সর্বাত্মক লকডাউন
যে কোনো উপায়ে কার্যকর করতে হবে
Advertisement
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে করোনা সংক্রান্ত জাতীয় পরামর্শ কমিটি সারা দেশে শাটডাউন বা সবকিছু বন্ধ করে দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। এই সুপারিশের ভিত্তিতে আজ থেকে ৭ জুলাই রাত ১২টা পর্যন্ত সারা দেশে কঠোর বা সর্বাত্মক লকডাউন বলবৎ থাকবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বলেছেন, এ সময় জরুরি সেবা ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বেরোতে পারবে না। কঠোর বিধিনিষেধ মানাতে পুলিশ, বিজিবি, ব্যাটালিয়ন পুলিশ ছাড়াও সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে।
তিনি আরও বলেছেন, প্রয়োজন হলে লকডাউন আরও এক সপ্তাহ বাড়তে পারে। এবারের লকডাউনের একটি বৈশিষ্ট্য হলো, আগের লকডাউনগুলোয় যেমন আউট পাশ বা বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, এবার তা দেওয়া হবে না।
সারা দেশে কঠোর লকডাউনের সরকারি সিদ্ধান্তটি সময়োপযোগী বলা যায়। প্রথমত, ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট দেশে বিপর্যয়কর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।
দ্বিতীয়ত, লক্ষ করা গেছে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের অবহেলা ও উদাসীনতা রয়েছে। অনেক এলাকায় লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে বটে, কিন্তু তা শতভাগ কার্যকর করা যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে সারা দেশে কঠোর বা সর্বাত্মক লকডাউনের কোনো বিকল্প ছিল না। আমরা মনে করি, এবারকার লকডাউনের নির্দেশাবলি অক্ষরে অক্ষরে পালন করা উচিত।
এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। লকডাউনের নিয়মাবলি ভঙ্গ করলে থাকতে হবে শাস্তির ব্যবস্থা। তবে লকডাউন বাস্তবায়নের বিষয়টি সবচেয়ে বেশি নির্ভর করে সাধারণ মানুষের ওপর।
সাধারণ মানুষের সচেতনতাই লকডাউন কার্যকরের সবচেয়ে বড় উপায়। বলার অপেক্ষা রাখে না, করোনা পরিস্থিতি বর্তমানে যে পর্যায়ে এসেছে, এজন্য মূলত দায়ী সাধারণ মানুষের অসচেতনতা।
গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্ত হওয়ার পর সংক্রমণ বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় ২৬ মার্চ থেকে টানা ৬৬ দিন সাধারণ ছুটি ছিল। সে সময় সব অফিস-আদালত, কল-কারখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছিল, সব ধরনের যানবাহনের ওপরই ছিল নিষেধাজ্ঞা।
কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, এই সাধারণ ছুটি বা ‘লকডাউন’ সেভাবে কার্যকর করা যায়নি। মাস্ক পরিধান ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার বিষয় দুটি হয়েছিল উপেক্ষিত। আমরা আশা করব, এবারের সর্বাত্মক লকডাউনে যেন সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
সরকারি নির্দেশাবলি ও স্বাস্থ্যবিধি- উভয়ই মেনে চলতে হবে সর্বসাধারণকে। তবে একটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়। সর্বাত্মক লকডাউনে বিশেষত খেটে খাওয়া মানুষের যেন খাদ্যাভাব না হয়, সেদিকে নজর রাখতে হবে সরকারকে। প্রয়োজনে তাদের জন্য ব্যবস্থা করতে হবে নগদ অর্থ কিংবা খাদ্যসামগ্রীর। এবারের লকডাউন শতভাগ সফল হোক- এটাই প্রত্যাশা।
