জনবল সংকটে চট্টগ্রামের ১০ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল

আন্তর্জাতিক বাজারে মন্দাভাব

  এমএ কাউসার, চট্টগ্রাম ব্যুরো ০৬ মার্চ ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দক্ষ জনবল সংকটসহ নানা সমস্যায় ভুগছে চট্টগ্রামে রাষ্ট্রায়ত্ত ১০ পাটকল। এছাড়া সময়মতো পাট সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না অর্থের অভাবে। আর যখন পাট ক্রয়ে অর্থ ছাড় দেয়া হয় তখন তুলনামূলক খারাপ মানের পাট কিনতে হয় বেশি দামে। ফলে বিদেশের বাজারে ভালো মানের পাটজাত পণ্য রফতানি করা যাচ্ছে না। এতে পাটজাত পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তে অনেকটা স্থানীয় বাজারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে পাটজাত পণ্য রফতানিতে দেখা দিয়েছে মন্দাভাব। ফলে চট্টগ্রামের ১০টি পাটকলের গুদামে অবিক্রীত পড়ে রয়েছে রফতানিযোগ্য পাটজাত পণ্য। বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশনের (বিজেএমসি) অধীনে ৩টি ননজুট প্রতিষ্ঠানসহ ২৬টি মিল রয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে আছে ১০টি। এদিকে গত বছর চালের বাজার ঊর্ধ্বগতির ফলে ব্যবসায়ীদের আবেদনে পণ্য মোড়কীকরণে ৩ মাসের জন্য পাটের বস্তার ব্যবহার শিথিল করেছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই সময়সীমা দেয়া হয়। এই সময় পার হলেও চলতি বছরের প্রথম দু’মাসে এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সংশ্লিষ্টরা। অথচ বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মতে ১৭টি পণ্য মোড়কীকরণে পাটের বস্তার ব্যবহার বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশন (বিজেএমসি) সূত্র জানায়, এ সংস্থার অধীনে ২৬টি মিলের মধ্যে ঢাকা অঞ্চলের অধীনে ৭টি, চট্টগ্রাম অঞ্চলের অধীনে ১০টি এবং খুলনা অঞ্চলের অধীনে ৯টি মিল রয়েছে। চট্টগ্রামে পাটকলগুলোর মধ্যে রয়েছে- আমিন জুট মিলস লিমিটেড ও ওল্ড ফিল্ডস লিমিটেড, গুল আহমেদ জুট মিলস লিমিটেড, হাফিজ জুট মিলস লিমিটেড, এমএম জুট মিলস লিমিটেড (পরীক্ষামূলকভাবে চালু), আর আর জুট মিলস লিমিটেড (পরীক্ষামূলকভাবে চালু), বাগদাদ-ঢাকা কার্পেট ফ্যাক্টরি লিমিটেড, কর্ণফুলী জুট মিলস লিমিটেড, ফোরাত কর্ণফুলী কার্পেট ফ্যাক্টরি, গালফ্রা হাবিব লিমিটেড (নন-জুট), মিলস ফার্নিসিং লিমিটেড (নন-জুট)। পাটকলে প্রধানত হেসিয়ান কাপড়, ব্যাগ, বস্তার কাপড়, বস্তা, সুতা, কম্বল, মোটা কাপড়, সিবিসি পণ্য তৈরি করা হয়। সূত্র আরও জানায়, বিশ্ব বাজারে আগের তুলনায় পাটের বাজার সংকুচিত হয়ে পড়েছে। গত কয়েক বছর ধরে ইরান, সৌদি আরব, সিরিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশের বাজার বন্ধ হয়ে গেছে। অন্যদিকে বছরের জুলাই থেকে আগস্ট মাসে পাটের মৌসুম শুরু হয়। সেই সময় সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে অর্থছাড় হয় না। অর্থের অভাবে পাটের মৌসুমে পাট কিনতে না পারার কারণে পরবর্তীতে অধিক মূল্যে কিনতে হয়। এতে করে পণ্যের উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রামে দীর্ঘ সময় বিজেএমসি নিয়ন্ত্রণাধীন রাষ্ট্রায়ত্ত পাটজাত পণ্য নির্মাতা শিল্পপ্রতিষ্ঠান আমিন জুট মিলের ছয়টি ইউনিটের মধ্যে দুটি ইউনিট সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। নানামুখী সংকটে খুঁড়িয়ে চলছে চারটি ইউনিট। ফলে দিন দিন সক্ষমতা হারাচ্ছে মিলটি। যেখানে প্রতিদিন একশ’ মেট্রিক টন পাটজাত পণ্য উৎপাদিত হতো, এখন সেখানে উৎপাদন হচ্ছে ৩২ মেট্রিক টন। ২০০০ সালের দিকেও প্রায় ১৫ হাজার শ্রমিক কাজ করত এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানে। কিন্তু পরবর্তীতে কিছু কিছু মেশিন বন্ধ ও নানা কারণে শুরু হয় মিলটির দৈন্যদশা। মিলে দক্ষ জনবলের অভাব এ মুহূর্তে প্রকট। বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশন চট্টগ্রামের আঞ্চলিক কর্মকর্তা জোৎস্না আফরোজ সোমবার যুগান্তরকে বলেন, ‘গত বছর থেকে জাতীয় পাট দিবস উদযাপন শুরু হয়েছে। দিবসটি সফল করতে এবং এর যথাযথ তাৎপর্য সবার কাছে পৌঁছে দিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×