ঢাকায় ক্ষণিকের অতিথি রোনালদিনহো
Advertisement
ওমর ফারুক রুবেল
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৩, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মাথায় চিরচেনা টুপি। গলায় লম্বা চেইন। পরনে কালো হাফ প্যান্ট ও হালকা পেস্ট কালারের টি-শার্ট। মুখে খোঁচা খোঁচা সাদা দাড়ি। পিঠে ব্যাগ। মুখে ভুবনভোলানো সেই হাসি। কিছুটা মুটিয়ে গেছেন ব্রাজিলের ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী দলের নক্ষত্র রোনালদিনহো। বুধবার বিকাল সাড়ে ৩টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর নিরাপত্তা কনভয়ের সঙ্গে সাদা প্রাদোতে প্রবেশ করেন হোটেল র্যাডিসন ব্লুতে। ক্রিয়েশন ওয়ার্ল্ড ও অফ ট্র্যাকের সৌজন্যে কলকাতার শতদ্রু দত্তর মাধ্যমে ঢাকায় আসেন রোনালদিনহো। সবই ঠিক ছিল। তবে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ এবং আয়োজকদের চরম অব্যবস্থাপনায় ম্যাজিকাল নাইট উইথ দ্য লিজেন্ড রোনালদিনহো বয়কট করেন মিডিয়াকর্মীরা। কারণ মিডিয়াকর্মীদের জন্য কোনো বসার সিট বরাদ্দ রাখা হয়নি বলে মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন মিডিয়াকর্মীরা। গণমাধ্যমের কর্মীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে অনুষ্ঠান বয়কট করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এমপিও।
ব্রাজিলীয় ফুটবল গ্রেট নীরবে-নিভৃতে বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে এলেও হোটেলে কিছু সমর্থকের ভিড় দেখা গেল। বিশ্বকাপ জয়ের সময় রোনালদিনহো ছিলেন ২২ বছরের টগবগে এক তরুণ। সময়ের পরিক্রমায় এখন তিনি ৪৩-এ। মধ্যবয়সের দিকে এগিয়ে যাওয়া এই তারকাকে নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে তেমন কোনো মাতামাতি ছিল না। হয়তো সমর্থকদের আগ্রহে ভাটা পড়েছে। ছিল ফ্ল্যাশ লাইটের আলোর ঝলকানি। বিকাল ৪টায় হোটেলে আসার পর কিছু সময় বিশ্রাম নিয়ে সন্ধ্যায় চলে যান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় গণভবনে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর আবার ফিরে আসেন হোটেল র্যাডিসনে। এরপর দুই ঘণ্টার আনুষ্ঠানিকতা শেষে নীরবেই রাতে ঢাকা ছাড়েন রোনালদিনহো।
২০০২ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের শিরোপা জয়ের অন্যতম এই নায়ক দু’বারের বর্ষসেরা ফুটবলার হয়েছিলেন। বর্তমান সময়ে সবাই লিওনেল মেসি ও রোনাল্ডোর দ্বৈরথ নিয়ে তর্কে জড়ান। কিন্তু এ দুই তারকার আগে ফুটবল বিশ্বে রোনালদিনহোই ছিলেন সর্বেসর্বা। নাইট ক্লাব, শৃঙ্খলাহীন জীবনে জড়িয়ে ফুটবলের সবচেয়ে বড় প্রতিভাবান তারকা হারিয়ে গেলেও তার চোখ ধাঁধানো ড্রিবলিং ভক্তদের মণিকোঠায় আজও অমলিন। ২০১৫ সালে অবসর নেওয়া সাবেক অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের জনপ্রিয়তা সবার কাছেই ছিল সমান। ফুটবলের বড় এ তারকাকে কয়েক ঘণ্টার জন্য ঢাকায় আনেন কলকাতার ফুটবল এজেন্ট শতদ্রু দত্ত। ১৬ অক্টোবর কলকাতায় পূজামণ্ডপ উদ্বোধন, ফুটবল একাডেমি, মোহনবাগান ক্লাবে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সাড়ে ছয় ঘণ্টার সফরে রোনালদিনহোকে ঢাকায় আনা হয় বাণিজ্যিক কারণে। ক্রিয়েশান ওয়ার্ল্ডের তত্ত্বাবধানে কাল হোটেল র্যাডিসন ব্লুতে রোনালদিনহোকে নিয়ে ছোট্ট আয়োজন হয়। এতে অংশ নেওয়ার কথা ছিল জাতীয় দলের ক্রিকেটার তামিম ইকবাল, জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া ও নারী দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুনের। গত জুলাইয়ে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে নিয়ে ভক্তদের যে উন্মাদনা ছিল, রোনালদিনহোর ক্ষেত্রে তা দেখা যায়নি। অ্যাস্টন ভিলার গোলকিপার মার্তিনেজকে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি।
