আপনার মনোযোগ আসলে কোথায়, জানিয়ে দেবে যে ডিভাইস
আইটি ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ব্যস্ত জীবনে মনোযোগ ধরে রাখা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। নানা কাজ, চিন্তা ও চারপাশের বিভ্রান্তির কারণে অনেক সময় মানুষ বর্তমান মুহূর্তে থেকেও মানসিকভাবে অন্য কোথাও ডুবে থাকেন। দীর্ঘমেয়াদে এমন পরিস্থিতি মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এই সমস্যার সমাধানে নতুন এক পরিধানযোগ্য প্রযুক্তি নিয়ে এসেছে স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাটলাস’। যাদের জন্য চারপাশের নানা বিভ্রান্তি এড়িয়ে কাজে বা বর্তমান মুহূর্তে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন, তাদের জন্যই তৈরি করা হয়েছে ‘অ্যাটলাস ১.০’ নামের এই ডিভাইস।
প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম এনগ্যাজেট জানিয়েছে, কানের পেছনে আঠালো প্যাডের সাহায্যে ত্বকের সঙ্গে যুক্ত থাকে ছোট্ট এই সেন্সর। এটি মস্তিষ্কের তরঙ্গ ও শরীরের বিভিন্ন সংকেত বিশ্লেষণ করে নির্ধারণ করতে পারে, নির্দিষ্ট সময়ে ব্যবহারকারীর মনোযোগের মাত্রা কেমন ছিল।
ডিভাইসটি মস্তিষ্কের তরঙ্গের পাশাপাশি ত্বকের ইলেকট্রোডার্মাল কার্যকলাপ, শারীরিক নড়াচড়া এবং গলার স্বর বা ‘ভয়েস সিগনেচার’-এর ধরনও সংগ্রহ করে। পরে অ্যাটলাসের নিজস্ব অ্যালগরিদম এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্যবহারকারীর মনোযোগ ও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কোন অবস্থায় ছিল, তার একটি ধারণা দেয়।
সহজভাবে বললে, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানোর সময়ও আপনার মন অন্য কোনো দুশ্চিন্তা বা ভাবনায় আটকে ছিল কি না, সেটিও শনাক্ত করার চেষ্টা করবে এই প্রযুক্তি।
আপাতত ডিভাইসটির অ্যাপ শুধু আইওএস ডিভাইসে ব্যবহার করা যাচ্ছে। অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারী জানতে পারবেন, তিনি কতটা মনোযোগী ছিলেন, মানসিক চাপের মধ্যে কেমন পারফর্ম করেছেন এবং চাপের পরিস্থিতি থেকে কত দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পেরেছেন।
দিনের বিভিন্ন সময়ে কী করছিলেন, সেটিও অ্যাপে নথিভুক্ত করা যাবে। পরে সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্যবহারকারী নিজেই বুঝতে পারবেন কোন পরিবেশ বা পরিস্থিতিতে তার পারফরম্যান্স ভালো হয়েছে এবং কোন পরিস্থিতিতে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়েছে।
অ্যাটলাসের মূল লক্ষ্য হলো, কোন ধরনের পরিবেশ ও পরিস্থিতি মানুষের কাছ থেকে সেরা পারফরম্যান্স বের করে আনে, তা শনাক্ত করা। ভবিষ্যতে সেই অভিজ্ঞতাগুলো আরও ভালোভাবে সামলাতে এই তথ্য কাজে লাগবে বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে ভয়েস সিগনেচার সংগ্রহের বিষয়টি গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। অ্যাটলাসের দাবি, ডিভাইসটি ব্যবহারকারীর কোনো কথোপকথন রেকর্ড করে না। বরং কোনো নির্দিষ্ট সময়ে ব্যবহারকারীর মানসিক অবস্থা বোঝার জন্য তার কথা বলার সক্রিয়তা ও ধরন বিশ্লেষণ করা হয়।
প্রযুক্তিটি এখনও একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ফলে মানুষের জীবনে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জন বা মানসিক সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে ‘অ্যাটলাস ১.০’ ঠিক কতটা কার্যকর হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
তবে দৈনন্দিন জীবনে ছোট ছোট উন্নতির দিকে নজর রাখা ব্যবহারকারীদের কথা মাথায় রেখে ইতোমধ্যে ডিভাইসটির প্রি-অর্ডার নেওয়া শুরু করেছে কোম্পানিটি। ‘অ্যাটলাস ১.০’ কিনতে খরচ হবে ৫০০ ডলার। পাশাপাশি সেন্সর ও আঠালো প্যাড সচল রাখতে প্রতি মাসে ৩০ ডলার সাবস্ক্রিপশন ফি দিতে হবে।

