আল জাজিরা এক্সপ্লেইনার
মার্কিন প্রসিকিউটররা কেন হুয়াওয়েকে ‘অপরাধমূলক প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে অভিহিত করেছেন?
Advertisement
আইটি ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৬ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রযুক্তিগত দ্বন্দ্বের জেরে এবার দেশটির আদালতে ঐতিহাসিক ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হয়েছে চীনের প্রযুক্তি জায়ান্ট হুয়াওয়ে। নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের একটি ফেডারেল আদালতে গত ৯ সেপ্টেম্বর এই বিচারকাজ শুরু হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিকিউটররা হুয়াওয়েকে একটি অপরাধমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের অভিযোগ, গত দুই দশক ধরে মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রযুক্তি চুরি, ব্যাংকগুলোর সঙ্গে প্রতারণা এবং ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল এই চীনা প্রতিষ্ঠানটি।
তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে হুয়াওয়ে জানিয়েছে, সাধারণ ব্যবসায়িক বিরোধ এবং কিছু কর্মীর ব্যক্তিগত ভুলকে পুরো কোম্পানির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে মার্কিন সরকার। প্রায় তিন মাস ধরে এই বিচারকাজ চলার কথা রয়েছে।
হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে আনা প্রধান অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে মার্কিন কোম্পানিগুলোর সোর্স কোড ও রোবোটিক প্রযুক্তির মতো গোপনীয় ট্রেড সিক্রেট বা তথ্য চুরি করা। এ ছাড়া মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরানে ব্যবসা পরিচালনা এবং আর্থিক লেনদেন গোপন করার অভিযোগও আনা হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।
এমনকি ২০০৯ সালে ইরানের বিক্ষোভের সময় দেশটির কর্তৃপক্ষকে সাধারণ নাগরিকদের ওপর নজরদারি করতে হুয়াওয়ে সহায়তা করেছিল বলেও দাবি করেছেন প্রসিকিউটররা।
তবে টেলিকম সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক এই কোম্পানিটি জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এটি কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নয়, বরং স্বাভাবিক ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা ও উদ্ভাবনের ফল।
অন্যদিকে, চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মার্কিন এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে এবং চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈধ অধিকার রক্ষায় বেইজিং সবসময় পাশে থাকবে বলে জানিয়েছে।
চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফরের ঠিক আগ মুহূর্তে এই বিচার শুরু হলো।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টেলিকম ও ফাইভ-জি ছাড়িয়ে এই প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সেমিকন্ডাক্টরের ক্ষেত্র পর্যন্ত বিস্তার লাভ করেছে।
একপাশ থেকে যুক্তরাষ্ট্র যেমন উন্নত চিপ সরবরাহে কড়াকড়ি আরোপ করেছে, তেমনই চীনও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করছে।

