কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চেতনা ভবিষ্যতে কি নতুন বিভাজনের জন্ম দেবে?
Advertisement
আইটি ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৬ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সচেতন কিনা এ নিয়ে আলোচনা দিন দিন বাড়ছে। একাডেমিক গবেষণা, সংবাদপত্রের মতামতধর্মী লেখা থেকে শুরু করে এআই বটগুলোর নিজেদের কথাবার্তাতেও বিষয়টি উঠে আসছে। এ আগ্রহ সাময়িক কোনো প্রবণতা নয় বলেই মনে হচ্ছে।
এআই যত বেশি সক্ষম ও মানুষের মতো হয়ে উঠছে, আর আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যত বেশি যুক্ত হচ্ছে, ততই একটি প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে—এআই কি কখনো সচেতন সত্তায় পরিণত হতে পারে?
এ নিয়ে মানুষের মতভেদও স্পষ্ট। কেউ মনে করেন, ভবিষ্যতের এআই সচেতন হতে পারে এবং তার অনুভূতির নৈতিক মূল্য থাকবে। আবার কেউ মনে করেন, যন্ত্রের পক্ষে মানুষের মতো চেতনাসম্পন্ন হওয়া সম্ভব নয়।
ভবিষ্যতে এআই কখনো সচেতন হতে পারবে কিনা এ নিয়ে একটি গবেষণা করা হয়েছিল। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের ৪৫ শতাংশ মনে করেন, এটি অসম্ভব। ২৩ শতাংশ মনে করেন, এটি সম্ভব। আর বাকিরা নিশ্চিত নন।
সচেতন এআই হলে কী বদলাবে?
কম্পিউটারের মাধ্যমে যদি সত্যিই সচেতন কোনো সত্তা তৈরি করা সম্ভব হয়, তাহলে সেটি হবে এক যুগান্তকারী ঘটনা। মানুষ তখন এমন এক নতুন ধরনের সত্তা সৃষ্টি করবে, যার অনুভূতি ও অভিজ্ঞতার নৈতিক মূল্য থাকতে পারে। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলতে পারব, একসঙ্গে কাজ করতে পারব, এমনকি বন্ধুত্বও গড়ে উঠতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে এসব সত্তা একদিন মানুষের চেয়েও বেশি বুদ্ধিমান ও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।
এ কারণে বিষয়টি নিয়ে মানুষের গভীর উদ্বেগ থাকা স্বাভাবিক। বিশেষ করে এআইয়ের সঙ্গে মানুষের আবেগগত সম্পর্ক যত বাড়বে, বিতর্কও তত জটিল হতে পারে।
মানুষের মতো কথা বললেই কি এআই সচেতন?
এআইয়ের চেতনা নিয়ে সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হলো, কোনো সিস্টেমকে সচেতন মনে হওয়া আর সত্যিই সচেতন হওয়া এক বিষয় নয়।
এআই মানুষের লেখা বিপুল পরিমাণ তথ্য থেকে শেখে। তাই তার নিজের কোনো অনুভূতি না থাকলেও সে অনুভূতি, কষ্ট, আনন্দ বা ভালোবাসা নিয়ে অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্যভাবে কথা বলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও মতভেদ
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিশেষজ্ঞদের ওপর নির্ভর করা স্বাভাবিক। কিন্তু সমস্যা হলো, বিশেষজ্ঞরাও একমত নন। স্নায়ুবিজ্ঞানী অনিল শেঠ মনে করেন, চেতনার জন্য হয়তো জৈবিক ভিত্তি প্রয়োজন। তার মতে, শুধু কম্পিউটেশন বা গণনাপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে চেতনার উদ্ভব হওয়ার সম্ভাবনা কম।
অন্যদিকে দার্শনিক ডেভিড চালমার্স মনে করেন, নীতিগতভাবে সচেতন এআই সম্ভব। এমনকি বর্তমান এআই সিস্টেমগুলোর কোনোটি ইতোমধ্যে সচেতন হওয়ার সামান্য সম্ভাবনাও তিনি উড়িয়ে দেন না।
রাজনীতিতে ঢুকে পড়লে বিতর্ক আরও জটিল হতে পারে
এখন পর্যন্ত এআইয়ের চেতনা নিয়ে বিতর্ক কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা মতাদর্শের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়। তবে রাজনৈতিক দল কিংবা ধর্মীয় নেতারা যদি ভবিষ্যতে এ বিষয়ে শক্ত অবস্থান নেন, তাহলে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে।
মানুষ যদি মনে করতে শুরু করে, একটি মতামত আমাদের পক্ষের আর অন্যটি ওদের পক্ষের, তাহলে বিতর্কটি আরও মেরুকরণ হতে পারে। তখন এআই কীভাবে তৈরি ও ব্যবহার করা উচিত, সে বিষয়ে তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
সবচেয়ে বড় কথা, এআই সচেতন হতে পারে কিনা—এখনও আমরা তা জানি না। আর এই অনিশ্চয়তাটুকু স্বীকার করাই হতে পারে বিতর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শুরু।
