Logo
Logo
×
   

Advertisement

বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি

এআই যুগে টিকে থাকতে যা করবেন

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম

এআই যুগে টিকে থাকতে যা করবেন

Advertisement

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে টিকে থাকতে আপনাকে নিজের দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

কারণ এআইকে প্রতিদ্বন্দ্বী না ভেবে নিজের সহযোগী হিসেবে ব্যবহার করা শিখতে হবে। এআই সরাসরি আপনার চাকরি কেড়ে নেবে না; বরং যে ব্যক্তি এআই ব্যবহার করতে জানেন, তিনি হয়তো এআই না জানা ব্যক্তির জায়গাটি দখলে নিয়ে নেবেন। সুতরাং এআই আপনাকে জানতেই হবে; এ ছাড়া আপনার আগামীর জীবন অন্ধকার থেকে যাবে। 

আমাদের সবচেয়ে গভীর আবেগের জন্ম হয় আজীবন অর্জিত অভিজ্ঞতা থেকে। কিছু ছোট ছোট সাফল্য ও ব্যর্থতার পুঞ্জীভূত অভিজ্ঞতা, কিছু দারুণ মুহূর্ত কিংবা কিছু তীব্র কষ্টের এক ভাণ্ডার থেকে। একজন মানুষ যখন সত্যিকার অর্থে কোনো মেলবন্ধন কিংবা সংযোগ ঘটাতে চায়, ঠিক তখনই এআইয়ের সরবরাহ করা সাবলীল টেক্সট ছাড়াও আরও কিছুর প্রয়োজন হয়। জেনারেটিভ এআই সিস্টেমগুলো এখন গান লিখছে, উপন্যাস লিখছে। এ কাজগুলো কি শোনার কিংবা পড়ার যোগ্য হবে? 

সম্ভবত হবে। কারণ আমাকে বলবেন না যে, জেনারেটিভ এআই স্বয়ংক্রিয়ভাবে এমন কোনো কাজ করবে, যা আমার অন্তরের সঙ্গে গভীরভাবে মিশে যাবে। জেনারেটিভ এআইয়ের কোনো জীবন্ত অভিজ্ঞতা কিংবা বাস্তবজীবন নেই। এটি একটি ভুয়া জীবনের অভিনয় করতে পারে, কিন্তু ভুয়া জীবনের কোনো ভুয়া সঙ্গী কেই বা চায়? আমি বিশ্বাস করি এমন কিছু পেশা কিংবা চাকরি থেকেই যাবে। যেখানে মানুষের সঙ্গে মানুষের গভীর সংযোগ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ধরনের নতুন আরও চাকরি তৈরি হবে।  সেগুলো হারিয়ে যাবে না। ভবিষ্যতে সেসবের সংখ্যা আরও বাড়বে। মানুষের মানুষকে প্রয়োজন হবে। তাই গ্র্যাজুয়েটরা— আমরা মাঝেমধ্যে বিভ্রান্ত হব, ভীত হব— এটা হয়তো এড়ানো সম্ভব না। 

এর আগে ২০১৬ সালে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী কম্পিউটার বিজ্ঞানীর স্বীকৃতি পাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলির তড়িৎ প্রকৌশল ও কম্পিউটার বিজ্ঞান এবং পরিসংখ্যান বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক মাইকেল আরউইন জর্ডান গত মে মাসে ওই বিশ্ববিদ্যালয়েই সমাবর্তন বক্তব্য দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি তার সেই বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। সেখানেই তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। 

কম্পিউটার বিজ্ঞান ও পরিসংখ্যান বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক মাইকেল আরউইন জর্ডানের নির্বাচিত অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো—

তিনি বলেন, ২০২৬ সালের গ্র্যাজুয়েটরা, তোমাদের শুভেচ্ছা। একই সঙ্গে সমবেদনাও জানাচ্ছি। এমন এক জটিল সময়ে তোমরা বড় হচ্ছ, যে সময় দ্রুতই বদলে যাচ্ছে। এ মুহূর্তে ভবিষ্যদ্বাণী করা যেমন কঠিন, ঠিক তেমনই দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়াও বেশ কঠিন। কারণ এই জন্য— একজন বিখ্যাত পরিসংখ্যানবিদের একটি গল্প আছে। জীবনের একটা সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে তিনি দ্বিধায় পড়েছিলেন—পূর্ব উপকূলে থাকবেন, নাকি পশ্চিম উপকূলে চলে যাবেন! সেই সময় এক সহকর্মী তাকে বললেন, ‘তুমি তো পরিসংখ্যান বিশেষজ্ঞ! তুমি তো জানোই যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো সম্ভাব্য সব পরিণতি বিবেচনা করে সেটাই বেছে নেওয়া, যেটার উপযোগিতা সর্বোচ্চ।’ পরিসংখ্যানবিদ বললেন, ‘তুমি বুঝতে পারছ না। এটা বাস্তবজীবন।’

ইমেরিটাস অধ্যাপক মাইকেল আরউইন জর্ডান বলেন, অনেক দিন আগে কালের অতলে হারিয়ে যাওয়া আমার নিজের সমাবর্তনের কথা বলি। সমাবর্তনের বিশেষ টুপি আর গাউন পরে বসেছিলাম। এমন সময় পাশে একজনকে আবিষ্কার করলাম, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের চার বছরেও যার সঙ্গে কখনো দেখা হয়নি। আমরা কথা শুরু করলাম। 

তিনি বলেন, একটা সময় মনে হলো—আমাদের কত পুরোনো বন্ধুত্ব. যেন অনেক দিনের সম্পর্ক। একদিকে সমাবর্তনের বোরিং বক্তৃতা চলছিল, অন্যদিকে আমরা আমাদের আশা, ভয়, অভিজ্ঞতা আর পরিবার নিয়ে কথা বলছিলাম। তারপর আবার যে যার পথে চলে গেলাম। সাধারণত বিচ্ছেদের সময় যে দুঃখবোধ থাকে, তার কিছুই সেখানে ছিল না। পরিস্থিতি আর পরিবেশটা যদি ঠিক হয়, তাহলে দুজন মানুষের সংযোগ অপ্রত্যাশিতভাবেই কতটা গভীর হতে পারে, সেদিন বুঝেছিলাম। কেউ কেউ বলেন, এআই এমন এক নতুন যুগ নিয়ে আসবে, যা আমাদের সবচেয়ে কঠিন সমস্যাগুলো সমাধান করে দেবে। আবার কেউ বেউ বলেন, এটা মানবজাতিকে ক্রীতদাস বানিয়ে ফেলবে। এসব শুনে বিভ্রান্ত হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।

ইমেরিটাস অধ্যাপক বলেন, এআই প্রযুক্তির প্রথমে সায়েন্স ফিকশনের মতো অবাক করা কিছু অগ্রগতির কথা তুলে ধরা। তারপর দুশ্চিন্তার বিষয়গুলোতে আসা। তবে আজ আমি ক্রমটা উল্টে দিতে চাই। কারণ এআই নিয়ে শঙ্কার শেষ নেই। তিনি বলেন, প্রথমত এটা স্পষ্ট যে, আগামী দশকে বহু চাকরি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। কারণ এমনভাবে বদলে যাবে, যা আগে থেকে অনুমান করা খুব কঠিন। এর মধ্যে কম্পিউটার প্রোগ্রামারের চাকরিও আছে! অথচ এক দশক আগেও আমরা এটাকে সবচেয়ে নিরাপদ চাকরি মনে করতাম।

অধ্যাপক মাইকেল আরউইন জর্ডান বলেন, দ্বিতীয়ত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে একদম আমূল বদলে ফেলা প্রয়োজন। সদ্য গ্র্যাজুয়েট হিসেবে কথাটা হয়তো তোমাদের জন্য বেশ উদ্বেগের। তবে আশা করি তোমরা এতদিনে বুঝে ফেলেছ, শিক্ষা এমন কোনো বিষয় নয় যা একবার শেষ করলেই চুকে যায়। এ ছাড়া প্রযুক্তির এই পরিবর্তনের সময়ে শুরুর দিকে বৈষম্য বেশ প্রকট হবে। আমরা এখন যে বৈষম্য দেখছি, সম্পদের বৈষম্য তারচেয়েও বাড়বে। সুযোগের বৈষম্য তৈরি হবে। এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া লেখা ও ছবির বিস্তার বর্তমানে আমাদের সমাজকে ব্যাহত করছে। ভবিষ্যতেও এটা চলতে থাকবে।

তিনি বলেন, এ সমস্যাগুলোর কারণে সারাবিশ্বেই গণতন্ত্র— এমনকি এর অস্তিত্বই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। শ্রমবাজারের তোলপাড়, বৈষম্য ও ভুল তথ্যের ওপর ভর করেই গণতন্ত্রবিরোধী আন্দোলনগুলো ডালপালা মেলবে। বাস্তবতার এই অস্বস্তিকর তালিকা দেখে মনে হতেই পারে— এত প্রযুক্তির দরকারই বা কি? আমি ১৯৬০-এর দশকে বড় হয়েছি। তাই এ ধরনের প্রতিক্রিয়া আমার মধ্যে খুব স্বাভাবিকভাবেই আসে। তবে আমি বলব— প্রযুক্তির অগ্রগতি আদতে আমাদের প্রয়োজন আছে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম