কয়েন কেটে নকশা করা হয় কেন
Advertisement
আইটি ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কয়েন কেটে কেনো নকশা করা হয়। এর নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে শতাব্দীর পুরনো এক চাঞ্চল্যকর ইতিহাস।
পকেটে থাকা খুচরা পয়সাগুলো ভালো করে লক্ষ্য করলে দেখবেন, কয়েনের কিনারা সূক্ষ্ম খাঁজ কাটা আছে। অনেকেই ভাবেন এটি নিছকই কোনও সাধারণ নকশা, কিন্তু এর পেছনে লুকিয়ে আছে শতাব্দীর পুরনো এক ইতিহাস।
ষোড়শ শতকের ইউরোপে এই খাঁজ কাটা কয়েনের ইতিহাস শুরু হয়েছিল বলে জানা যায়। সেই যুগে মুদ্রা তৈরি হত খাঁটি সোনা এবং রুপো দিয়ে, যার ফলে ধাতু হিসেবে কয়েনগুলির বেশ ভালোই মূল্য ছিল। আর এই মূল্যবান ধাতুর লোভেই তখন একদল অসাধু মানুষ এক অভিনব জালিয়াতির পথ বেছে নিয়েছিল।
জালিয়াতরা কয়েনের ধার থেকে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে কিছুটা ধাতু কেটে নিত, যা খালি চোখে ধরা পড়ত না। এই পদ্ধতিকে সেই সময় 'কয়েন ক্লিপিং' বলা হত এবং এই কাটা অংশ তারা নিজেদের কাছে রেখে দিত। এর ফলে বাজারে যে মুদ্রাগুলি ঘুরত, তার ওজন আসল ওজনের চেয়ে বেশ কিছুটা কমে যেত।
খুব দ্রুত এই জালিয়াতি এক বড়সড় অর্থনৈতিক সঙ্কটের আকার ধারণ করে এবং সাধারণ মানুষ মুদ্রার আসল মূল্য নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়ে। এই সমস্যা মেটাতেই সরকার কয়েনের ধারে নকশা বা খাঁজ কাটার সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে কেউ কয়েনের ধার কাটলেই সেই নকশা নষ্ট হয়ে যেত এবং জালিয়াতি সহজেই ধরা পড়ত।
বর্তমানে আর সোনা বা রুপোর মুদ্রা তৈরি হয় না, তার বদলে শঙ্কর ধাতু ব্যবহার করা হয়। তাই এখন আর কয়েনের ধার কেটে ধাতু চুরি করার কোনও মানেই হয় না। তবুও আধুনিক যুগেও কয়েনের ধারে এই খাঁজ কাটা নকশা কিন্তু পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি।
এর পিছনে একটি বড় কারণ হল ঐতিহ্য, যা যুগের পর যুগ ধরে মুদ্রা তৈরির ক্ষেত্রে মান্যতা পেয়ে এসেছে। তাছাড়া এই খাঁজকাটা নকশার কারণে কয়েন হাতে ধরতেও বেশ সুবিধা হয়। ভিজে বা ঠান্ডায় জমে যাওয়া হাত থেকে মসৃণ কয়েন সহজেই পিছলে যেতে পারে, কিন্তু খাঁজ থাকলে গ্রিপ ভালো হয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল দৃষ্টিহীন মানুষদের সাহায্য করা। অনেক দেশে বেশি মূল্যের কয়েনগুলিতে খাঁজ থাকে এবং কম মূল্যের কয়েনগুলি মসৃণ হয়। পকেটে হাত দিয়ে শুধুমাত্র স্পর্শ করেই দৃষ্টিহীনরা এর মাধ্যমে খুব সহজেই বুঝতে পারেন যে তারা কত টাকার মুদ্রা হাতে নিয়েছেন।
এছাড়াও আধুনিক যুগে জাল মুদ্রা তৈরি রুখতেও এই খাঁজকাটা নকশা একটি অতিরিক্ত সুরক্ষার স্তর হিসেবে কাজ করে।
