দুবাইয়ে নারী পাচার

গডফাদারসহ চক্রের তিন সদস্য গ্রেফতার

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৩ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দুবাইয়ে নারী পাচার চক্রের গডফাদারসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেফতাররা হল আজম খান ও তার দুই সহযোগী আল আমিন হোসেন ডায়মন্ড এবং আনোয়ার হোসেন ময়না। চক্রটি পাঁচতারকা হোটেলে চাকরি দেয়ার কথা বলে সুন্দরী তরুণীদের দুবাই পাঠিয়ে তাদের পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করত। গত আট বছর ধরে তারা এ কাজ করে আসছিল। এ চক্র অন্তত আট সহস্রাধিক তরুণীকে দুবাই পাঠিয়েছে।

রোববার রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিআইডির ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ। ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, আজম খানের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়িতে। তার বাবা দুবাইয়ে থাকতেন। সে ১৯৯৬ সালে দুবাইয়ে চলে যান। দুবাইয়ে তার চারটি তারকাযুক্ত হোটেলের অংশীদার রয়েছে। হোটেলগুলো হল ফরচুন পার্ল হোটেল অ্যান্ড ড্যান্স ক্লাব, হোটেল রয়েল ফরচুন, হোটেল ফরচুন গ্রান্ড এবং হোটেল সিটি টাওয়ার। আজম খান গত আট বছর ধরে নারী পাচারের ব্যবসায় জড়িত। কিছু দিন আগে দুবাই সরকারের অভিযোগের ভিত্তিতে আজম খানের পাসপোর্ট বাতিল হয়। পরে তাকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়। আজম খান দেশে এসে নতুন পাসপোর্ট তৈরি করে অন্য কোনো দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। সিআইডি জানায়, আজম খান নারী পাচার চক্রের মূল হোতা। তার সহযোগীরা দুবাইয়ে পাঁচতারকা হোটেলে মোটা অঙ্কের বেতনে চাকরি দেয়ার কথা বলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সুন্দরী তরুণীদের সংগ্রহ করত।

এরপর অগ্রিম কিছু টাকা দিয়ে তাদের দুবাই নিয়ে যাওয়া হতো। এরপর আজম খানের মালিকানাধীন হোটেলগুলোর ড্যান্স ক্লাবে আটক রেখে চলত যৌন নির্যাতন ও নিপীড়ন। প্রতিবাদ করলে দেয়া হতো ইলেকট্রিক শক। তরুণীদের মাসে ৫০ হাজার টাকা বেতন দেয়ার কথা বললেও কোনো টাকা দেয়া হতো না। এসব ঘটনায় আসামিদের জড়িত থাকার অডিও ক্লিপ সংগ্রহ করেছে সিআইডি। আজম খান গত আট বছরে প্রায় এক হাজার তরুণীকে দুবাইয়ে পাচার করেছে। সিআইডির কর্মকর্তা বলেন, সংঘবদ্ধ অপরাধের যতগুলো বিষয় রয়েছে তার সবকিছুর মধ্যেই আজম খান জড়িত। বাংলাদেশেও আজম খানের বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা রয়েছে। তার মধ্যে ছয়টি হত্যা মামলা। ২ জুলাই সিআইডি বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে লালবাগ থানায় একটি মামলা করে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত