চালের দামে ভোগান্তি
jugantor
চালের দামে ভোগান্তি
মজুত বাড়ানোর পদক্ষেপ নিতে হবে

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৫ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা পরিস্থিতিতে ভোক্তার আয় কমলেও বেড়েছে ব্যয়। কারণ বাজারে অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম চড়া। গত ১ মাসের ব্যবধানে খুচরা বাজারে বিভিন্ন ধরনের চালের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে বেশি বেড়েছে মোটা চালের দাম। এ অবস্থায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষ। বস্তুত, রমজান শুরুর মাসখানেক আগে থেকেই নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

ইতোমধ্যে প্রায় প্রতিটি নিত্যপণ্যের দাম কয়েক দফা বেড়েছে। প্রথাগত সরবরাহ প্রক্রিয়া, পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অপর্যাপ্ত ও সমন্বয়হীন বাজার মনিটরিং- এসব কারণেই রমজান মাসে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। এবারও একই ঘটনা ঘটেছে। গত কয়েকদিনে কোনো কোনো নিত্যপণ্যের দাম খুচরা বাজারে এতটাই বেড়েছে যে, বহু ক্রেতা বাধ্য হয়ে প্রয়োজনের চেয়ে অনেক কম পণ্য নিয়ে ঘরে ফিরেছে। এ পরিস্থিতিতে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল যাতে বাজার অস্থিতিশীল করতে না পারে, সেজন্য কর্তৃপক্ষকে বিশেষভাবে তৎপর থাকতে হবে।

নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দামের কারণে ভোক্তারা যখন দিশাহারা, তখন সরকারের বিভিন্ন গুদামে চালের মজুত অপর্যাপ্ত, যা ১৩ বছরের মধ্যে সর্বনিু বলে জানা গেছে। বিষয়টি উদ্বেগজনক। আরও জানা গেছে, ঘাটতি মেটাতে সরকারিভাবে চাল আমদানির কার্যক্রম শুরু হলেও সময়মতো আমদানি করা সম্ভব হয়নি। এখন কৃষক নতুন ধান কাটায় ব্যস্ত। নতুন ধান সংগ্রহের পর যে পরিমাণ ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে, তা পূরণে সময়মতো আমদানির উদ্যোগ নেওয়া না হলে চালের বাজার আবারও অস্থির হতে পারে। আর এ সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা কারসাজির মাধ্যমে চালের দাম আরেক দফা বাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে।

লক্ষ করা যাচ্ছে, অব্যাহতভাবে বাজার তদারকির পরও ভোক্তারা এর সুফল পাচ্ছে না। প্রকৃতপক্ষে এখন স্বল্প ও সীমিত আয়ের নাগরিকদের নাভিশ্বাস উঠে গেছে। শাকসবজির দামও এত চড়া যে, সেগুলোও তাদের নাগালের বাইরে। চাল ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের চাপ বেশি পড়ে নিু ও নিুমধ্যবিত্তের ওপর। কাজেই স্বল্পআয়ের মানুষের সুরক্ষায় কর্তৃপক্ষকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। এটা স্পষ্ট হয়েছে, অসাধু ব্যবসায়ীদের ন্যূনতম দেশাত্মবোধ ও মানবিকতা বলতে কিছু নেই। অর্থলোভই এদের একমাত্র চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। এ পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বাজার তদারকির সঙ্গে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়াতে হবে। এ প্রক্রিয়ায় অসাধুদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে আমাদের প্রধান খাদ্যপণ্য চালের পর্যাপ্ত মজুত গড়ে তুলতে হবে যে কোনোভাবে।

চালের দামে ভোগান্তি

মজুত বাড়ানোর পদক্ষেপ নিতে হবে
 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৫ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা পরিস্থিতিতে ভোক্তার আয় কমলেও বেড়েছে ব্যয়। কারণ বাজারে অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম চড়া। গত ১ মাসের ব্যবধানে খুচরা বাজারে বিভিন্ন ধরনের চালের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে বেশি বেড়েছে মোটা চালের দাম। এ অবস্থায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষ। বস্তুত, রমজান শুরুর মাসখানেক আগে থেকেই নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

ইতোমধ্যে প্রায় প্রতিটি নিত্যপণ্যের দাম কয়েক দফা বেড়েছে। প্রথাগত সরবরাহ প্রক্রিয়া, পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অপর্যাপ্ত ও সমন্বয়হীন বাজার মনিটরিং- এসব কারণেই রমজান মাসে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। এবারও একই ঘটনা ঘটেছে। গত কয়েকদিনে কোনো কোনো নিত্যপণ্যের দাম খুচরা বাজারে এতটাই বেড়েছে যে, বহু ক্রেতা বাধ্য হয়ে প্রয়োজনের চেয়ে অনেক কম পণ্য নিয়ে ঘরে ফিরেছে। এ পরিস্থিতিতে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল যাতে বাজার অস্থিতিশীল করতে না পারে, সেজন্য কর্তৃপক্ষকে বিশেষভাবে তৎপর থাকতে হবে।

নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দামের কারণে ভোক্তারা যখন দিশাহারা, তখন সরকারের বিভিন্ন গুদামে চালের মজুত অপর্যাপ্ত, যা ১৩ বছরের মধ্যে সর্বনিু বলে জানা গেছে। বিষয়টি উদ্বেগজনক। আরও জানা গেছে, ঘাটতি মেটাতে সরকারিভাবে চাল আমদানির কার্যক্রম শুরু হলেও সময়মতো আমদানি করা সম্ভব হয়নি। এখন কৃষক নতুন ধান কাটায় ব্যস্ত। নতুন ধান সংগ্রহের পর যে পরিমাণ ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে, তা পূরণে সময়মতো আমদানির উদ্যোগ নেওয়া না হলে চালের বাজার আবারও অস্থির হতে পারে। আর এ সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা কারসাজির মাধ্যমে চালের দাম আরেক দফা বাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে।

লক্ষ করা যাচ্ছে, অব্যাহতভাবে বাজার তদারকির পরও ভোক্তারা এর সুফল পাচ্ছে না। প্রকৃতপক্ষে এখন স্বল্প ও সীমিত আয়ের নাগরিকদের নাভিশ্বাস উঠে গেছে। শাকসবজির দামও এত চড়া যে, সেগুলোও তাদের নাগালের বাইরে। চাল ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের চাপ বেশি পড়ে নিু ও নিুমধ্যবিত্তের ওপর। কাজেই স্বল্পআয়ের মানুষের সুরক্ষায় কর্তৃপক্ষকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। এটা স্পষ্ট হয়েছে, অসাধু ব্যবসায়ীদের ন্যূনতম দেশাত্মবোধ ও মানবিকতা বলতে কিছু নেই। অর্থলোভই এদের একমাত্র চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। এ পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বাজার তদারকির সঙ্গে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়াতে হবে। এ প্রক্রিয়ায় অসাধুদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে আমাদের প্রধান খাদ্যপণ্য চালের পর্যাপ্ত মজুত গড়ে তুলতে হবে যে কোনোভাবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন