৫০০ কুমিরের বাস যেখানে, সেটাই হলো ২০৩২ অলিম্পিকের ভেন্যু
Advertisement
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২১ এএম
সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
২০৩২ সালের ব্রিসবেন অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিকে রোয়িং আর ক্যানোয়িং প্রতিযোগিতা হবে এমন এক নদীতে, যেখানে বাস করে প্রায় পাঁচশো লোনা জলের কুমির। কুইন্সল্যান্ডের রকহ্যাম্পটনে অবস্থিত ফিটজরয় নদীর কোর্সটি একটি স্বাধীন প্রযুক্তিগত মূল্যায়নে উত্তীর্ণ হয়েছে।
এই মূল্যায়নে কুমিরের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়নি। বরং দেখা হয়েছে, বিভিন্ন আবহাওয়া, পানির স্তর এবং বন্যার ঝুঁকির মধ্যে গেমসের সময় এবং তার আগের সময়টায় এই কোর্স কেমন কাজ করবে।
গেমস ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড কোঅর্ডিনেশন অথরিটি এই প্রতিবেদনের দায়িত্ব দিয়েছিল। তারা জানিয়েছে, ফিটজরয় রিভার ফ্ল্যাটওয়াটার ফ্যাসিলিটি ইতিমধ্যে একটি প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার জায়গা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সেখানে স্কুল পর্যায়ের রাজ্য চ্যাম্পিয়নশিপ, স্থানীয় রেগাটা এবং জাতীয় দলের প্রশিক্ষণ শিবির হয়ে থাকে।
স্বীকৃত রোয়িং কেন্দ্র হওয়ায় এখানে আগে থেকেই কুমির দেখা গেলে কী করতে হবে, তার পরিকল্পনা আছে। অলিম্পিক কর্মকর্তারাও আগে রোয়ারদের নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বাস দিয়েছেন।
ওয়ার্ল্ড রোয়িং এবং প্যাডেল ওয়ার্ল্ডওয়াইড, যেটি আগে ইন্টারন্যাশনাল ক্যানো ফেডারেশন নামে পরিচিত ছিল, দুটি সংস্থাই এই কোর্সকে অনুমোদন দিয়েছে। ওয়ার্ল্ড রোয়িংয়ের প্রেসিডেন্ট জঁ-ক্রিস্টফ রোলঁ বলেন, ‘বিস্তারিত বিশ্লেষণের পর এখন আমরা জানি, গেমসের সময় ফিটজরয় নদী ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ দিতে সক্ষম, যা অলিম্পিক আর প্যারালিম্পিক রোয়িংয়ের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ’।
প্যাডেল ওয়ার্ল্ডওয়াইডের প্রেসিডেন্ট থমাস কনিয়েটজকো বলেন, ‘যে মানের আর গভীরতার প্রযুক্তিগত কাজ হয়েছে, তা আমাদের খেলার মাঠ সম্পর্কে বোঝাপড়া অনেক বাড়িয়েছে। এতে আমরা এবং আমাদের অ্যাথলিটরা আস্থা পাচ্ছি যে, এই কোর্স ক্যানো স্প্রিন্ট অ্যাথলিটদের জন্য ন্যায্য প্রতিযোগিতা দিতে পারবে’।
ব্রিসবেন ২০৩২-এর প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু লিভারিস গত বছর কুমিরের বিষয়টি খুব একটা গুরুত্ব দেননি। তিনি তখন বলেছিলেন, ‘সমুদ্রে হাঙর আছে, তবু আমরা সার্ফিং করি। এটা করা যায় না, এমন মানসিকতা বদলাতে হবে’।
বৃহস্পতিবার এই ভেন্যুর অনুমোদন পাওয়ার পর লিভারিস বলেন, ‘এই অনুমোদন আমাদের অতিরিক্ত নিশ্চয়তা দিচ্ছে, যখন আমরা ভেন্যু পরিকল্পনা আর গেমস আয়োজনের পরের ধাপে যাচ্ছি। এতে ভবিষ্যতের সব নকশা আর পরিচালনার কাজ পুরোপুরি রকহ্যাম্পটনকে কেন্দ্র করেই এগোবে’।
লোনা জলের কুমির, স্থানীয় ভাষায় যাদের বলা হয় ‘স্যালটিজ’, তারা মিঠা পানি আর লোনা পানি দুই জায়গাতেই বাস করে। এদের দৈর্ঘ্য ছয় মিটারেরও বেশি হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তিনটি অলিম্পিক সোনাজয়ী সাবেক রোয়ার ড্রু গিন এই ভেন্যু নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিবিসি রেডিওকে তিনি বলেন, বন্যার ঝুঁকি আর প্রতিযোগিতার ন্যায্যতা নিয়ে তার সংশয় আছে। ব্রিসবেন থেকে ছয়-সাত ঘণ্টা দূরের এই জায়গায় অ্যাথলিট আর দর্শকদের অভিজ্ঞতা নিয়েও তিনি চিন্তিত।
গিন বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি অস্ট্রেলিয়ার প্রাণীদের ভয় পাই না, তবে কখনো কুমির আমার কাছাকাছি আসেনি’।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, আমি আরও জোরে বৈঠা চালাতাম, সব অ্যাথলিটই হয়তো জোরে চালাতেন। এই বিষয়টা উদ্বেগের তালিকায় আছে, তবে আমার মনে হয় না এটা সবচেয়ে বড় উদ্বেগ, কিন্তু শুরুর দিকেই এটা নিয়ে কথা উঠেছিল। নদী থেকে কুমির সরিয়ে নেওয়ার মতো বিষয়গুলো নিয়ে ভাবতে গেলে মনে প্রশ্ন জাগে, আন্তর্জাতিক রোয়িং সংস্থা কি সত্যিই অ্যাথলিটদের এমন ঝুঁকিতে ফেলতে চায়’।
প্রযুক্তিগত মূল্যায়নের পর রোলঁ এবং কনিয়েটজকো এই ভেন্যুকে ন্যায্য বলে মনে করলেও গিনের সংশয় এখনো কাটেনি। তিনি বলেন, ‘একটা প্রতিযোগিতার ফল আধা সেকেন্ডে নির্ধারণ হতে পারে, অথচ বিভিন্ন লেনে দুই-তিন সেকেন্ডের পার্থক্য দেখা যেতে পারে, এই ভাবনাটাই আমাকে ভাবায়’।
তিনি যোগ করেন, ‘রকহ্যাম্পটন দারুণ একটা শহর বলে আমি মনে করি, তবে এভাবে ভেন্যুগুলো ছড়িয়ে দিয়ে অলিম্পিক গেমস আয়োজন করা উচিত নয় বলেই আমি মনে করি। এতে অ্যাথলিট আর দর্শকদের অভিজ্ঞতা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে’।
