ম্যানসিটি ফ্যানদের হাতে কলা উসকে দিল ৮০’র দশকের স্মৃতি
Advertisement
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৫ পিএম
সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
লিভারপুলের বিপক্ষে জয়ের ম্যাচে হঠাৎ অনেক ম্যানচেস্টার সিটি সমর্থকের হাতে ফুলানো কলা দেখা যায়। প্রথম দেখায় এটাকে নিছক মজা মনে হতে পারে। কিন্তু এর পেছনে আছে এক গভীর অতীত।
সিটি সমর্থকেরা প্রথম কলা হাতে নেন ক্লাবের এক খারাপ সময়ে। দ্য মিররের তথ্য অনুযায়ী, ফ্র্যাঙ্ক নিউটন নামে এক ব্যক্তি প্রথম নকল কলা গ্যালারিতে তোলেন। সেটা ছিল ১৯৮৭-৮৮ মৌসুমে। পুরোনো মেইন রোড স্টেডিয়ামে প্লিমাউথ আর্গাইলের বিপক্ষে ঘরের মাঠের ম্যাচ ছিল। সিটি তখন ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগ থেকে নেমে দ্বিতীয় স্তরে চলে যায়।
এই কাজের পেছনে ছিল ক্লাবের প্রিয় তারকা ইমরে ভারাদির প্রতি শ্রদ্ধা। ভারাদি সিটির হয়ে ৮১ ম্যাচে ৩১ গোল করেছিলেন। এক সমর্থক তাকে ‘ইমরে বানানা’ নামে ডেকেছিলেন। দল তখন খেলায় পিছিয়ে পড়ছিল। তাই সমর্থকেরা কালো রসিকতার আশ্রয় নেন। মাঠের বিরক্তিকর খেলা থেকে মন সরাতেই এই রসিকতা। প্রথমে এই স্ট্রাইকারের নামে স্লোগান ওঠে। এরপর কলা জনপ্রিয় হয়ে যায়। কথিত আছে, সেই বছর বক্সিং ডেতে স্টোক সিটির মাঠে খেলা দেখতে ১০ হাজার সমর্থক গিয়েছিলেন। তাদের সবার সঙ্গে ছিল নানা রকম কলা।
তখন শুধু ম্যানচেস্টারে নয়, গোটা ইংলিশ ফুটবলই ছিল খারাপ সময়ে। ভাঙাচোরা স্টেডিয়াম ভরে থাকত সহিংস সমর্থকে। হুলিগানিজম এতটাই ছড়িয়ে পড়েছিল যে ক্লাবগুলোকে সাময়িকভাবে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করা হয়। ১৯৮৫ সালে হেইসেল দুর্ঘটনার পর এই নিষেধাজ্ঞা আসে। সেদিন লিভারপুল ও জুভেন্টাসের ইউরোপীয় কাপ ফাইনালে সমর্থকদের সহিংসতায় ৩৯ জন মারা যান। আরেকটি কিংবদন্তি অনুযায়ী, মন ভালো করতেই সিটির খেলায় প্রথম কলা এসেছিল।
৮০–র দশক থেকে সিটি সমর্থকেরা বিশেষ উপলক্ষে বারবার এই ফল বের করেছেন। লিভারপুলে ৩-০ ব্যবধানের বড় জয়ের দিনেও তারা তা-ই করলেন। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক বিরতির পর এটাই ছিল সিটির প্রথম ম্যাচ। তাই আর্থিক কেলেঙ্কারির রায়ে সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া দেখানোর প্রথম সুযোগ মিলেছিল। কয়েক দিন আগে সিটি আর্থিক নিয়ম ভাঙার ১১৫টি অভিযোগের মধ্যে ১১৪টিতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। ক্লাবটির সামনে কঠিন শাস্তির ঝুঁকি আছে। এর মধ্যে আছে অনেক শিরোপা হারানো এবং বাধ্যতামূলক অবনমনও। কিছু বড় আকারের কলা তাই সমর্থকদের মনোযোগ সরানোর একটা উপায় হয়ে ওঠে।
ম্যানচেস্টারের তারকাখচিত দল মাঠে নামলে লিভারপুল সমর্থকেরা আর্লিং হালান্ড ও তার সতীর্থদের কানফাটা দুয়ো দেন। ব্যানারেও সিটির নানা অনিয়মের কথা লেখা ছিল। স্টেডিয়ামের বাইরে দুই দলের সমর্থকেরা অশালীন অঙ্গভঙ্গি ও গালাগাল করে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডায় জড়ান। সিটির দলের বাস আসার সময় লিভারপুল সমর্থকেরা স্লোগান দেন, ‘তোমরা প্রতারক, তোমরা ভালো করেই জানো তোমরা কী।’
সিটি অনেক আগেই স্বাধীন কমিশনের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত শাস্তির সিদ্ধান্ত আসবে বলে কেউ আশা করছেন না।
গুরুতর অভিযোগের পরও সিটি সমর্থকেরা ক্লাবের পাশেই আছেন। ওয়েসিসের গিটারিস্ট ও সিটির একনিষ্ঠ ভক্ত নোয়েল গালাঘার দ্য অ্যাথলেটিককে বলেন, দ্বিতীয় স্তরে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা তাকে খুব একটা ভাবায় না। তিনি বলেন, ‘করুক যা খুশি। এই ক্লাবের সঙ্গে আমি এর চেয়ে খারাপ অবনমন দেখেছি, যা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। (...) এই ক্লাবকে যদি উগান্ডায় দর্শকশূন্য মাঠে হাজার ম্যাচ খেলতে হয়, আমি সেখানেও থাকব।’
