আফগানিস্তানের হয়ে বিশ্বকাপ জেতাটা এখনো বাকি: রশিদ খান
Advertisement
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫২ পিএম
সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আফগান ক্রিকেটের এই উত্থান-পর্বের অন্যতম সাক্ষী রশিদ খান। দলের নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের বিপক্ষে জয়ের ক্ষেত্রেও তার অবদান অনেক। তারপরও নিজের ক্যারিয়ারে একটা আক্ষেপ থেকেই যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি—আফগানিস্তানকে নিয়ে বিশ্বকাপ শিরোপা জেতা।
হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই না-পাওয়ার কথা তুলে ধরেন রশিদ। ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেও ফাইনালে যেতে না পারার আক্ষেপ তাকে এখনো তাড়া করে।
রশিদ বলেন, ‘একটি বিষয় এখনো অপূর্ণ রয়ে গেছে, আফগানিস্তান দলের হয়ে বিশ্বকাপ জেতা। আমি সেটিই অর্জন করতে চাই। ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আমাদের দারুণ একটি সুযোগ ছিল। আমরা সেমিফাইনালে উঠেছিলাম, কিন্তু ফাইনালে যেতে পারিনি। তাই আমি মনে করি, যতদিন খেলব, ততদিন একটি আইসিসি ইভেন্টের শিরোপা জয়ের আকাঙ্ক্ষা আমার মধ্যে থাকবে।’
আফগানিস্তানের এগিয়ে চলার পথে বড় দলগুলোকে হারানোর মুহূর্তগুলোকেই টার্নিং পয়েন্ট মনে করেন রশিদ। তার মতে, ২০২৩ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় দিয়েই এই যাত্রার সূচনা।
এ নিয়ে রশিদ বলেন, ‘আমরা খুব বেশি বড় দলকে হারাইনি। কিন্তু যখন শুরু করেছিলাম, তখন ২০২৩ বিশ্বকাপে এখানেই (ভারতে) শুরু করেছিলাম এবং ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিলাম। এর আগে দ্বিপক্ষীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে পাকিস্তানকে হারিয়েছিলাম। তাই আমার মনে হয়, সেখান থেকেই সবকিছুর শুরু। এরপর শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছি, বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হারিয়েছি।’
একের পর এক বড় দলকে হারানোর অভিজ্ঞতা দলের ক্রিকেটারদের মনে আত্মবিশ্বাসের জায়গাটা শক্ত করেছে বলে মনে করেন রশিদ। বিশেষত ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠাকে তিনি দলগত মানসিকতায় বড় ধরনের বাঁক-বদল হিসেবে দেখছেন।
রশিদ বলেন, ‘২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আমরা ভালো করেছি, সেমিফাইনালে উঠেছি। তখন আমাদের মধ্যে এই বিশ্বাস তৈরি হয় যে আমরা এমন একটি পর্যায়ে আছি, যেখানে বড় দলগুলোকে হারাতে পারি। আমার মনে হয়, সবকিছুর শুরু সেখান থেকেই। তবে এখন বিষয়টি আমাদের নিয়ে, আমরা কীভাবে পরিস্থিতি সামলাব এবং কীভাবে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখব।’
দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বেশ কিছু শিক্ষাও পেয়েছেন রশিদ। তার ভাষ্যে, অধিনায়ক হয়ে সব দায়িত্ব একাই কাঁধে তুলে নেওয়ার প্রবণতা অনেক সময় নিজের ওপরই অহেতুক চাপ তৈরি করে।
এ প্রসঙ্গে রশিদ বলেন, ‘আমি অনেক কিছু শিখেছি। কখনো কখনো আপনি নিজের ওপর অতিরিক্ত চাপ দিয়ে ফেলেন, যা মোটেও ন্যায্য হয় না। একজন অধিনায়ক হিসেবে আপনি সবকিছুর দায় নিজের ওপর নিতে চান। আমার ক্ষেত্রেও এমনটা হয়েছে।’
ফলাফল নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে বরং প্রক্রিয়ায় মনোযোগ ধরে রাখাই সবচেয়ে কার্যকর কৌশল বলে বিশ্বাস করেন রশিদ। নিজের খেলা আর পরিকল্পনায় স্থির থাকতে পারলে চাপ সামলানো সহজ হয় বলেই তার অভিমত।
তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, ওই মুহূর্তগুলোতে আপনাকে শুধু শান্ত থাকতে হবে এবং নিজের খেলার দিকে, নিজের দক্ষতার দিকে ও নিজের খেলার পরিকল্পনার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। ফলাফল কী হবে, তা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করে প্রক্রিয়ার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। কীভাবে কাজটা করা হবে, সেটি ভাবতে হবে। যতক্ষণ আপনার মাথায় প্রক্রিয়াটি পরিষ্কার থাকবে, আমার মনে হয় সবকিছু ঠিকঠাক হবে।’
