Logo
Logo
×
   

Advertisement

রাজধানীর খবর

হাসান ইমামের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

Advertisement

Icon

সাংস্কৃতিক রিপোর্টার

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০১৯, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

হাসান ইমামের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

শিল্পকলায় রোববার সৈয়দ হাসান ইমামের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে অতিথিরা। ছবি: যুগান্তর

Advertisement

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক আন্দোলন ও বিকাশের পথে একজন জীবন্ত কিংবদন্তিতুল্য ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম। তার আত্মজীবনীমূলক বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠান হয়ে গেল রোববার।

আরও ছিল তার ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্রের উদ্বোধনী প্রদর্শনী। একইসঙ্গে ছিল সৈয়দ হাসান ইমাম ও তার স্ত্রী লায়লা হাসানের ৫৪তম বিবাহবার্ষিকী।

পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্সের আয়োজনে রোববার সম্মিলিতভাবে উদযাপন করলেন তার পরিবার-পরিজন, বন্ধু-শুভার্থীরা।

আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘আকাশ আমায় ভরলো আলোয়’ প্রকাশ করেছে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স। আর প্রামাণ্যচিত্র ‘বিনম্র মানুষ বিক্ষুব্ধ শিল্পী’ নির্মাণ করেছেন হাসান ইমামের মেয়ে সঙ্গীতা ইমাম।

শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সৈয়দ হাসান ইমামকে নিয়ে আলোচনা করেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসিরউদ্দিন ইউসুফ, প্রাবন্ধিক মোনায়েম সরকার, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, সৈয়দ হাসান ইমামের স্ত্রী লায়লা হাসান, প্রাবন্ধিক নূহ-উল আলম লেনিন, উদীচীর সহসভাপতি মাহমুদ সেলিম, নাট্যজন গোলাম রব্বানী, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্সের চেয়ারম্যান কামরুল হাসান শায়ক, মারুফ রসূল প্রমুখ।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন সৈয়দ হাসান ইমামের মেয়ে সঙ্গীতা ইমাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক রতন সিদ্দিকী।

অনুষ্ঠান শুরু হয় খেলাঘরের শিশুদের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। পরে খেলাঘরের পক্ষ রেথকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় সৈয়দ হাসান ইমাম ও লায়লা হাসানকে। এছাড়াও শুভেচ্ছা জানানো হয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে।

সৈয়দ হাসান ইমাম বলেন, আমার জীবনে কোনো আকাক্সক্ষা ছিল না। কিছু হতে চাইনি কখনও। ফুটবল, ক্রিকেট দুটোই পশ্চিমবঙ্গের দলের হয়ে খেলেছি।

যেহেতু বড় হওয়ার আকাক্সক্ষা ছিল না কোনোদিন। তাই কোনো কাজ ছাড়তে ও ধরতে কোনো কষ্ট হয়নি। তবে আমার সৌভাগ্য যখন যা করতে চেয়েছি তা করতে পেরেছি।

তার স্ত্রী লায়লা হাসান বলেন, তার কাজের জগৎ নিয়ে সবাই বললেন, আমরা জানি, স্বামী হিসেবে বাবা হিসেবে তিনি তুলনাহীন।

আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, বইটি পড়ে আমার খুব ভালো লেগেছে। তিনি যেটাকে আদর্শ মনে করেন তা তিনি যে কোনোভাবে পালন করেন। এটা তার চরিত্রের অত্যন্ত দৃঢ়তর একটি দিক।

নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বলেন, একজন মানুষ যিনি রাজনৈতিক দীক্ষার সঙ্গে সাংস্কৃতিক প্রেরণাকে যুক্ত করেছিলেন। আমাদের প্রজন্মের মুক্তিযোদ্ধারা সৈয়দ হাসান ইমামের প্রতি কৃতজ্ঞ।

তার প্রেরণা আমাদের মুক্তিযুদ্ধে বিশাল অবদান রেখেছিল। গ্রুপ থিয়েটার আন্দোলনে সৈয়দ হাসান ইমামের অবদান বাদ দিয়ে এ দেশের নাটকের ইতিহাস লেখা যাবে না। তাদের সাংস্কৃতিক আন্দোলন আমাদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল।

নূহ-উল আলম লেনিন বলেন, তার জীবন আমাদের কাছে শিক্ষণীয় ও প্রেরণার উৎস। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জগতে যে কজন বিরলপ্রজ মানুষ রয়েছেন তাদের মধ্যে হাসান ইমাম সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব।

গোলাম কুদ্দুছ বলেন, বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। কোনো কোনো মানুষ স্বার্থের জন্য খোলস পাল্টায়।

কিন্তু হাসান ইমাম কখনই স্বার্থের জন্য তার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। তার জীবন একজন নিষ্ঠাবান সৎ আদর্শবান সচেতন সংস্কৃতিবান মানুষের ‘প্রতীক’।

মাহমুদ সেলিম বলেন, সৈয়দ হাসান ইমাম কাজের মধ্যেই জীবনকে উপভোগ করেন।

শুরুতেই সঙ্গীতা ইমাম বলেন, দেশের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অনেক অজানা কথা জানা যাবে এই প্রামাণ্যচিত্রে।

২০১৪ সাল থেকে প্রামাণ্যচিত্রের কাজ শুরু হয়। ৬০ ঘণ্টার ফুটেজ থেকে ৭১ মিনিটের একটি কমপ্যাক্ট তথ্যচিত্র নির্মাণ করা হয়েছে।

Advertisement

সৈয়দ হাসান ইমাম বই মোড়ক

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম