যেভাবে ব্যালন ডি’অর জয়ী ফুটবলারকে নির্বাচন করা হয়
Advertisement
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ব্যালন ডি’অরের লড়াই যতই উত্তেজনাপূর্ণ হচ্ছে, ততই সামনে আসছে একটি প্রশ্ন—বিশ্বসেরা ফুটবলার নির্বাচনে আসলে কোন বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়? গোল, অ্যাসিস্ট ও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সই কি শেষ কথা, নাকি দলের হয়ে জেতা ট্রফিরও বড় ভূমিকা রয়েছে?
বাস্তবে ব্যালন ডি’অর জয়ের ক্ষেত্রে কোনো একটি পরিসংখ্যানই চূড়ান্ত নির্ধারক নয়। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দলীয় সাফল্য, সেই সাফল্যে খেলোয়াড়ের অবদান, মাঠের আচরণ ও ফেয়ার প্লের বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হয়।
২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর সামনে রেখে তাই লামিন ইয়ামাল, কিলিয়ান এমবাপ্পে, হ্যারি কেইন, লিওনেল মেসি ও রদ্রির মতো তারকাদের নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। তবে শেষ পর্যন্ত কে পুরস্কারটি জিতবেন, তা নির্ধারিত হয় নির্দিষ্ট ভোটিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
যেভাবে বেছে নেওয়া হয় বিজয়ী
ব্যালন ডি’অরের আয়োজন করে ফ্রান্স ফুটবল। ২০২৪ সাল থেকে উয়েফাও এই আয়োজনের সহ-আয়োজক হিসেবে যুক্ত হয়েছে। প্রথমে ৩০ জন ফুটবলারের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। এরপর ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১০০ দেশের প্রত্যেকটি থেকে একজন করে বিশেষায়িত সাংবাদিক ভোট দেওয়ার সুযোগ পান।
প্রতিটি ভোটার ৩০ জনের তালিকা থেকে নিজের পছন্দের সেরা ১০ খেলোয়াড়কে ক্রমানুসারে নির্বাচন করেন। এরপর অবস্থান অনুযায়ী এই ক্রমানুসারে দেওয়া হয় পয়েন্ট-
- প্রথম পছন্দ: ১৫ পয়েন্ট
- দ্বিতীয়: ১২ পয়েন্ট
- তৃতীয়: ১০ পয়েন্ট
- চতুর্থ: ৮ পয়েন্ট
- পঞ্চম: ৭ পয়েন্ট
- ষষ্ঠ: ৫ পয়েন্ট
- সপ্তম: ৪ পয়েন্ট
- অষ্টম: ৩ পয়েন্ট
- নবম: ২ পয়েন্ট
- দশম: ১ পয়েন্ট
সব ভোটারের দেওয়া পয়েন্ট যোগ করার পর যার স্কোর সবচেয়ে বেশি হয়, তিনিই হন ব্যালন ডি’অর বিজয়ী।
দুই বা তার বেশি খেলোয়াড়ের পয়েন্ট সমান হলে প্রথমে দেখা হয়, কার পক্ষে সবচেয়ে বেশি প্রথম পছন্দের ভোট রয়েছে। সেখানেও সমতা থাকলে দ্বিতীয় পছন্দের ভোট, এরপর তৃতীয় পছন্দসহ ধারাবাহিকভাবে পরবর্তী অবস্থানের ভোট বিবেচনা করে বিজয়ী নির্ধারণ করা হয়।
কোন বিষয়গুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?
ব্যালন ডি’অরের মূল্যায়নে মূলত তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স:
মাঠে একজন খেলোয়াড়ের প্রভাব কতটা ছিল, তার পারফরম্যান্স কতটা গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যতিক্রমী—এটি মূল্যায়নের অন্যতম প্রধান মাপকাঠি। গোল, অ্যাসিস্টসহ সামগ্রিক নৈপুণ্য এখানে বিবেচনায় আসে।
দলীয় সাফল্য:
ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে খেলোয়াড়ের অর্জনও গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু ট্রফি জেতাই যথেষ্ট নয়; সেই সাফল্যে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত অবদান কতটা ছিল, সেটিও বিবেচনা করা হয়।
আভিজাত্য ও ফেয়ার প্লে:
মাঠে খেলোয়াড়ের আচরণ, খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতা এবং ফেয়ার প্লে-ও মূল্যায়নের অংশ। অর্থাৎ একজন ফুটবলারের সামগ্রিক আচরণও ব্যালন ডি’অরের ভোটে প্রভাব ফেলতে পারে।
তাই ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে শুধু গোলসংখ্যা কিংবা ট্রফির হিসাব দিয়ে সবকিছু নির্ধারণ হয় না। ব্যক্তিগত নৈপুণ্য, দলের সাফল্যে অবদান এবং মাঠের আচরণ—সবকিছুর সমন্বিত মূল্যায়নের ভিত্তিতেই ভোটাররা তাদের পছন্দের খেলোয়াড়কে বেছে নেন।

