৬ মাসের মধ্যে কার্যক্রম শতভাগ অনলাইনে
jugantor
রাজউকের ইসিপি সিস্টেমের উদ্বোধন
৬ মাসের মধ্যে কার্যক্রম শতভাগ অনলাইনে
কাগজবিহীন সেবা- রোববার থেকে দুটি জোনে, ছয় মাসের মধ্যে সব জোনে * স্থায়ী জনবল বাড়াতে হবে * আইইবি ও আইএবির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সেবা প্রাপ্তিতে অনিয়ম, দুর্নীতি ও সীমাহীন ভোগান্তির কথা সবার জানা। বিগত সময়ে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও ভোগান্তি নিরসনে কোনো সুফল আসেনি। এজন্য বর্তমান সরকার পেপারলেস (কাগজবিহীন) সেবা পদ্ধতি প্রবর্তনের কাজ শুরু করেছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র, নকশা অনুমোদন ও অকুপেন্সি সনদসহ (ব্যবহার অনুমোদন) সেবা কার্যক্রম শতভাগ অনলাইনে করার ঘোষণা দিয়েছে রাজউক।

রাজধানীর পাঁচ তারকা হোটেল রোববার অবকাঠামো নির্মাণ ও নগর পরিকল্পনায় ভূমিকম্প ঝুঁকি প্রশমনে বাংলাদেশে ‘ ইলেকট্রনিক কনস্ট্রাকশন পারমিটিং (ইসিপি) সিস্টেমের’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা জানায় রাজউক এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। অনুষ্ঠানে ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) এবং বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে রাজউক। প্রধান অতিথি ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।

রাজউকের কর্মকর্তারা জানান, রাজউকে বর্তমানে অনলাইনে সেবা কার্যক্রম চলমান থাকলেও সেটা কাগজবিহীন নয়। এজন্য বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র, নকশা অনুমোদন, অকুপেন্সি সনদ, বিশেষ প্রকল্প অনুমোদন সবকিছু অনলাইনে হবে। এসব কার্যক্রমে কোনো ফাইল বা কাগজের ব্যবহার হবে না। উদ্বোধনী দিন রোববার থেকেই রাজউকের জোন-৩, সাব জোন-২ (মিরপুর, সাভার, টঙ্গী) এবং জোন-৪, সাবজোন-২ (গুলশান) এলাকায় প্রাথমিকভাবে এ সেবা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এরপরের পদক্ষেপ জোন-৬, সাবজোন-২ এ চালু করা। আগামী ৬ মাসের মধ্যে রাজউকের সব জোন এবং সাবজোনে কাগজবিহীন সেবা কার্যক্রম চালু করা হবে।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী বলেন, গ্রাহকসেবার মান বৃদ্ধি এবং দুর্ভোগ কমাতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসরণ করে কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এরই অংশ হিসাবে রাজউকে কাগজবিহীন সেবা কার্যক্রম শুরু করা হলো। এই ধারা অব্যাহত থাকবে এবং জনগণের সেবা প্রাপ্তিকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তিনি বলেন, বাসায় বসে ভবনের ছাড়পত্র, নকশা অনুমোদন, অকুপেন্সি সনদ এবং অন্যান্য সেবাপ্রাপ্তির আবেদন করে অনলাইনে ফিও পরিশোধ করা যাবে। এক্ষেত্রে মোবাইল ব্যাংকিং, কার্ড ও অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ফি পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি বলেন, জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার। তার সে স্বপ্ন তার কন্যার হাত ধরে এগিয়ে চলেছে। রাজউকের সেবা সহজ করার এ উদ্যোগও উন্নত বাংলাদেশ গঠনের পথে অগ্রগতি বলে মনে করি। বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার বলেন, রাজউকে কাগজবিহীন যে সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হলো এর পেছনের গল্প খুব সহজ ছিল না। প্রকল্পের শুরুতে কিছু ত্রুটির কারণে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল। পরবর্তীতে রাজউকের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ হেলালীর আন্তরিক প্রচেষ্টায় আমরা নতুন করে তৎপরতা চালিয়ে এটাকে সফল করেছি। এখান থেকে জনগণ হয়রানি ছাড়া ভালো সেবা পাবে বলে বিশ্বাস করি। তিনি বলেন, রাজউকে কাগজবিহীন অনলাইন সেবা চালু হওয়ায় নাগরিক দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি রাজউকের কাজ গতিশীল হবে। এ প্রক্রিয়াকে টেকসই করতে সব ধরনের সহযোগিতা করবে মন্ত্রণালয়। রাজউক এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। এসব সৃজনশীল কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করব। আর এভাবেই উন্নত ও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. এম শামীম জেট বসুনিয়া বলেন, বিশ্বের ২০টি ঝুঁকিপূর্ণ শহরে তালিকায় প্রথম দিকে রয়েছে ঢাকা। বর্তমানে ঢাকা শহরের ভবন তৈরির ক্ষেত্রে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি বিবেচনা করা হচ্ছে না। বিল্ডিং কোড, ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ভবনের নকশা প্রণয়ন করেন যারা সেসব স্থপতি ও প্রকৌশলীদের জাতীয় বিল্ডিং কোড ২০২০ পড়ার অনুরোধ করছি। কেননা পুরাতন বিল্ডিং কোড এবং বিদ্যমান বিল্ডিং কোডের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। ভবনের নকশা অনুমোদনের আগে ভূমিকম্পের ঝুঁকিগুলো সার্বিকভাবে বিবেচনায় অনুমোদন দিতে হবে।

বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের (আইএবি) সভাপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, রাজউকের ‘ইলেকট্রনিক্স কনস্ট্রাকশন পারমিটিং সিস্টেম (ইসিপিএস)’ ভালো উদ্যোগ। এ উদ্যোগ সফল করতে হলে রাজউকের জনবলস্বল্পতা কমাতে হবে। নিয়োগ করতে হবে নিজস্ব জনবল। সেটা করতে না পারলে কাগজবিহীন অনলাইন সেবা কার্যক্রম সফল করা কঠিন হবে। সভাপতির বক্তৃতায় রাজউক চেয়ারম্যান আমিন উল্লাহ নুরী বলেন, বুড়িগঙ্গার তীরে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা শহরের নাম ঢাকা। ১৯৫৩ সাল থেকে রাজউক এই শহরের শৃঙ্খলা ও পরিকল্পিত নগর গড়ার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, রাজউকের বিরুদ্ধে সেবাগ্রহীতাদের অনেক অভিযোগ। তাদের সেসব ভোগান্তি লাঘবে কাগজবিহীন অনলাইন সেবা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্বাস করি। সে লক্ষ্যে রাজউক কাজ করছে। দ্রুত সময়ে রাজউক কাক্সিক্ষত সুফল পাবে।

রাজউকের আরবান রেজিলিয়েন্স প্রকল্পের পরিচালক ও প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ হেলালী বলেন, রাজউকের কাগজবিহীন সেবা কাজের প্রয়োজনে অনেকবার জাপানে যাওয়া হয়েছে। একটানা তিন মাসও থাকা হয়েছে। সেখানে দেখেছি পাহাড়ের পাদদেশে ধনিক শ্রেণির মানুষ বসবাস করে। কিন্তু উলটো চিত্র আমাদের দেশে। একইভাবে সে দেশে ভূমিকম্পের সময় মানুষ ঘরের ভেতর প্রবেশ করে, আর আমাদের দেশের মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। কেননা নিজেদের নির্মাণাধীন ভবনের ওপর নিজেদের আস্থা নেই। রাজউকের সেবা সহজ করার পাশাপাশি দুর্যোগসহনশীল করতে কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আশা করি এ প্রকল্পের মাধ্যমে রাজধানীবাসী ইতিবাচক সুফল ভোগ করবে।

অন্যদের মধ্যে অনুষ্ঠানে অংশ নেন-বিশ্বব্যাংকের দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা বিশেষজ্ঞ স্বর্র্ণা কাজী, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটশন, বাংলাদেশের (আইইবি) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রকৌশলী মো. নুরুজ্জামান, আইইবির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী শাহাদাত হোসেন শিবলু প্রমুখ।

রাজউকের ইসিপি সিস্টেমের উদ্বোধন

৬ মাসের মধ্যে কার্যক্রম শতভাগ অনলাইনে

কাগজবিহীন সেবা- রোববার থেকে দুটি জোনে, ছয় মাসের মধ্যে সব জোনে * স্থায়ী জনবল বাড়াতে হবে * আইইবি ও আইএবির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সেবা প্রাপ্তিতে অনিয়ম, দুর্নীতি ও সীমাহীন ভোগান্তির কথা সবার জানা। বিগত সময়ে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও ভোগান্তি নিরসনে কোনো সুফল আসেনি। এজন্য বর্তমান সরকার পেপারলেস (কাগজবিহীন) সেবা পদ্ধতি প্রবর্তনের কাজ শুরু করেছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র, নকশা অনুমোদন ও অকুপেন্সি সনদসহ (ব্যবহার অনুমোদন) সেবা কার্যক্রম শতভাগ অনলাইনে করার ঘোষণা দিয়েছে রাজউক।

রাজধানীর পাঁচ তারকা হোটেল রোববার অবকাঠামো নির্মাণ ও নগর পরিকল্পনায় ভূমিকম্প ঝুঁকি প্রশমনে বাংলাদেশে ‘ ইলেকট্রনিক কনস্ট্রাকশন পারমিটিং (ইসিপি) সিস্টেমের’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা জানায় রাজউক এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। অনুষ্ঠানে ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) এবং বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে রাজউক। প্রধান অতিথি ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।

রাজউকের কর্মকর্তারা জানান, রাজউকে বর্তমানে অনলাইনে সেবা কার্যক্রম চলমান থাকলেও সেটা কাগজবিহীন নয়। এজন্য বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র, নকশা অনুমোদন, অকুপেন্সি সনদ, বিশেষ প্রকল্প অনুমোদন সবকিছু অনলাইনে হবে। এসব কার্যক্রমে কোনো ফাইল বা কাগজের ব্যবহার হবে না। উদ্বোধনী দিন রোববার থেকেই রাজউকের জোন-৩, সাব জোন-২ (মিরপুর, সাভার, টঙ্গী) এবং জোন-৪, সাবজোন-২ (গুলশান) এলাকায় প্রাথমিকভাবে এ সেবা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এরপরের পদক্ষেপ জোন-৬, সাবজোন-২ এ চালু করা। আগামী ৬ মাসের মধ্যে রাজউকের সব জোন এবং সাবজোনে কাগজবিহীন সেবা কার্যক্রম চালু করা হবে।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী বলেন, গ্রাহকসেবার মান বৃদ্ধি এবং দুর্ভোগ কমাতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসরণ করে কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এরই অংশ হিসাবে রাজউকে কাগজবিহীন সেবা কার্যক্রম শুরু করা হলো। এই ধারা অব্যাহত থাকবে এবং জনগণের সেবা প্রাপ্তিকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তিনি বলেন, বাসায় বসে ভবনের ছাড়পত্র, নকশা অনুমোদন, অকুপেন্সি সনদ এবং অন্যান্য সেবাপ্রাপ্তির আবেদন করে অনলাইনে ফিও পরিশোধ করা যাবে। এক্ষেত্রে মোবাইল ব্যাংকিং, কার্ড ও অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ফি পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি বলেন, জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার। তার সে স্বপ্ন তার কন্যার হাত ধরে এগিয়ে চলেছে। রাজউকের সেবা সহজ করার এ উদ্যোগও উন্নত বাংলাদেশ গঠনের পথে অগ্রগতি বলে মনে করি। বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার বলেন, রাজউকে কাগজবিহীন যে সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হলো এর পেছনের গল্প খুব সহজ ছিল না। প্রকল্পের শুরুতে কিছু ত্রুটির কারণে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল। পরবর্তীতে রাজউকের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ হেলালীর আন্তরিক প্রচেষ্টায় আমরা নতুন করে তৎপরতা চালিয়ে এটাকে সফল করেছি। এখান থেকে জনগণ হয়রানি ছাড়া ভালো সেবা পাবে বলে বিশ্বাস করি। তিনি বলেন, রাজউকে কাগজবিহীন অনলাইন সেবা চালু হওয়ায় নাগরিক দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি রাজউকের কাজ গতিশীল হবে। এ প্রক্রিয়াকে টেকসই করতে সব ধরনের সহযোগিতা করবে মন্ত্রণালয়। রাজউক এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। এসব সৃজনশীল কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করব। আর এভাবেই উন্নত ও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. এম শামীম জেট বসুনিয়া বলেন, বিশ্বের ২০টি ঝুঁকিপূর্ণ শহরে তালিকায় প্রথম দিকে রয়েছে ঢাকা। বর্তমানে ঢাকা শহরের ভবন তৈরির ক্ষেত্রে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি বিবেচনা করা হচ্ছে না। বিল্ডিং কোড, ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ভবনের নকশা প্রণয়ন করেন যারা সেসব স্থপতি ও প্রকৌশলীদের জাতীয় বিল্ডিং কোড ২০২০ পড়ার অনুরোধ করছি। কেননা পুরাতন বিল্ডিং কোড এবং বিদ্যমান বিল্ডিং কোডের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। ভবনের নকশা অনুমোদনের আগে ভূমিকম্পের ঝুঁকিগুলো সার্বিকভাবে বিবেচনায় অনুমোদন দিতে হবে।

বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের (আইএবি) সভাপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, রাজউকের ‘ইলেকট্রনিক্স কনস্ট্রাকশন পারমিটিং সিস্টেম (ইসিপিএস)’ ভালো উদ্যোগ। এ উদ্যোগ সফল করতে হলে রাজউকের জনবলস্বল্পতা কমাতে হবে। নিয়োগ করতে হবে নিজস্ব জনবল। সেটা করতে না পারলে কাগজবিহীন অনলাইন সেবা কার্যক্রম সফল করা কঠিন হবে। সভাপতির বক্তৃতায় রাজউক চেয়ারম্যান আমিন উল্লাহ নুরী বলেন, বুড়িগঙ্গার তীরে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা শহরের নাম ঢাকা। ১৯৫৩ সাল থেকে রাজউক এই শহরের শৃঙ্খলা ও পরিকল্পিত নগর গড়ার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, রাজউকের বিরুদ্ধে সেবাগ্রহীতাদের অনেক অভিযোগ। তাদের সেসব ভোগান্তি লাঘবে কাগজবিহীন অনলাইন সেবা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্বাস করি। সে লক্ষ্যে রাজউক কাজ করছে। দ্রুত সময়ে রাজউক কাক্সিক্ষত সুফল পাবে।

রাজউকের আরবান রেজিলিয়েন্স প্রকল্পের পরিচালক ও প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ হেলালী বলেন, রাজউকের কাগজবিহীন সেবা কাজের প্রয়োজনে অনেকবার জাপানে যাওয়া হয়েছে। একটানা তিন মাসও থাকা হয়েছে। সেখানে দেখেছি পাহাড়ের পাদদেশে ধনিক শ্রেণির মানুষ বসবাস করে। কিন্তু উলটো চিত্র আমাদের দেশে। একইভাবে সে দেশে ভূমিকম্পের সময় মানুষ ঘরের ভেতর প্রবেশ করে, আর আমাদের দেশের মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। কেননা নিজেদের নির্মাণাধীন ভবনের ওপর নিজেদের আস্থা নেই। রাজউকের সেবা সহজ করার পাশাপাশি দুর্যোগসহনশীল করতে কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আশা করি এ প্রকল্পের মাধ্যমে রাজধানীবাসী ইতিবাচক সুফল ভোগ করবে।

অন্যদের মধ্যে অনুষ্ঠানে অংশ নেন-বিশ্বব্যাংকের দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা বিশেষজ্ঞ স্বর্র্ণা কাজী, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটশন, বাংলাদেশের (আইইবি) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রকৌশলী মো. নুরুজ্জামান, আইইবির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী শাহাদাত হোসেন শিবলু প্রমুখ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন