জিম্বাবুয়ের কাছে হারের পর যে সমীকরণের সামনে বাংলাদেশ
Advertisement
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম
ছবি-এসিবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ত্রিদেশীয় সিরিজের শুরুটা এর চেয়ে বাজে হতেই পারত না বাংলাদেশের। জিম্বাবুয়ের কাছে হেরে বসেছে, তাও আবার ৯৯ রানের বিশাল এক ব্যবধানে। এই হারের ফলে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে খেলতে হলে কঠিন এক সমীকরণ তৈরি হয়ে গেছে বাংলাদেশের সামনে।
লক্ষ্যটা খুব কঠিন ছিল না। ২৭৩ রানই তো মাত্র! শুরুর দশ ওভারে তানজিদ তামিমের ঝড়ে দল যখন ৬৬ রান তুলে ফেলল, তখন কাজটা আরও সহজই হয়ে যাওয়ার কথা ছিল দলের জন্য। আস্কিং রেটটা প্রায় পাঁচে চলে এসেছিল যে!
সেখান থেকে কেবল উইকেট ধরে রাখলেই অনায়াসে রানটা তাড়া করে ফেলা যেত। কিন্তু সেই কাজটাই বাংলাদেশ করতে পারেনি। উইকেট খুইয়েছে নিয়মিত বিরতিতে। শুরুর উইকেটে ৪৭ রানের জুটির পর বাংলাদেশ আর কোনো বড় জুটি পায়নি। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটিটা এসেছে দুই ‘বোলারের’ কাছ থেকে, তাসকিন আহমেদের সঙ্গে মিলে রিশাদ হোসেন নবম উইকেটে তুলেছেন ৩২ রান।
এমন ব্যাটিংয়ের পর আর যাই হোক ২৭৩ রান তাড়া করে জেতা চলে না। বাংলাদেশ তা পারেওনি। ব্যাটিং ব্যর্থতার খেসারত দিয়ে হেরেছে বড় ব্যবধানে।
এই হারের ফলে কঠিন সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। ত্রিদেশীয় এই সিরিজ সিঙ্গেল লিগ ফরম্যাটের। এই ফরম্যাটে প্রথম ম্যাচ হেরে বসলে ফাইনালের পথটা কঠিন হয়ে যায় অনেকটাই।
কঠিন হলেও অবশ্য কাজটা একেবারে অসম্ভব নয়। তার জন্য পূর্বশর্ত আফগানিস্তানের বিপক্ষে জিততে হবে। সেটা করতে পারলে তবেই আশা থাকবে ফাইনালের।
বাংলাদেশের জন্য কাজটা তুলনামূলক সহজ করেছে সিরিজের সূচি। নিজেদের শেষ ম্যাচের আগেই সমীকরণটা পরিষ্কার জেনে যাবে দল, আফগানিস্তান ম্যাচে নিজেদের করণীয় জেনে তবেই মাঠে নামতে পারবেন তাওহীদ হৃদয়রা।
বাংলাদেশের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হওয়ার আগে আফগানিস্তান খেলবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। এই ম্যাচে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে ভালো ফলাফল হচ্ছে জিম্বাবুয়ের জয়। সেক্ষেত্রে নিজেদের শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানকে হারিয়ে দিতে পারলেই ফাইনাল নিশ্চিত বাংলাদেশের।
তবে আফগানিস্তান যদি জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে দেয়, তাহলেই হিসাবটা গোলমেলে হয়ে যাবে। তখন দেখতে হবে আফগানিস্তানের জয়ের ব্যবধানটা কত। যদি আফগানিস্তান ১ রানেও জিতে বসে, তাহলেও বাংলাদেশকে নিদেনপক্ষে ৫০ রানে অথবা ৮ ওভার হাতে রেখে জিততে হবে নিজেদের শেষ ম্যাচে।
আফগানদের জয়ের ব্যবধানটা যদি বেড়ে যায়, সেক্ষেত্রে কাজটাও আস্তে আস্তে কঠিন হতে থাকবে বাংলাদেশের জন্য। যেমন ধরুন আফগানিস্তান নিজেদের প্রথম ম্যাচটা ৫০ রানে জিতল। সেক্ষেত্রে শেষ ম্যাচে বাংলাদেশকে অন্তত ৭৫ রানে জিততেই হবে। আর জিম্বাবুয়েকেও ছাড়িয়ে যেতে হলে তখন প্রয়োজন পড়বে ১৪৯ রানের একটা জয়ের।
তবে কী হলে কী হবে, সেটা এখনই ভেবে বসাটা কষ্টকল্পনাই বটে। কারণ শেষ ম্যাচের আগেই তো সব হিসাব পরিষ্কার হয়ে যাবে! আপাতত সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচের দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশ। সে ম্যাচে কামনা থাকবে জিম্বাবুয়ের জয়ের। সেটা হলেই যে সমীকরণটা পরিষ্কার হয়ে যায় দলের।
