Logo
Logo
×
   

Advertisement

সম্পাদকীয়

মৃত্যু এখন সংখ্যা মাত্র!

সচেতন না হলে এ সংখ্যা বাড়তেই থাকবে

Advertisement

Icon

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মৃত্যু এখন সংখ্যা মাত্র!

Advertisement

দেশে করোনা পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। গত বছরের মার্চে শুরু হওয়া করোনা সংক্রমণ একটা পর্যায়ে এসে সহনীয় মাত্রায় কমে এসেছিল। কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এমনভাবে আঘাত হানছে যে, পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তা ভাবলে গা শিউরে ওঠে। বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত দেশে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। পরীক্ষা কম হওয়ায় শনাক্তের সংখ্যা কিছুটা কমলেও মৃত্যু বেড়ে চলেছে আশঙ্কাজনকভাবে। সংখ্যাতত্ত্ব অনুযায়ী, সর্বশেষ এক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে মাত্র ১৫ দিনে। মৃতদের মধ্যে অনেকেই আছেন, যারা দেশের বিশিষ্টজন।

করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় রোগীদের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। রাজধানীর কোনো হাসপাতালেই শয্যা খালি নেই। এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতাল ঘুরেও গুরুতর অসুস্থরা আইসিইউ দূরের কথা, সাধারণ শয্যাও পাচ্ছেন না। এ এক গুরুতর পরিস্থিতি। ওদিকে নমুনা পরীক্ষা করাতে গিয়েও ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। হাসপাতালে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পরীক্ষা করাতে না পেরে বাসায় ফিরে যাচ্ছেন অনেকে। সমস্যার যেন কোনো অন্ত নেই। লকডাউনে সড়কে যানবাহন কম থাকায় করোনা রোগী ও তাদের স্বজনদের হাসপাতালে যেতে পড়তে হচ্ছে চরম বিড়ম্বনায়।

দেশজুড়ে এখন চলছে লকডাউন। বলা হচ্ছে সর্বাত্মক লকডাউন, কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ঢিলেঢালা ভাব। এমনও হচ্ছে, রাজধানীতে লেগে যাচ্ছে গাড়ির জ্যাম। শিল্প-কারখানা ছাড়া সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে বটে, তবে রাস্তায় মানুষের চলাচল থেমে নেই। এই লকডাউন করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে কতটা কার্যকর হবে, তা এক প্রশ্ন বটে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, মানুষের মধ্যে করোনাভীতি তেমন নেই। গত বছরের এপ্রিলে মানুষের মধ্যে করোনা নিয়ে যে ভীতি কাজ করছিল, তার অনেকটাই এই এপ্রিলে নেই বলা যায়। আবার শহরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে করোনা নিয়ে যতটা ভীতি কাজ করছে, গ্রামাঞ্চলের মানুষের মধ্যে সেটাও নেই। এই গা-ছাড়া ভাব বিপজ্জনক বটে। করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু যে হারে বাড়ছে, তা রোধ করতে হলে গা-ছাড়া ভাব কাটিয়ে গা-ঝাড়া দিয়ে সম্বিৎ ফিরে পেতে হবে। আমরা একটা কথা বারবারই বলে আসছি-দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার যে হাল, তাতে চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধের ওপর জোর দিতে হবে বেশি। এটা করতে গিয়ে সরকারি নির্দেশনাগুলোয় ব্যক্তি-সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে বেশি। বস্তুত ব্যক্তি যদি সচেতন না হয়, তাহলে সরকারি নির্দেশনা কোনো কাজে আসবে না। এখনো প্রচুর লোক পাওয়া যাবে, যারা মাস্ক ব্যবহার করেন না, সামাজিক দূরত্ব মেলে চলেন না। অথচ তারা প্রতিদিনই জানতে পারছেন সংক্রমণ ও মৃত্য বেড়েই চলেছে। করোনা নিয়ে অদৃষ্টবাদের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি বিজ্ঞানভিত্তিক। বিজ্ঞানের সূত্র অবহেলা করে সবকিছু অদৃষ্টের হাতে ছেড়ে দিলে বিপদ বাড়বে বৈ কমবে না। তাই আমরা বলব, শুধু লকডাউনের নিয়মাবলি মেনে চললেই হবে না, যাপিত জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই করোনা প্রতিরোধের নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হবে। আমরা সবাই খুব খারাপ সময় অতিক্রম করছি। সবশেষ কথা, আমাদের প্রত্যেককেই করোনাজয়ী হয়ে বেঁচে থাকতে হবে। জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো-বেঁচে থাকা।

Advertisement

করোনা

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম