Logo
Logo
×
   

Advertisement

খেলা

ওয়াসিম-ওয়াকারের বোলিং আজও ক্রিকেট বিশ্বে যে কারণে অনন্য

Advertisement

Icon

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম

ওয়াসিম-ওয়াকারের বোলিং আজও ক্রিকেট বিশ্বে যে কারণে অনন্য

Advertisement

ক্রিকেট ইতিহাসে দুর্দান্ত পেস বোলিং জুটি কম দেখা যায়নি। তবে ওয়াসিম আকরাম ও ওয়াকার ইউনিসের নাম উচ্চারিত হয় আলাদা এক আবহে। পাকিস্তানের এই দুই কিংবদন্তি শুধু ভয়ংকর গতি দিয়েই নয়, সুইং, রিভার্স সুইং ও নিখুঁত ইয়র্কারের সমন্বয়ে নব্বইয়ের দশকে ব্যাটারদের জন্য তৈরি করেছিলেন এক কঠিন পরীক্ষা। আজও তাদের বোলিংকে ক্রিকেটের অন্যতম সেরা পেস জুটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

একসঙ্গে দুই দিক থেকে আক্রমণ

ওয়াসিম ছিলেন বাঁহাতি, আর ওয়াকার ডানহাতি। ফলে দুজনের বোলিংয়ের কোণ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। একজন যখন বাঁহাতি অ্যাঙ্গেল থেকে বল সুইং করাতেন, অন্যজন বিপরীত প্রান্ত থেকে গতি ও মুভমেন্ট দিয়ে ব্যাটারকে চাপে ফেলতেন। এই বৈচিত্র্যই তাদের জুটিকে আরও ভয়ংকর করে তুলেছিল।

আইসিসির হল অব ফেমে ওয়াসিমকে সুইং ও সিম বোলিংয়ের অন্যতম সেরা কারিগর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে ওয়াকার পরিচিত ছিলেন রিভার্স সুইং ও ইন-সুইং ইয়র্কারের মাস্টার হিসেবে।

রিভার্স সুইংয়ে নতুন মাত্রা

ওয়াসিম-ওয়াকারের বোলিংয়ের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল রিভার্স সুইং। পুরোনো বলকে বাতাসে অস্বাভাবিকভাবে দুই দিকে মুভ করিয়ে ব্যাটারদের বিভ্রান্ত করার কৌশলে দুজনই ছিলেন অসাধারণ।

বিশেষ করে ওয়াকারের দ্রুতগতির ইয়র্কার ছিল ব্যাটারদের জন্য বড় হুমকি। আইসিসিও তাকে রিভার্স সুইংয়ের অন্যতম সেরা বোলার এবং ইন-সুইং ইয়র্কারের দক্ষ কারিগর হিসেবে বর্ণনা করেছে।

ওয়াসিমের দক্ষতা ছিল আরও বহুমাত্রিক। তিনি একই অ্যাকশন থেকে বল দুই দিকে সুইং করাতে পারতেন, আবার উচ্চ গতিতে ইয়র্কারও করতে পারতেন। সাবেক ওয়েস্ট ইন্ডিজ পেসার কোর্টনি ওয়ালশ ওয়াসিমকে নিজের সময়ের অন্যতম বিধ্বংসী বাঁহাতি পেসার হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন এবং তার সুইং ও ইয়র্কারের পাশাপাশি রিভার্স সুইংয়ের বিশেষ দক্ষতার কথাও উল্লেখ করেছিলেন।

পরিসংখ্যানেও তাদের শ্রেষ্ঠত্ব

ওয়াসিম আকরাম টেস্টে ১০৪ ম্যাচে নিয়েছেন ৪১৪ উইকেট। ওয়ানডেতে ৩৫৬ ম্যাচে তার শিকার ৫০২ উইকেট। অন্যদিকে ওয়াকার ইউনিস ৮৭ টেস্টে ৩৭৩ এবং ২৬২ ওয়ানডেতে ৪১৬ উইকেট নিয়েছেন।

অর্থাৎ আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে দুজন মিলে ৯০০-র বেশি উইকেট শিকার করেছেন। আইসিসির ভাষ্যেও তাদের একসঙ্গে ইতিহাসের অন্যতম ভয়ংকর বোলিং আক্রমণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুধু গতি নয়, ছিল বুদ্ধির খেলাও

ওয়াসিম-ওয়াকারের বিশেষত্ব শুধু বলের গতি কিংবা সুইংয়ে সীমাবদ্ধ ছিল না। ব্যাটারের দুর্বলতা বুঝে বলের লাইন, লেংথ ও মুভমেন্ট পরিবর্তন করতেও তারা ছিলেন দক্ষ। নতুন বলে সুইং, পুরোনো বলে রিভার্স সুইং এবং শেষদিকে ইয়র্কার—একটি স্পেলের মধ্যেই তারা আক্রমণের ধরন বদলে দিতে পারতেন।

এই কারণেই তাদের বিপক্ষে ব্যাট করা শুধু শারীরিক চ্যালেঞ্জ ছিল না, ছিল মানসিক পরীক্ষাও।

কেন আজও আলাদা?

আধুনিক ক্রিকেটে উন্নত প্রযুক্তি, বিশ্লেষণ ও প্রশিক্ষণের কারণে পেস বোলিংয়ের ধরন অনেক বদলে গেছে। কিন্তু ওয়াসিম-ওয়াকারের জুটির বিশেষত্ব ছিল তাদের বৈচিত্র্য ও পারস্পরিক পরিপূরকতা। একজন বাঁহাতি, অন্যজন ডানহাতি; একজন সুইংয়ে দক্ষ, অন্যজন রিভার্স সুইং ও ইয়র্কারে দুর্দান্ত—দুজনের অস্ত্রভাণ্ডার একে অপরকে আরও কার্যকর করে তুলেছিল।

তাই শুধু উইকেটের সংখ্যা দিয়ে ওয়াসিম-ওয়াকারের প্রভাব বোঝা কঠিন। তাদের বোলিংয়ের সবচেয়ে বড় পরিচয় ছিল ব্যাটারের ওপর অবিরাম চাপ তৈরি করা। ক্রিকেট ইতিহাসে ‘টু ডব্লিউস’ নামে পরিচিত এই জুটি সেই কারণেই আজও পেস বোলিংয়ের এক অনন্য অধ্যায় হয়ে আছে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম