আরমানিটোলা মাঠ ঐতিহ্য হারাচ্ছে

  লালবাগ প্রতিনিধি ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আরমানিটোলা মাঠ

মোগল আমলে যানবাহন বলতে একমাত্র ছিল ঘোড়ার গাড়ি। সবাই ঘোড়ার গাড়িতে চলাফেরা করতেন। সেই সময়ে ঘোড়ার গাড়ি, ঘোড়া, ঘোড়ার খাওয়ার জন্য পানি, খাদ্যসামগ্রী রাখা হতো এ পুরান ঢাকার আরমানিটোলার খেলার মাঠটিতে।

ব্রিটিশ আমলে নবাব সলিমুল্লাহ স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল নির্মাণের পাশাপাশি এ আরমানিটোলা খেলার মাঠটি নির্মাণ করেন। মেডিকেল কলেজের স্টাফ, রোগীদের শরীর চর্চা ও খেলাধুলা করার জন্য মূলত এ মাঠটি নির্মাণ করেছিলেন তিনি।

আরমানিটোলা নাম রাখা হয়েছিল ওই সময় বসবাসকারী আরমানিয়ান খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নামের সঙ্গে মিল রেখে। আরমানিটোলা খেলার মাঠ একটি ঐতিহাসিক মাঠ। মুসলিম লীগ ও আওয়ামী লীগ আন্দোলনের প্রথম আওয়াজ তুলেছিল এ মাঠ থেকে। তবে বর্তমানে মাঠটি ঐতিহ্য হারাচ্ছে।

বর্তমানে পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের উত্তরে এবং আহমেদ বাওয়ানী একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজের দক্ষিণ কোনায় বাবুবাজার ব্রিজঘেঁষে অবস্থিত এ আরমানিটোলা খেলার মাঠ। মাঠের চার পাশে রয়েছে দেয়াল ও পূর্ব-পশ্চিমে রয়েছে দুটি লোহার মেইন গেট।

মাঠের দক্ষিণ পাশে রয়েছে সমাজসেবা অধিদফতর আর পশ্চিমে রয়েছে মিটফোর্ড হাসপাতাল স্টাফদের থাকার জন্য ছোট কলোনি। মাঠের ভেতরে ফুটবল খেলার জন্য রয়েছে দুটি বারপোস্ট। এ মাঠটি সবসময়ে উন্মুক্ত থাকে। স্কুল-কলেজের ছাত্র ও স্থানীয়দের খেলাধুলা করতে দেখা যায় এ মাঠটিতে।

এ মাঠে প্রবেশ করলেই দেখা যায় শুধু ধুলাবালি আর ইটের কণা। মাঠটিতে বিন্দুমাত্র দূর্বাঘাসের ছোঁয়া নেই। কালের বিবর্তনে মাঠ থেকে সব হারিয়ে যাচ্ছে। এটা স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের অ্যাসেট বলে সিটি কর্পোরেশন এ নিয়ে কোনো মাথা ঘামায় না।

তবে এ মাঠটি বিভিন্ন সমস্যায় জর্জড়িত। মাঠের ভেতর নেই কোনো দূর্বাঘাস, পথচারীদের হাঁটাহাঁটি করার জন্য মাঠের চার পাশে নেই কোনো রাস্তা। নেই কোনো টয়লেট। বিশ্রামের জন্য নেই কোনো বেঞ্চ। রাতে এ মাঠটি অন্ধকার থাকে, নেই কোনো আলোর ব্যবস্থা। এই ঐতিহাসিক খেলার মাঠটিকে নবরূপে সাজানো হবে। এমনটাই মন্তব্য করলেন স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর বিল্লাহ শাহ।

বাবুবাজারের বাসিন্দা জামাল হোসেন বলেন, আমি ডায়বেটিসের রোগী, তাই আমাকে সকাল-বিকাল হাঁটতে হয়। আমি ১০ বছর ধরে এ মাঠে হাঁটছি। আসলে যে কথা বলতে চাচ্ছি সেটা হল ঢাকা শহরের মাঠগুলোতে হাঁটাহাঁটি করার জন্য রয়েছে চারপাশে রাস্তা। কিন্তু এ মাঠে কোনো রাস্তা নেই।

মিটফোর্ডের বাসিন্দা জাহানারা বলেন, আমি মাঝেমধ্যে বান্দবীদের নিয়ে এ মাঠে হাঁটতে আসি। আসলে এ মাঠের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল এখানে কোনো টয়লেট নেই। বেশি সমস্যা হয় নারীদের।

আহমেদ বাওয়ানী একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১০ম শ্রেণীর ছাত্র গোলাম মোদাশের আলিফ বলে, আমার স্কুল বন্ধ থাকলে আমি বন্ধুদের নিয়ে এ মাঠে ফুটবল খেলতে আসি।

বৃষ্টির সময়ে ফুঠবল খেলতে পারি না। কারণ বৃষ্টির পানিতে মাঠে প্রচুর কাদাপানি জমে থাকে। আবার বৃষ্টি না থাকলে মাঠে ধুলাবালি আর ইটের কণা থাকায় ফুটবল খেলতে পারি না। যদি মাঠে দূর্বাঘাস লাগানো হতো তাহলে আমাদের জন্য ভালো হতো।

আরমানিটোলার বাসিন্দা জাকির বলেন, মাঠে কোনো নিরাপত্তাকর্মী না থাকায় রাতের বেলা মাঠে মাদকসেবীদের আড্ডা জমে উঠে। মাদক সেবনসহ মাদক বেচা-কেনা ও অসামাজিক কাজ হয় এ মাঠে।

কসাইটুলীর বাসিন্দা মন্নান বলেন, মাঝেমধ্যে আমার পরিবার ও ২ বছরের বাবুটাকে নিয়ে এ মাঠে ঘুরতে আসি। মাঠে বসার কোনো বেঞ্চ বা জায়গা নেই। নেই কোনো মাঠের ওপর দূর্বাঘাস।

৩২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. বিল্লাল শাহ্ বলেন, আসলে আরমানিটোলা খেলার মাঠটি স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের সম্পত্তি বলে সিটি কর্পোরেশন এ নিয়ে মাথা ঘামায় না। আবার যাদের সম্পত্তি তারা কতটা দেখভাল করে তা মাঠ দেখলেই বুঝা যায়। তাই আমি আমার এলাকাবাসী, সমাজসেবক, বিত্তশালীদের নিয়ে নিজ অর্থায়নে এই ঐতিহাসিক মাঠটি নবরূপে সাজাব। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হবে মাঠে দূর্বাঘাস লাগানো, মাঠের চারপাশে রাস্তা করে দেয়া, টয়লেটের সুব্যবস্থা করা এবং মাঠটিতে রাতের বেলা আলোক সজ্জার জন্য নতুন করে ল্যামপোস্ট বসানো।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter