষ দুই ম্যাচে দুটি গোল করেছেন কেইন। ক্লাব ফুটবলে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে বিশ্বকাপে অন্যদের তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে থাকা পারফরম্যান্সও সামলে ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে নিজের অবস্থান শক্ত রাখার সুযোগ থাকবে তার।
