করোনায় চিকিৎসক সংকট
অবিলম্বে জনবল বাড়াতে হবে
Advertisement
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেশের করোনা পরিস্থিতি মোটেও ভালো নয়। প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ হাজার মানুষ সংক্রমিত হচ্ছেন করোনাভাইরাসে। মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিদিন দুই শতাধিক।
এমন পরিস্থিতিতে করোনা রোগীদের চিকিৎসা ও সেবার বিষয়টি আশানুরূপ হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তব পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এক কথায় বললে, বিপুলসংখ্যক করোনা রোগীর চিকিৎসার জন্য নেই পর্যাপ্তসংখ্যক চিকিৎসক। এমনকি জেলা-উপজেলা পর্যায়ে করোনাসংক্রান্ত সঠিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পরামর্শ সেবা দেওয়ার জন্য নেই কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।
সংকট রয়েছে নার্স ও টেকনোলজিস্টেরও। বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসকের এমন স্বল্পতা নিয়ে করোনা মহামারি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। বস্তুত, দেশে করোনা চিকিৎসার জন্য একদিকে চিকিৎসকের অভাব রয়েছে, অন্যদিকে চিকিৎসকরা ব্যাপকহারে আক্রান্ত হচ্ছেন করোনায়। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ২৯৮৭ জন চিকিৎসক, মারা গেছেন ১৬৭ জন। এই যখন অবস্থা, তখন আগামী দিনগুলোয় করোনা রোগীর সেবা কেমন হবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন দেশবাসী।
তবে আশার কথা, এ পরিস্থিতিতে দেশের স্বাস্থ্য খাতে ১৭ হাজার জনবল নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছেন ২ হাজার চিকিৎসক, ৪ হাজার নার্স এবং ১১ হাজার টেকনোলজিস্ট। এ ছাড়া ৪০৯ জন জুনিয়র কনসালটেন্ট নিয়োগেরও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
আমরা মনে করি, জনবল নিয়োগের এই সিদ্ধান্ত দ্রুত কার্যকর করা দরকার। এটা সম্ভব হলে তা করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতি এক হাজার লোকের জন্য একজন এমবিবিএস চিকিৎসক প্রয়োজন। তবে উল্লেখ করা যায়, বিশ্বের ৪৪ শতাংশ দেশেই এই সংখ্যক চিকিৎসক নেই। বাংলাদেশে এ সংকট আরও ব্যাপক। এখানে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের চিকিৎসকের চরম ঘাটতি রয়েছে। দেশে করোনা চিকিৎসায় মেডিসিন বিশেষজ্ঞ রয়েছেন মাত্র সাতশ জন। অথচ এক্ষেত্রে প্রয়োজন ১৯২৪ জন।
করোনা চিকিৎসায় চিকিৎসকের এই ঘাটতির বিপরীতে দেশের করোনা পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। রোগটি সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ায় রাজধানীর পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। শুধু প্রান্তিক পর্যায়েই রোগীদের চিকিৎসাব্যবস্থা অপ্রতুল নয়, রাজধানীতেও সংকুচিত হয়ে আসছে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার বিষয়টি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে হারে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে, তাতে এই ধারা অব্যাহত থাকলে এক সপ্তাহ পর হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে।
বর্তমানে করোনা সামাল দেওয়ার জন্য চিকিৎসকের ঘাটতি শুধু নয়, ঘাটতি রয়েছে চিকিৎসা সরঞ্জামাদিরও। বিশেষ করে জেলা সদর হাসপাতালগুলোয় প্যাথলজিস্ট ও মাইক্রো বায়োলজিস্ট নেই। ফলে অনেক জেলায় আরটিপিসিআর ল্যাব স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। এমনকি সিআরপি, ডি-ডাইমার ইত্যাদি কোভিডসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলোও করা সম্ভব হচ্ছে না।
চিকিৎসক ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সংকটের এই মুহূর্তে সরকারের ওপর গুরুদায়িত্ব বর্তেছে সংকট দুটি মোকাবিলার। চিকিৎসা খাতে জনবল নিয়োগের বিষয়টিতে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে অবশ্যই। সরকারিভাবে চিকিৎসক নিয়োগের বিষয়টি অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ; কিন্তু জাতীয় দুর্যোগ বিবেচনায় চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়াটি সহজ করতে হবে। অতি অল্প সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করতে হবে নিয়োগ প্রক্রিয়া।
দ্বিতীয়ত, চিকিৎসা সরঞ্জামের যে ঘাটতি রয়েছে, তাও পূরণ করতে হবে অবিলম্বে। তৃতীয়ত, যেসব চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন, তাদের পরিবারের জন্য ব্যবস্থা করতে হবে প্রণোদনার।
