Logo
Logo
×
   

Advertisement

বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি

ফোল্ডেবল আইফোন এনে বড় ঝুঁকি নিল অ্যাপল

Advertisement

Icon

আইটি ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৯ পিএম

ফোল্ডেবল আইফোন এনে বড় ঝুঁকি নিল অ্যাপল

Advertisement

অ্যাপলের নতুন প্রধান নির্বাহী জন টার্নাস দায়িত্ব নেওয়ার দ্বিতীয় সপ্তাহেই কোম্পানির গত দুই দশকের মধ্যে আইফোনে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি সামনে আনলেন। টিম কুকের পদত্যাগের পর অ্যাপলের শীর্ষ পদে আসা টার্নাস বুধবার কোম্পানির বার্ষিক পণ্য উন্মোচন অনুষ্ঠানে উন্মোচন করেছেন প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন।

বইয়ের মতো ভাঁজ করা যায় এমন নতুন এই আইফোনের নাম ‘ডুও’। এটি এখন পর্যন্ত অ্যাপলের সবচেয়ে বড় আইফোন সংস্করণ। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডুওর প্রাথমিক দাম ১ হাজার ৯৯৯ ডলার থেকে বেড়ে ৩ হাজার ২০০ ডলারে পৌঁছেছে। ফলে এটি শুধু আইফোন নয়, বাজারের অন্যতম দামি স্মার্টফোন হিসেবেও জায়গা করে নিতে পারে।

টার্নাস জানিয়েছেন, ডুও তৈরিতে আইপ্যাড থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি এর ভাঁজ করার প্রযুক্তিকে ‘সাবলীল এবং সম্পূর্ণ স্বজ্ঞামূলক’ বলে বর্ণনা করেছেন। অ্যাপলের ভেতরে ফোল্ডেবল ফোন তৈরির কাজ অবশ্য কয়েক বছর ধরেই চলছিল।

পুরোপুরি খুললে ডুও দেখতে অনেকটা ছোট আকারের আইপ্যাডের মতো। আর মাঝখান থেকে ভাঁজ করলে এটি প্রশস্ত আকৃতির আইফোনে পরিণত হয়।

অনুষ্ঠানে টার্নাস বলেন, বাজারে থাকা অন্যান্য ফোল্ডেবল স্মার্টফোনের মতো দেখতে বা অনুভূতিতে ডুওকে তৈরি করতে চায়নি অ্যাপল। তার মতে, প্রতিদ্বন্দ্বী ডিভাইসগুলো অনেক সময় ‘দুটো ফোন একসাথে জুড়ে দেওয়ার মতো মনে হয়... যার ফলে বড় স্ক্রিনটিকে অনেক ছোট দেখায়।’

অ্যাপলের নতুন এই ফোন সম্পর্কে টার্নাস বলেন, ডুও ‘ধারাবাহিক কিছু অসাধারণ উদ্ভাবনের ফল, যা আমাদের বিশ্বাস, ফোল্ডেবল ফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করবে।’

ফোল্ডেবল আইফোন তৈরির প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন টার্নাস। চলতি বছরের শুরুতে টিম কুকের উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত হওয়ার আগে তিনি দীর্ঘদিন অ্যাপলের হার্ডওয়্যার বিভাগের শীর্ষ নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এফডিএম সিসিএস ইনসাইটের প্রধান বিশ্লেষক বেন উড মনে করেন, টার্নাসকে অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী করার সময়টি সম্ভবত পরিকল্পিতভাবেই নির্ধারণ করা হয়েছিল। কারণ, তার মতে, এই পদোন্নতি ‘সম্ভবত বিগত বহু বছরের মধ্যে অন্যতম বৃহত্তম আইফোন উন্মোচনের সাথে মিলে যায়’।

উডের মন্তব্য, ‘অ্যাপলে কোনো কিছুই আকস্মিকভাবে ঘটে না।’

এদিকে বুধবারের পণ্য উন্মোচন অনুষ্ঠানে টার্নাসকে যেভাবে সামনে আনা হয়েছে, তা নিয়েও মন্তব্য করেছেন ক্রিয়েটিভ স্ট্র্যাটেজিসের বিশ্লেষক ক্যারোলিনা মিলানেসি। তার কাছে মনে হয়েছে, টার্নাসকে দেখে যেন মনে হচ্ছিল ‘তিনি নিজেই একটি পণ্য।’

২০০৭ সালে প্রথম আইফোন বাজারে আসার পর অ্যাপল নতুন কোনো বড় ধরনের সাফল্য বা যুগান্তকারী উদ্ভাবন দেখাতে পারেনি—এমন সমালোচনা দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। নতুন ফোল্ডেবল নকশা সেই সমালোচনার কিছুটা জবাব দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তবে এত উচ্চমূল্যের ফোল্ডেবল আইফোন অ্যাপলের জন্য বড় ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। ফরেস্টারের বিশ্লেষক দীপঞ্জন চ্যাটার্জির মতে, ‘ফোল্ডেবল ফোনটি পোর্টফোলিওতে একটি চড়া দামের অলঙ্কারে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যা কেবল ব্র্যান্ডের মর্যাদা বাড়ালেও অর্থপূর্ণ প্রবৃদ্ধি আনতে নাও পারে।’

এর আগে নতুন আইফোনের সর্বোচ্চ প্রারম্ভিক মূল্য ছিল ৯০০ ডলার। বুধবার অ্যাপল আইফোন ১৮ প্রো ও ১৮ প্রো ম্যাক্সও উন্মোচন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে মডেল দুটির দাম শুরু হচ্ছে যথাক্রমে ১ হাজার ১৯৯ ও ১ হাজার ২৯৯ ডলার থেকে।

চ্যাটার্জি মনে করেন, ফোল্ডেবল আইফোনের ভবিষ্যৎ অ্যাপলের ভিশন প্রো হেডসেটের মতোও হতে পারে। ৩ হাজার ৬৯৯ ডলার দামের ওই হেডসেটটি বাজারে আশানুরূপ জনপ্রিয়তা পায়নি। আবার এটি অ্যাপল ওয়াচের মতোও সফল হতে পারে—যেটি আইফোনের সমান জনপ্রিয় না হলেও প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষ কিনছেন।

তবে ফোল্ডেবল আইফোনের জনপ্রিয়তার পথে আরেকটি বড় বাধা হতে পারে প্রচলিত আইফোন ব্যবহারে মানুষের দীর্ঘদিনের অভ্যাস। নতুন ধরনের ডিভাইসে পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের সফটওয়্যার এবং নতুন ব্যবহারের পদ্ধতি শিখতে সময় লাগতে পারে।

মিলানেসিও বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, ‘ফোল্ডেবল ফোনগুলো আকর্ষণীয় ডিভাইস। অনেকেই এর প্রতি আগ্রহী, কিন্তু একটি প্রচলিত ফোন থেকে ফোল্ডেবল ফোনে স্থানান্তরিত হওয়ার ক্ষেত্রে সফটওয়্যার এবং শেখার প্রক্রিয়াটি বেশ কঠিন।’

তথ্যসূত্র: বিবিসি

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম