আত্মহত্যা রোধে মনোসামাজিক সেবা

  মোস্তফা কামাল যাত্রা ১০ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আত্মহত্যা

আজ বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেন্টাল হেলথ (WFMH) এবং ওয়ার্ল্ড হেলথ অরগানাইজেশন (WHO) দিবসটি যথাযোগ্য গুরুত্বসহকারে পালনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘আত্মহত্যা প্রতিরোধ ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন’। আত্মহত্যা এ বছরের প্রতিপাদ্য হিসেবে মনোনীত হওয়ার কারণ সারা বিশ্বে আত্মহত্যার প্রবণতা বৃদ্ধি।

কেউ আত্মহত্যা করে ফেললে সেখান থেকে তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। আবার কেউ আত্মহত্যার চেষ্টা করে গুরুতর অসুস্থ বা আহত হলে জীবন্মৃত হয়ে বেঁচে থাকা শুধু তার নিজের জন্যই নয়, পরিবার ও পেশাগত ক্ষেত্রেও দীর্ঘমেয়াদি সংকট সৃষ্টি করে। তাই আত্মহত্যায় নিরুৎসাহিত করাই একমাত্র কার্যকর পদক্ষেপ হওয়া উচিত। আত্মহত্যাকে নিরুৎসাহিত তথা প্রতিরোধ করতে প্রয়োজন যুগোপযোগী ও কার্যকর এবং আর্থিকভাবে সাশ্রয়ী কর্মসূচি। এমন একটি উদ্যোগ হতে পারে মনোবিশ্লেষক নাট্যযজ্ঞের ব্যাপক অনুশীলন, উন্নত বিশ্বে যা প্রতিকারমূলক কর্মসূচি হিসেবে পরিগণিত।

আত্মহত্যাকারী এবং আত্মহত্যার প্রবণতামূলক ব্যক্তির মনস্তত্ত্ব পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তারা জীবনে কোনো না কোনো মানসিক সমস্যা বা রোগের ভুক্তভোগী। প্রধানত তারা মাদকাসক্তি, মৃগী রোগ, বিষণ্ণতাসহ নানামুখী আবেগগত সমস্যায় ভোগে, যা সঠিক সময়ে চিকিৎসার আওতায় না এলে বিপর্যস্ত ব্যক্তি একসময় আত্মহননের পথ বেছে নেয়। তবে যদি মনোবিশ্লেষক নাট্যক্রিয়া চর্চার সুযোগ অবারিত হতো, তাহলে পরিস্থিতি ইতিবাচক হওয়ার সম্ভাবনা থাকত।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে চিকিৎসার পাশাপাশি মনোসামাজিক (Psychosocial) স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনা গেলে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তির মধ্যে থাকা আত্মহত্যার প্রবণতা প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারে। এ ক্ষেত্রে পরিবারের সভ্যদের অগ্রণী ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া অত্যাবশ্যক। কারণ বিপর্যস্ত ব্যক্তি নিজেকে প্রতিরোধমূলক কর্মসূচিতে যুক্ত করার মতো অবস্থায় থাকে না। সাইকোথেরাপি তথা মনোসামাজিক সেবা এ পর্যায়ে কার্যকর একটি কর্মপন্থা।

বিশেষ করে আনন্দদায়ক নাট্যক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এই সেবা গ্রহণের সুযোগ ও ক্ষেত্র আমাদের দেশে নেই বললেই চলে। এ ধারার মনস্তাত্ত্বিক সেবা প্রদানে দক্ষ জনগোষ্ঠীর ঘাটতিও রয়েছে। অপরদিকে উচ্চ পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট যেসব শিক্ষা কারিকুলাম আছে তাও আধুনিক নয়। অনেক ক্ষেত্রে সাইকোথেরাপি এবং তার বহুমাত্রিক প্রয়োগকলা পাঠ্যক্রমভুক্তই নয়। যেমন এমবিবিএসের সিলেবাসে সাইকোথেরাপি একটি কোর্স মাত্র। তাও ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে নির্ধারিত, যা না পড়েই ডাক্তার হওয়া যায়।

অপরদিকে মনোবিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট শিক্ষাক্রমেও গ্রুপ সাইকোথেরাপির সৃজনশীল পদ্ধতিগুলো সিলেবাসভুক্ত নয়। আরও হতাশার দিক হল, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সৃজনশীল শিল্পকলা বিষয়ক বিভাগ- নাট্যকলা, নৃত্য, সঙ্গীত ও চিত্রকলা সংশ্লিষ্ট পাঠ্যক্রমেও নেই থিয়েটার থেরাপি, মিউজিক থেরাপি, ডান্স থেরাপি এবং আর্ট থেরাপি! ফলে সৃজনশীল মনোবিশ্লেষক শিল্পকলা প্রয়োগের ক্ষেত্রে তৈরি হচ্ছে না দক্ষ থিয়েটার থেরাপিস্ট, আর্ট থেরাপিস্ট, ডান্স থেরাপিস্ট এবং মিউজিক থেরাপিস্ট।

বিশ্বব্যাপী মানবিক ও সামাজিক জনসমাজ গড়ে তুলতে, বিকল্প মনোসামাজিক স্বাস্থ্যসেবার (অলটারনেটিভ সাইকোসোসাল কাউন্সেলিং) জন্য দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মনোবিশ্লেষক নাট্যযজ্ঞের পাঠকে খুবই গুরুত্বসহকারে নেয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশেও অনুসরণ করা সময়ের দাবি। এ ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি অনুরোধ রইল।

আসুন আত্মহত্যা প্রতিরোধের পথ প্রশস্ত করতে দেশের প্রতিটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোবিশ্লেষক নাট্যক্রিয়ার পাঠ প্রক্রিয়া চালুর উদ্যোগ নেই। ঝুঁকিতে থাকা জনসমাজের আত্মহত্যা প্রবণতা রোধ করি। আত্মহত্যা প্রতিরোধে অগ্রণী ভূমিকা রাখি।

মোস্তফা কামাল যাত্রা : প্রাবন্ধিক

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×