অ্যান্ড্রোয়েড সিস্টেম ইন্টেলিজেন্স কী, এটি ব্যবহারকারীর ডেটা সুরক্ষিত রাখে?
আইটি ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে থাকা অ্যাপ লিস্ট খুললে সেখানে ‘ অ্যান্ড্রোয়েড সিস্টেম ইন্টেলিজেন্স বা (এএসআই) নামে একটি সিস্টেম অ্যাপ্লিকেশন দেখা যায়। এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হলেও, এটি ঠিক কী কাজ করে, তা অধিকাংশ ব্যবহারকারীর কাছে স্পষ্ট নয়। আপনি চাইলে অ্যাপটি ডিজেবলও করতে পারেন। কিন্তু প্রশ্ন আসতেই পারে যে এটি বন্ধ করলে ফোনের কাজকর্মে কোনও প্রভাব পড়বে কিনা? চলুন জেনে নেই অ্যান্ড্রোয়েড সিস্টেম ইন্টেলিজেন্স কী এবং এর কাজ কী।
অ্যান্ড্রোয়েড সিস্টেম ইন্টেলিজেন্স
অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেম ইন্টেলিজেন্স (এএসআই) কোনও সাধারণ সিস্টেম অ্যাপ নয়। এটি একটি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের যে সব ফিচার্স চালাতে সাহায্য করে, তার মধ্যে বেশ কয়েকটি গুগল পিক্সেল ফোনের জন্য তৈরি। সিস্টেম ফিচার চালনার পাশাপাশি ব্যবহারকারীর প্রাইভেসি এবং ডেটা সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করে। সেই কারণে সিস্টেম অ্যাপটি প্রাইভেট কম্পিউটিং কোর বা পিসিসি-র মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করে।
মার্কিন সার্চ জায়ান্টটি বলেছেন, ফোনের লাইভ ক্যাপশন, গান শনাক্তের ‘নাও প্লেইং’, চোখ রাখলে স্ক্রিন সচল রাখার ‘স্ক্রিন অ্যাটেনশন’ ও সয়ংক্রিয় স্মার্ট অটো-রোটেট ফিচারের নেপথ্যে কাজ করে এই সিস্টেম। এর বাইরে দ্রুত কপি পেস্ট, মেসেজ ও নোটিফিকেশন প্রয়োজনীয় শর্টকাট পরামর্শ দেওয়া এবং অ্যাপ অনুসন্ধানের মতো বিভিন্ন কাজও এ প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল।
স্মার্ট পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য এএসআই বিভিন্ন সিস্টেম পারমিশন ব্যবহার করে থাকে। যার মধ্যে ঘন ঘন যোগাযোগ করা ব্যক্তিদের নাম ও তথ্য অনুসন্ধানের সুবিধার্থে কনটাক্ট তালিকার এক্সেস নেওয়া হয়।
এএসআই- এর মেশিন লার্নিং ফিচার্স সরাসরি নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেটের অ্যাক্সেস করতে পারে না। যখন ক্লাউড থেকে কোনও আপডেট প্রয়োজন হয়, তখন পিসিসি সেতুবন্ধনের কাজ করে। অ্যান্ড্রয়েড ফোনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের পিছনে এই সিস্টেমের হাত রয়েছে। এটি লাইভ ক্যাপশন ফিচার চালনা করে, যার মাধ্যমে ভিডিও দেখার সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্যাপশন তৈরি হয়।
সিস্টেমটি স্মার্ট অটোরোটেট নিশ্চিত করে। অর্থাৎ, আপনি ফোন কোন ওরিয়েন্টেশনে ধরে রেখেছেন, তা শনাক্ত করে স্ক্রিন রোটেট করে। এটি এক অ্যাপ থেকে অন্য অ্যাপে লেখা কপি এবং পেস্ট আরও সহজ করে তোলে। লঞ্চারে আপনি পরের কোন অ্যাপ ব্যবহার করবেন, তা অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেম ইন্টেলিজেন্স অনুমান করে সাজেশন দেখায়।
অ্যান্ড্রোয়েড সিস্টেম ইন্টেলিজেন্স বন্ধ করলে কী হবে?
ফিচারগুলি ছাড়াও অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ব্যবহার করা সম্ভব। তবে অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেম ইন্টেলিজেন্স ডিজেবল করে দিলে কিছু স্মার্ট এআই ফিচার্সের থেকে বঞ্চিত হবেন। অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেম ইন্টেলিজেন্সের বেশি স্টোরেজ দখল করে রাখা ও ব্যাটারি খরচের মতো অভিযোগ আছে। এটি মাঝে মাঝে লোকেশনের অ্যাক্সেসও চায়। এই কারণে কেউ কেউ ফোন থেকে এটি নিষ্ক্রিয় করার কথা ভাবেন।
মনে রাখবেন, অ্যাপ ডিজেবল করে দিলে ফোন হঠাৎ করে সাধারণ কাজ করা বন্ধ করবে না। কলিং, ইন্টারনেট, ক্যামেরা — সবকিছুই চালু থাকবে। তবে, এএসআই- এর উপর নির্ভরশীল বেশ কিছু ফিচার্স আর কাজ করবে না। কোন কোন ফিচার্স বন্ধ হবে, তার নির্দিষ্ট লিস্ট গুগল প্রকাশ করেনি। কারণ মডেল, ব্র্যান্ড, এবং হার্ডওয়্যার অনুসারে অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেম ইন্টেলিজেন্সের ব্যবহার আলাদা হতে পারে।
এছাড়াও, এএসআই- এর মাধ্যমে নোটিফিকেশন অ্যাকশন বাটন, স্মার্ট টেক্সট সিলেকশন, লিঙ্কিফাই টেক্সট, লাইভ ট্রান্সলেট, অ্যাপ সার্চ, অ্যাসিস্ট্যান্ট ভয়েস টাইপিং, নাউ প্লেয়িং, সিনেমাটিক ওয়ালপেপার-সহ বিভিন্ন ফিচার্স অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে কাজ করে। তবে সব ফোনেই এই সমস্ত ফিচার্স থাকে না। কিছু শুধুমাত্র পিক্সেল সিরিজের জন্য এক্সক্লুসিভ৷ আবার কিছু ফিচার্সের জন্য নির্দিষ্ট হার্ডওয়্যার প্রয়োজন।

