Logo
Logo
×
   

সম্পাদকীয়

হাওরাঞ্চলে কবে রেললাইন হবে?

Icon

হাসান হামিদ

প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০১৮, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

হাওরাঞ্চলে কবে রেললাইন হবে?

প্রতীকী ছবি

ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জের হাওর এলাকায় যেতে কতটা দুর্ভোগ পোহাতে হয়, তা ভুক্তভোগীরাই কেবল জানে। তবে অনেক দিন আগে সুনামগঞ্জ পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের চিন্তাভাবনার খবরটি আমাদের আলোড়িত করেছিল।

আমরা স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলাম। পত্রিকা ঘেঁটে জেনেছি, সুনামগঞ্জ জেলা শহরকে রেল যোগাযোগের আওতায় আনার দাবি উঠেছিল সেই ১৯৬১ সালে।

সুনামগঞ্জের সবজি, পাথর ও মাছ কম খরচে রাজধানী ঢাকায় পৌঁছানো এবং সড়কের বিকল্প একটি রেললাইন স্থাপনের দাবি হাওরবাসীর দীর্ঘদিনের। জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সুনামগঞ্জ শহরের হাসননগরের বাসিন্দা তৎকালীন সিলেট ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলের সদস্য রাবেয়া লেইস ১৯৬১ সালে প্রথম ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলের সভায় এই দাবি তুলেছিলেন।

এরপর ২০১১ সালে সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির তৎকালীন সভাপতি অ্যাডভোকেট রবিউল লেইস রোকেস জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপিও প্রদান করেছিলেন।

আরও কয়েক বছর পর ২০১৬ সালে সুনামগঞ্জ-১ (জামালগঞ্জ-ধর্মপাশা-তাহিরপুর) আসনের সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন মোহনগঞ্জ থেকে ধর্মপাশা-মহেষখলা-টেকেরঘাট-লাউড়েরগড় হয়ে সুনামগঞ্জ শহরতলির বৈঠখালী ঘাট পর্যন্ত রেললাইন বর্ধিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এই চিঠি সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে পাঠিয়ে বলা হয়েছিল প্রকল্পটি ডিপিপিভুক্ত করার জন্য।

সুনামগঞ্জ শহর পর্যন্ত রেলপথ সম্প্রসারিত হলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সহজে পণ্য পরিবহন সম্ভব হবে। সময় বাঁচবে এবং অর্থের অপচয় রোধ হবে।

তবে এ দাবি বাস্তবায়নের জন্য নানাভাবে উদ্যোগ নেয়া হলেও আলোর মুখ দেখছে না। সুনামগঞ্জবাসীর প্রাণের এই দাবি যত দ্রুত সম্ভব বাস্তবায়ন করা হোক। মাত্র ২৭ কিলোমিটার রেললাইন সম্প্রসারণ করা হলে ছাতক থেকে সুনামগঞ্জ পর্যন্ত রেল যোগাযোগ স্থাপন হয়ে যাবে। ছাতক থেকে রেললাইন বর্ধিত করে সুনামগঞ্জের মাইজবাড়ী-বদিপুর এলাকায় স্টেশন করা কঠিন কোনো কাজ নয়।

হাওরাঞ্চলের অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার মানুষকে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তাই ধর্মপাশা উপজেলাসহ হাওরাঞ্চলের মানুষ প্রতিদিন তাদের প্রয়োজনে মোহনগঞ্জ হয়ে নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও ঢাকায় রেলপথে যাতায়াত করেন।

এ জনপদের মানুষের সহজ যাতায়াত ও মালামাল পরিবহনের লক্ষ্যে ১৯১৯ সালে নেত্রকোনার ৭২ কিলোমিটার রেলপথ তৈরি করা হয়েছিল। এর একটি ৫৫ কিলোমিটার দূরত্বের গৌরীপুর-নেত্রকোনা-মোহনগঞ্জ রেলপথ।

অপরটি হল ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ শ্যামগঞ্জ-জারিয়া রেলপথ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্র“তি অনুযায়ী মোহনগঞ্জ-ঢাকা রুটে ২০১৩ সালের ৩০ জুলাই ‘হাওর এক্সপ্রেস’ নামের একটি আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রা শুরু হলেও হাওরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ধর্মপাশা পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের বিষয়টি উপেক্ষিত রয়ে যায়।

ফলে ধর্মপাশা উপজেলাসহ হাওরাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষকে প্রতিদিন বিভিন্ন প্রয়োজনে ৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মোহনগঞ্জ স্টেশনে পৌঁছতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

ধর্মপাশায় রেলস্টেশন স্থাপনের জন্য ১৯৮১ সালে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল; কিন্তু পরে তা আর হয়ে ওঠেনি। মোহনগঞ্জ থেকে ধর্মপাশা আর ছাতক থেকে সুনামগঞ্জ পর্যন্ত এ দুটি রেললাইন সম্প্রসারণ করা হলে হাওরাঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি পূরণ হবে।

আর এ দাবি পূরণ হলে হাওরাঞ্চলের মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে, তাদের যোগাযোগ হবে অনেকটাই সহজ ও সাধ্যের মধ্যে।

হাসান হামিদ : গবেষক ও সদস্য, জাতীয় গ্রন্থাগার

 

রেললাইন

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম