ভয়াবহ রূপ নিতে পারে ঘূর্ণিঝড় ‘ফনি’

উত্তাল বঙ্গোপসাগরে ২ নম্বর সতর্ক সংকেত * রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৯.৯

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৯ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

একদিকে সাগরে উৎপত্তি হয়েছে ঘূর্ণিঝড়। এর প্রভাবে উত্তাল সাগর। অপরদিকে দেশের দু’এক জায়গায় কালবৈশাখীর আনাগোনা। কমবেশি বৃষ্টিও হচ্ছে। কিন্তু কমছে না গরম। বরং রোববার এ মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার অভিজ্ঞতা হয়েছে দেশবাসীর। এদিন রাজশাহীতে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি তাপমাত্রা ছিল। শুধু রাজশাহীই নয়, গোটা খুলনা বিভাগসহ দক্ষিণাঞ্চলে বয়ে যাচ্ছে মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার তাপপ্রবাহ। গ্রীষ্মের খরতাপে পুড়ছে ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চল। তবে ঘূর্ণিঝড় উপকূল অতিক্রমের পর এই পরিস্থিতির অবসান হবে। এই ঝড়ের প্রভাবে আগামী ৬-৭ মে ভারতের মেঘালয়সহ বাংলাদেশের মেঘনা অববাহিকা, মধ্যাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি অনেকটাই সহনীয় মাত্রায় নেমে আসতে পারে।

এদিকে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় ‘ফনি’ ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া এবং জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এটি বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। পাশাপাশি উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। লঘুচাপ আকারে উৎপত্তির পর থেকে এটি অবিশ্বাস্য গতিতে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, নিুচাপ এবং গভীর নিুচাপে পরিণত হওয়ার পর ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়। উপকূল থেকে অনেক দূরে অবস্থান করায় এটি কোন দেশের উপকূল অতিক্রম করবে তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করতে পারেননি তারা। তবে বিদ্যমান গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে তারা বলছেন, এখন পর্যন্ত এটা ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশমুখী। কিন্তু বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এর প্রভাব পড়তে পারে। এটি আগামী ৫ থেকে ৬ মে’র দিকে উপকূল অতিক্রম করতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ইতিমধ্যে সাগর উত্তাল হওয়ায় দেশের চার সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. একেএম সাইফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, উপকূল থেকে অনেক দূরে অবস্থান করায় এখনও বলার সময় হয়নি যে ঝড়টি কোন দিকে যেতে পারে। কিন্তু দুশ্চিন্তার বিষয় হচ্ছে, এ ধরনের ঝড় যত বেশি সময় সাগরে অবস্থানের সুযোগ পায়, ততই এর তীব্রতা বাড়তে পারে। আর গতিপথেরও কোনো ঠিকঠিকানা থাকে না। তবে বিভিন্ন মডেল বিশ্লেষণে মনে হচ্ছে, ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের চেয়েও এর তীব্রতা বেশি হতে পারে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে আঘাত হানার আশঙ্কা ৬০-৭০ শতাংশ। বাংলাদেশ আবহাওয়া বিভাগের (বিএমডি) এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় ফনি রোববার দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১৬৯৫ কিলোমিটার, কক্সবাজার থেকে ১৬২০, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১৬৭৫ এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১৬৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রে ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা ও ঝড়ো হাওয়া আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটে সাগর বিক্ষুব্ধ রয়েছে। এ কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌযানগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে। আর পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামীকাল নাগাদ ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের উপকূলমুখী অগ্রসরমান থাকতে পারে- যার গতিপথ পরবর্তীতে উত্তর-পূর্বমুখী পরিবর্তিত হয়ে বাংলাদেশের দিকে অগ্রসর হতে পারে। ভারতীয় আবহাওয়া অধিদফতরের (আইএমডি) তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়সংশ্লিষ্ট কারণে ২-৩ মে ভারতের মেঘালয় অববাহিকায় এবং ৬-৭ মে ভারতের মেঘালয়সহ বাংলাদেশের মেঘনা অববাহিকা, মধ্যাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে।

এদিকে সাগরে ঘূর্ণিঝড়ের পরও গরমের প্রভাব তেমন একটা কমেনি। রোববারও দেশের কয়েকটি অঞ্চলে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। এই গরমের প্রকৃতি হচ্ছে ব্যারোমিটারে পাওয়া পরিমাপের চেয়ে অনুভূতিটা বেশি। এই গরমে বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে। এদিন ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি, যা শনিবারের চেয়েও বেশি। এদিন দেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাজশাহীতে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×