সিপিডির গবেষণা
৮৫৬ পোশাক কারখানা তদারকির বাইরে
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৩, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
তৈরি পোশাক খাতের ৮৫৬টি কারখানা সরকারি বা বেসরকারি সংস্থার তদারকির বাইরে থেকে রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দিন দিন এ ধরনের কারখানার সংখ্যা বাড়ছে। এ কারখানাগুলো অবকাঠামো ঝুঁকি, অগ্নি ঝুঁকি বা কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ আছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। অন্যদিকে যেসব কারখানা পরিদর্শন করা হয়েছে, সেগুলোর গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
বুধবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়েছে। ‘তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা : অর্জন ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম ও জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী তামিম আহমেদ। মূল প্রবন্ধে বলা হয়, ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসের পর পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নয়নে বিদেশি ক্রেতাদের জোট অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্স বাংলাদেশে কাজ শুরু করে। কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ায় অ্যালায়েন্স এখন ‘নিরাপন’ নামে বিদেশি ক্রেতাদের চাহিদা প্রেক্ষিতে পোশাক কারখানা পরিদর্শন করছে। আর অ্যাকর্ড কার্যক্রম বুঝিয়ে দেয় আরএমজি সাসটেইনেবল কাউন্সিলকে (আরএসসি), তারাও পরিদর্শন করছে। শ্রম মন্ত্রণালয়ের অধীনে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরও (ডাইফ) পোশাক কারখানা পরিদর্শন করে থাকে। বর্তমানে আরএসসির আওতায় এক হাজার ৮৮৭টি, নিরাপনের প্রায় ৩৫০টি এবং ডাইফের আওতায় ৬৫৯টি কারখানা রয়েছে, সর্বমোট ২ হাজার ৮৯৬টি। বর্তমানে সারা দেশে রপ্তানিমুখী ৩ হাজার ৭৫২টি (ম্যাপড ইন বাংলাদেশ জরিপ) পোশাক কারখানা রয়েছে। সে হিসাবে ৮৫৬টি কারখানা সরকারি বা বেসরকারি সংস্থার মনিটরিংয়ের বাইরে থাকছে, যা মোট কারখানার ২৩ শতাংশ। এসব কারখানায় অগ্নি ঝুঁকি বা অবকাঠামোগত ঝুঁকি রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে অগ্নিকাণ্ড বৃদ্ধির ঘটনা তারই প্রমাণ। ২০২১ সালে যেখানে ১৮০টি রপ্তানিমুখী কারখানা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল, সেখানে ২০২২-এ আগুন লাগে ২৪১টি কারখানায়।
মূল প্রবন্ধ আরও বলা হয়, ডাইফির অধীনে থাকা ৬৭৯ কারখানার ত্রুটি সংশোধন কাজ হয়েছে মাত্র ৫৪ শতাংশ। মাত্র ১টি কারখানা শতভাগ ত্রুটি সংশোধন কাজ শেষ করেছে। অন্যদিকে আরএসসির অধীনে থাকা ১ হাজার ৮৮৭ কারখানার ত্রুটি সংশোধন কাজ শেষ হয়েছে ৯১ দশমিক ৩২ শতাংশ। গত এপ্রিল পর্যন্ত ১ হাজার ৩১৭ কারখানা ত্রুটি সংশোধন করেছে ৯১-১০০ শতাংশ। ত্রুটি সংশোধনের কাজ এগোলেও অগ্নি নিরাপত্তায় ব্যবহৃত ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতি স্থাপনে কারখানাগুলোর মধ্যে অনাগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্স থাকাকালীন স্বস্তি ছিল। এখন যারা পরিদর্শন করছে তারা সঠিকভাবে কাজ করছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। তাই কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তাকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। এখনো নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েই গেছে। জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী তামিম আহমেদ বলেন, ডাইফির সক্ষমতা শিল্পের আকার অনুযায়ী পর্যাপ্ত নয়। তাদের পরিদর্শন কমে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে শুধু সংখ্যাটি বিবেচ্য নয়, কোয়ালিটি নিয়েও প্রশ্ন আছে। পরিদর্শকরা শুধু চা-নাশতা খেয়ে, অতিরিক্ত অর্থ দাবির মাধ্যমে তদারকি কাজ শেষ করছেন। তাছাড়া দুর্ঘটনার তথ্যের সঙ্গে ডাইফির তথ্যের বিস্তর ফারাক লক্ষ করা যায়, ডাইফির তথ্য বাস্তবতাবিবর্জিত। আরএসসির কারিগরি সক্ষমতা আছে, আর ডাইফির লিগ্যাল সক্ষমতা আছে। এ দুটো প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে আরও কার্যকর পরিদর্শন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।
তদারকির জোরদার করার সুপারিশ করে ড. মোয়াজ্জেম বলেন, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ডাইফিকে শক্তিশালী করতে হবে। প্রয়োজনে পরিদর্শন বাড়াতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দিয়েও কারখানা অডিট করানো যেতে পারে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা বন্ধে পুলিশের মতো ডাইফিকে ম্যাজিস্ট্রেটি ক্ষমতা দেওয়া যেতে পারে।
