ফোন ধীর হয়ে যাচ্ছে? স্মার্টফোনের ১০ সেটিংস বদলেই বাড়বে গতি ও নিরাপত্তা
Advertisement
আইটি ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৬ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
স্মার্টফোনে নিয়মিত নানা ধরনের অ্যাপ ব্যবহার, অতিরিক্ত নোটিফিকেশন ও ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকা প্রসেসের কারণে অনেক সময় ফোনের গতি কমে যায়। একই সঙ্গে দ্রুত ব্যাটারি শেষ হওয়া, ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তা কিংবা অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের ব্যবহারও বিরক্তির কারণ হতে পারে। তবে ফোনের সেটিংসে থাকা কয়েকটি ফিচার ঠিকভাবে ব্যবহার করলে এসব সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন ১০টি গুরুত্বপূর্ণ ফিচার ও সেগুলো চালুর পদ্ধতি।
১. ব্যাকগ্রাউন্ডে চলা অ্যাপ সীমিত করুন
ফোনের Settings থেকে About Phone-এ গিয়ে Build Number-এ টানা সাতবার ট্যাপ করলে Developer Options চালু হবে। এরপর Developer Options-এ গিয়ে Background Process Limit নির্বাচন করে ‘At most 2 or 3 processes’ সেট করা যায়।
এতে ব্যাকগ্রাউন্ডে একসঙ্গে চলা অ্যাপের সংখ্যা কমে এবং র্যামের ওপর চাপ কিছুটা কমতে পারে। তবে মিউজিক প্লেয়ার বা কোনো অ্যাপে ডাউনলোড চলমান থাকলে সেটি বন্ধ বা বিরতিতে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
২. মুছে ফেলা নোটিফিকেশনও দেখুন
গুরুত্বপূর্ণ কোনো নোটিফিকেশন ভুল করে মুছে ফেললে অনেক সময় সেটি আর খুঁজে পাওয়া যায় না। এ সমস্যা এড়াতে Settings > Notifications > Advanced Settings বা More Settings থেকে Notification History চালু করা যায়।
ফিচারটি সক্রিয় থাকলে গত ২৪ ঘণ্টায় আসা নোটিফিকেশনগুলো পরে দেখা সম্ভব হবে।
৩. প্রাইভেট ডিএনএস ব্যবহার করুন
কিছু ওয়েবসাইট ও অ্যাপে বিজ্ঞাপন এবং ট্র্যাকার কমাতে Private DNS ব্যবহার করা যেতে পারে। এজন্য Settings > Connections বা Network & Internet > Private DNS-এ গিয়ে Private DNS provider hostname নির্বাচন করুন। এরপর dns.adguard.com লিখে সেভ করা যায়।
তবে কোনো পাবলিক ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে সংযোগের সমস্যা হলে প্রয়োজনে সেটি সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হতে পারে।
৪. অ্যানিমেশন কমিয়ে ফোনকে দ্রুত মনে করান
ফোনের Developer Options থেকে Window animation scale, Transition animation scale এবং Animator duration scale—এই তিনটি অপশন ১x থেকে ০.৫x করা যায়।
এতে বিভিন্ন অ্যানিমেশন দ্রুত শেষ হওয়ায় ফোনে অ্যাপ খোলা বা বন্ধ করার সময় সেটি তুলনামূলক দ্রুত মনে হতে পারে। এতে ফোনের কোনো ডেটা মুছে যায় না।
৫. লোকেশন হিস্ট্রি নিয়ন্ত্রণ করুন
গোপনীয়তা বাড়াতে গুগলের লোকেশন হিস্ট্রি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এজন্য Settings > Google > Manage your Google Account > Data & Privacy-এ গিয়ে Location History বা Timeline অপশন থেকে এটি Pause বা Turn off করা সম্ভব।
লোকেশন হিস্ট্রি বন্ধ করলেও প্রয়োজন অনুযায়ী ম্যাপস বা অন্য নেভিগেশন অ্যাপে বর্তমান অবস্থান ব্যবহার করা যেতে পারে।
৬. দ্রুত ফাইল পাঠাতে ব্যবহার করুন কুইক শেয়ার
ছবি, ভিডিওসহ বিভিন্ন ফাইল কাছাকাছি থাকা ডিভাইসে দ্রুত পাঠাতে Quick Share ব্যবহার করা যায়। নোটিফিকেশন প্যানেল থেকে Quick Share চালু করে Who can share with you অপশনে ‘Everyone for 10 minutes’ অথবা ‘Contacts only’ নির্বাচন করা যায়।
নিরাপত্তার জন্য সাধারণ ব্যবহারে ‘Contacts only’ নির্বাচন করে রাখা ভালো। এতে অপরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে অপ্রত্যাশিত ফাইল শেয়ার রিকুয়েস্ট আসার সম্ভাবনা কমে।
৭. লকস্ক্রিনে ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখুন
ফোন লক থাকা অবস্থায় মেসেজ, ব্যক্তিগত চ্যাট বা ওটিপির মতো সংবেদনশীল তথ্য যেন স্ক্রিনে দেখা না যায়, সেজন্য Settings > Lock Screen বা Security থেকে Notifications অপশনে যান।
সেখানে Hide content বা Don’t show sensitive content চালু করলে ফোন লক থাকা অবস্থায় নোটিফিকেশনের বিস্তারিত তথ্য গোপন থাকবে।
৮. অব্যবহৃত অ্যাপের পারমিশন বন্ধ করুন
দীর্ঘদিন ব্যবহার না করা অ্যাপের ক্যামেরা, মাইক্রোফোনসহ বিভিন্ন সংবেদনশীল পারমিশন অপ্রয়োজনীয়ভাবে চালু থাকতে পারে। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে Settings > Apps থেকে নির্দিষ্ট অ্যাপ নির্বাচন করে Permissions-এ যেতে হবে।
সেখানে Remove permissions if app isn’t used বা Pause app activity if unused অপশন থাকলে সেটি চালু করা যায়। পরে অ্যাপটি ব্যবহার করতে গেলে প্রয়োজনীয় পারমিশন আবার দিতে হতে পারে।
৯. পড়াশোনা ও কাজের সময় ফোকাস মোড চালু করুন
অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার কমাতে Settings > Digital Wellbeing & Parental Controls > Focus Mode-এ যান।
এখানে মনোযোগ নষ্ট করে এমন অ্যাপ নির্বাচন করে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য শিডিউল করা যায়। ফোকাস মোড চালু থাকলে নির্বাচিত অ্যাপের নোটিফিকেশন বন্ধ থাকে এবং সেগুলো ব্যবহারে বাধা দেওয়া হয়।
১০. ফোন হারালে খুঁজে পেতে ফাইন্ড মাই ডিভাইস
স্মার্টফোন হারিয়ে গেলে সেটি খুঁজে পেতে আগে থেকেই Find My Device চালু রাখা গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত Settings > Security & Privacy > Find My Device থেকে ফিচারটি সক্রিয় করা যায়।
ফোন হারানো বা চুরি হলে গুগল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ফোনের অবস্থান শনাক্ত করা, দূর থেকে রিং বাজানো, ফোন লক করা এবং প্রয়োজন হলে ডেটা মুছে ফেলার সুবিধা পাওয়া যায়।
তবে এসব সুবিধা ঠিকভাবে ব্যবহারের জন্য ফোনে পর্যাপ্ত ব্যাটারি, ইন্টারনেট সংযোগ এবং প্রয়োজনীয় লোকেশন ও নেটওয়ার্ক সেটিংস সক্রিয় থাকা জরুরি। ফোনের ব্র্যান্ড ও অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণভেদে অপশনগুলোর নাম বা অবস্থান কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।
