ছড়িয়ে পড়ুক পাঠাগার আন্দোলন
jugantor
ছড়িয়ে পড়ুক পাঠাগার আন্দোলন

  আলী আরমান রকি  

২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মানুষের বই পড়ার আগ্রহ থেকেই পাঠাগারের সৃষ্টি। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষের জ্ঞান জমা হয়ে থাকে পাঠাগারে সংরক্ষিত বইয়ের পাতায়।

মানুষের বই পড়ার আগ্রহ থেকেই পাঠাগারের সৃষ্টি। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষের জ্ঞান জমা হয়ে থাকে পাঠাগারে সংরক্ষিত বইয়ের পাতায়।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, যিশুখ্রিস্টের জন্মের বহু আগে প্রাচীন মিসরে ও গ্রিসে পাঠাগারের অস্তিত্ব ছিল। ভারতে প্রাচীনকালে পণ্ডিতদের ব্যক্তিগত পাঠাগার ছিল। আধুনিককালে বিজ্ঞানের সহায়তায় উন্নত পাঠাগার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

জাতীয় জীবনে পাঠাগারের গুরুত্বের কথা অনুধাবন করে প্রমথ চৌধুরী বলেছেন, ‘আমি লাইব্রেরিকে স্কুল-কলেজের উপরে স্থান দিই এ কারণে যে, এ স্থলে লোকে স্বেচ্ছায় স্বচ্ছন্দচিত্তে স্বশিক্ষিত হওয়ার সুযোগ পায়; প্রতিটি লোক তার স্বীয় শক্তি ও রুচি অনুসারে নিজের মনকে নিজের চেষ্টায় আত্মার রাজ্যে জ্ঞানের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।’

বস্তুত মানুষের মনে রয়েছে অনন্ত জিজ্ঞাসা, অসীম কৌতূহল। তার এই অনন্ত জিজ্ঞাসার জবাব, অন্তহীন জ্ঞান ধরে রাখে বই। আর বই সংগৃহীত থাকে পাঠাগারে। পাঠাগারের বইয়ের ভাণ্ডারে সঞ্চিত হয়ে আছে মানবসভ্যতার শত শত বছরের হৃৎস্পন্দন। এটি মানুষের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের মধ্যে সেতুবন্ধ রচনা করে থাকে।

বেঁচে থাকার জন্য মানুষের যেমন খাবার দরকার, তেমনি জীবনকে গতিময় করার জন্য দরকার জ্ঞান। কারণ জ্ঞান হল মনের খোরাক বা খাবার। আর জ্ঞানের আধার হল বই, যা সংরক্ষিত থাকে পাঠাগারে। প্রতিটি সমাজে যেমন উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল দরকার, তেমনি পাঠাগারেরও প্রয়োজন রয়েছে।

পাঠাগার মানুষের বয়স, রুচি ও চাহিদা অনুযায়ী বই সরবরাহ করে থাকে। আর তাই সচেতন মানুষ মাত্রই পাঠাগারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন।

সাহিত্য, শিল্প, বিজ্ঞান, সংস্কৃতিসহ সব ধরনের জ্ঞানের আধার হতে পারে পাঠাগার। পাঠাগার একটি জাতির বিকাশ ও উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা ছাড়া জাতীয় চেতনার জাগরণ হয় না। আর তাই পাঠাগারের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। বিশ্বের বহু দেশ পাঠকের চাহিদা পূরণের জন্য গড়ে তুলেছে অগণিত পাঠাগার।

শিক্ষার আলোবঞ্চিত কোনো জাতি পৃথিবীতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারেনি। পাঠাগারকে শিক্ষার বাতিঘর বলা হয়। অনেকেরই বই পড়ার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও টাকার অভাবে বই কিনতে পারে না। পাঠাগারের প্রয়োজনীয়তা তাই প্রতিটি সমাজে অনিবার্য।

পাঠাগারের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিচারপতি হাবিবুর রহমান বলেছেন, পাঠাগারের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে গড়ে ওঠে সংহতি, যা দেশ গড়া কিংবা রক্ষার কাজে অমূল্য অবদান রাখে। বই পড়ার যে আনন্দ মানুষের মনে, তাকে জাগ্রত করে তুলতে আজ সব ধরনের পাঠাগারের ব্যাপক প্রসার প্রয়োজন।

জীবনে পরিপূর্ণতার জন্য জ্ঞানের বিকল্প আর কিছু হতে পারে না। জ্ঞানতৃষ্ণা নিবারণ করতে প্রয়োজন পাঠাগার। একটি সমাজের রূপ বদলে দিতে পারে একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার। গবেষকরা মনে করেন, মনকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে পাঠাগারের অবদান অনস্বীকার্য। তাই শহরের পাশাপাশি প্রতিটি গ্রামে, মহল্লায় পাঠাগার গড়ে তোলা প্রয়োজন।

আলী আরমান রকি : শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

[email protected]

ছড়িয়ে পড়ুক পাঠাগার আন্দোলন

 আলী আরমান রকি 
২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
মানুষের বই পড়ার আগ্রহ থেকেই পাঠাগারের সৃষ্টি। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষের জ্ঞান জমা হয়ে থাকে পাঠাগারে সংরক্ষিত বইয়ের পাতায়।
প্রতীকী ছবি

মানুষের বই পড়ার আগ্রহ থেকেই পাঠাগারের সৃষ্টি। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষের জ্ঞান জমা হয়ে থাকে পাঠাগারে সংরক্ষিত বইয়ের পাতায়।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, যিশুখ্রিস্টের জন্মের বহু আগে প্রাচীন মিসরে ও গ্রিসে পাঠাগারের অস্তিত্ব ছিল। ভারতে প্রাচীনকালে পণ্ডিতদের ব্যক্তিগত পাঠাগার ছিল। আধুনিককালে বিজ্ঞানের সহায়তায় উন্নত পাঠাগার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

জাতীয় জীবনে পাঠাগারের গুরুত্বের কথা অনুধাবন করে প্রমথ চৌধুরী বলেছেন, ‘আমি লাইব্রেরিকে স্কুল-কলেজের উপরে স্থান দিই এ কারণে যে, এ স্থলে লোকে স্বেচ্ছায় স্বচ্ছন্দচিত্তে স্বশিক্ষিত হওয়ার সুযোগ পায়; প্রতিটি লোক তার স্বীয় শক্তি ও রুচি অনুসারে নিজের মনকে নিজের চেষ্টায় আত্মার রাজ্যে জ্ঞানের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।’

বস্তুত মানুষের মনে রয়েছে অনন্ত জিজ্ঞাসা, অসীম কৌতূহল। তার এই অনন্ত জিজ্ঞাসার জবাব, অন্তহীন জ্ঞান ধরে রাখে বই। আর বই সংগৃহীত থাকে পাঠাগারে। পাঠাগারের বইয়ের ভাণ্ডারে সঞ্চিত হয়ে আছে মানবসভ্যতার শত শত বছরের হৃৎস্পন্দন। এটি মানুষের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের মধ্যে সেতুবন্ধ রচনা করে থাকে।

বেঁচে থাকার জন্য মানুষের যেমন খাবার দরকার, তেমনি জীবনকে গতিময় করার জন্য দরকার জ্ঞান। কারণ জ্ঞান হল মনের খোরাক বা খাবার। আর জ্ঞানের আধার হল বই, যা সংরক্ষিত থাকে পাঠাগারে। প্রতিটি সমাজে যেমন উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল দরকার, তেমনি পাঠাগারেরও প্রয়োজন রয়েছে।

পাঠাগার মানুষের বয়স, রুচি ও চাহিদা অনুযায়ী বই সরবরাহ করে থাকে। আর তাই সচেতন মানুষ মাত্রই পাঠাগারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন।

সাহিত্য, শিল্প, বিজ্ঞান, সংস্কৃতিসহ সব ধরনের জ্ঞানের আধার হতে পারে পাঠাগার। পাঠাগার একটি জাতির বিকাশ ও উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা ছাড়া জাতীয় চেতনার জাগরণ হয় না। আর তাই পাঠাগারের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। বিশ্বের বহু দেশ পাঠকের চাহিদা পূরণের জন্য গড়ে তুলেছে অগণিত পাঠাগার।

শিক্ষার আলোবঞ্চিত কোনো জাতি পৃথিবীতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারেনি। পাঠাগারকে শিক্ষার বাতিঘর বলা হয়। অনেকেরই বই পড়ার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও টাকার অভাবে বই কিনতে পারে না। পাঠাগারের প্রয়োজনীয়তা তাই প্রতিটি সমাজে অনিবার্য।

পাঠাগারের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিচারপতি হাবিবুর রহমান বলেছেন, পাঠাগারের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে গড়ে ওঠে সংহতি, যা দেশ গড়া কিংবা রক্ষার কাজে অমূল্য অবদান রাখে। বই পড়ার যে আনন্দ মানুষের মনে, তাকে জাগ্রত করে তুলতে আজ সব ধরনের পাঠাগারের ব্যাপক প্রসার প্রয়োজন।

জীবনে পরিপূর্ণতার জন্য জ্ঞানের বিকল্প আর কিছু হতে পারে না। জ্ঞানতৃষ্ণা নিবারণ করতে প্রয়োজন পাঠাগার। একটি সমাজের রূপ বদলে দিতে পারে একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার। গবেষকরা মনে করেন, মনকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে পাঠাগারের অবদান অনস্বীকার্য। তাই শহরের পাশাপাশি প্রতিটি গ্রামে, মহল্লায় পাঠাগার গড়ে তোলা প্রয়োজন।

আলী আরমান রকি : শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

[email protected]