Logo
Logo
×
   

Advertisement

খেলা

‘আম্পায়ারকে চাপে ফেলে জাপানকে ‘অন্যায়ভাবে’ হারিয়েছে ভারত’

Advertisement

Icon

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২১ এএম

‘আম্পায়ারকে চাপে ফেলে জাপানকে ‘অন্যায়ভাবে’ হারিয়েছে ভারত’

সংগৃহীত

Advertisement

ইতিহাস গড়ার খুব কাছে চলে গিয়েছিল জাপান। একটু এদিক-ওদিক হলেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারতকে হারিয়ে দিতে পারত নবাগত দলটি। তবে আম্পায়ারের এক সিদ্ধান্ত তাদের সে ইতিহাস থেকে বঞ্চিত করল। সেটাই রীতিমতো তোপের মুখে ফেলে দিয়েছে ভারতীয় দলকে। 

বৃষ্টির কারণে ম্যাচ পাঁচ ওভারে নামিয়ে আনা হয়। টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ভারত অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার। ভারত তোলে ৩২ রান। জেতার জন্য জাপানের প্রয়োজন ছিল ৩০। সে প্রয়োজন এসে ঠেকেছিল ৬ বলে ৮ রানে।

শেষ ওভার করতে আসেন প্যাটেল। একটি ডট বল এবং একটি সিঙ্গেলের পর সে ওয়াইড বল করেন প্যাটেল। 

কী ঘটেছিল সেই বলটিতে?
তার পরের বলেই ঘটে সেই ঘটনা। স্ট্রাইকে তখন ছিলেন আলেক্সান্ডার শিরাই-প্যাটমোর। চার বলে ছয় রান দরকার ছিল জাপানের। ঠিক তখনই তৈরি হয় বিতর্কিত সেই মুহূর্ত।

প্যাটেলের পরের বলটিও আম্পায়ার ওয়াইড ঘোষণা করেন। ব্যাটার রিভার্স-সুইপ খেলার চেষ্টা করলেও বল তখনো তার নাগালের বাইরে ছিল, তাই ওয়াইড ডাকা হয়।

তবে এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন ভারতীয় অধিনায়ক আইয়ার ও প্যাটেল। আম্পায়ারদের সঙ্গে তর্কে জড়ান তারা। সংক্ষিপ্ত আলোচনার পর ওয়াইডের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেন আম্পায়াররা। এতে একটি রান ও একটি বাড়তি বল থেকে বঞ্চিত হন স্বাগতিকরা।

শেষ তিন বলে তিনটি সিঙ্গেল নেয় জাপান। তবে ভারতের সংগ্রহের চেয়ে দুই রান কম থেকেই থেমে যায় তারা। আম্পায়াররা যদি ওয়াইডের সিদ্ধান্ত পাল্টে না দিতেন, তাহলে কে জানে, হয়তো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটনের কাছাকাছি পৌঁছে যেত জাপান।

আম্পায়ারের কোনো সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার সময়—খেলোয়াড়দের ডিআরএস আহ্বানে অথবা মাঠের আম্পায়ার নিজেই নিশ্চিত না হলে—সাধারণত সেই বলটি স্ক্রিনে দেখানো হয় এবং টিভি আম্পায়ারের পর্যালোচনা সম্প্রচারে এবং স্টেডিয়ামে শোনা যায়।

তবে এ ঘটনায় আম্পায়াররা কোনো পর্যালোচনার আহ্বান জানাননি। কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই মাঠেই সিদ্ধান্ত পাল্টে দেন তারা।

ঐতিহ্যগতভাবে আম্পায়ারদের সঙ্গে খেলোয়াড়দের প্রকাশ্য বিতর্ককেও ভালো চোখে দেখা হয় না এ খেলায়।

তবে ভারতীয় অধিনায়ক এবং বোলার এমন কোনো সংযম দেখাননি। পরবর্তীতে কোনো প্রমাণ ছাড়াই নিজের ওয়াইডের সিদ্ধান্ত পাল্টে দেন আম্পায়ার।

বিশ্বজুড়ে ক্রিকেট সাংবাদিক, বিশেষজ্ঞ এবং সমর্থকরা দ্রুতই আম্পায়ারদের সমালোচনা করতে শুরু করেন।

উইজডেন ম্যাগাজিনের ক্রিকেট লেখক বেন গার্ডনার এ সিদ্ধান্তকে লজ্জাজনক বলে অভিহিত করেন। এক্স-এ তিনি লেখেন, চার বলে পাঁচ রান দরকার এমন পরিস্থিতিতে, ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঘটন ঠেকাতে জাপানের বিপক্ষে ওয়াইডের সিদ্ধান্ত পাল্টাতে আম্পায়ারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে ভারত।

আবু জায়েদ সারুজির মতো অন্যরা আরও স্পষ্ট ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, এখানে জাপানকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

এমনকি ভারতীয় ক্রিকেট দলের সমর্থকরাও এ বিতর্ক নিয়ে সরব হন। তাদের মতে, বল করার আগে ব্যাটার নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেননি, তাই প্যাটেলকে বিভ্রান্ত করার কোনো চেষ্টাও তিনি করেননি বলে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল।

ওয়াইড প্রত্যাহার নিয়ে ক্রিকেটের আইন কী বলে
মেরিলবোন ক্রিকেট ক্লাবের ক্রিকেট আইনের ২২.৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী, নিচের দুটি পরিস্থিতিতে আম্পায়াররা ওয়াইডের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে পারেন। প্রথমত, বল কোনো ফিল্ডারের সংস্পর্শে আসার আগে ব্যাটসম্যানের ব্যাট বা শরীরের সঙ্গে স্পর্শ হলে। দ্বিতীয়ত, সেই ডেলিভারি নো বল ঘোষিত হলে।

তবে এই ঘটনায় এই দুটি শর্তের একটিও প্রযোজ্য ছিল না।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম