অকার্যকর ভিটিএস পদ্ধতি
তেল চুরি নির্বিঘ্ন করাই উদ্দেশ্য?
Advertisement
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ফেরি বা জাহাজের গতিবেগসহ বিভিন্ন বিষয় মনিটরিংয়ের জন্য ভ্যাসেল ট্র্যাকিং সিস্টেম (ভিটিএস) স্থাপন করেছিল বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)।
ভিটিএস স্থাপনের উদ্দেশ্য ছিল এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে চলাচলের দূরত্ব পরিমাপ এবং জাহাজের গতি নির্ণয় করে সে অনুযায়ী তেল বরাদ্দ দিয়ে এক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
বিআইডব্লিউটিসির ৩৫টি ফেরি ও সাতটি যাত্রীবাহী জাহাজে ঘটা করে এ প্রযুক্তি স্থাপন করা হলেও বর্তমানে রহস্যজনক কারণে তা পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে আছে। বর্তমানে ফেরি ও জাহাজে তেল বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ম্যানুয়াল পদ্ধতি অনুসরণ করে। অভিযোগ রয়েছে, তেল চুরির পথ নির্বিঘ্ন করতেই ভিটিএস কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। জানা গেছে, দূরত্ব, গতিবেগ ও স্রোত বিবেচনায় বিপুল পরিমাণ তেল বরাদ্দ দেওয়া হলেও সেই অনুযায়ী ফেরি ও জাহাজ চালানো হয় না।
বরং বরাদ্দের তেল বাঁচিয়ে তা গোপনে বিক্রি করা হয়। সর্বশেষ এ ঘটনার প্রমাণ মিলেছে বাংলাবাজার-শিমুলিয়া রুটে চলাচলকারী রো রো ফেরি শাহজালালের ক্ষেত্রে। সংক্ষিপ্ত পথে চলতে গিয়ে ওই ফেরি পদ্মা সেতুর পিলারে আঘাত করে। যদিও স্রোত বৃদ্ধি ও পদ্মা সেতুর পিলার নিরাপদ রেখে নির্দিষ্ট দূরত্বের বাইরে চলাচলের জন্য কয়েক সপ্তাহ আগেই এ রুটের সবক’টি ফেরির তেল বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। বস্তুত পদ্মা সেতুতে ফেরির ধাক্কা দেওয়ার ঘটনায়ই ভিটিএস অকার্যকর থাকার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। প্রশ্ন হলো, কোনো দুর্ঘটনার পরই কি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে?
উদ্বোধনের পর ভিটিএস ব্যবহার ও এর সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণে কর্তৃপক্ষ কতটা দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা দরকার। এ প্রযুক্তি অকার্যকর হওয়ার পর একে সচল করতে কেন যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হলো না, তাও খতিয়ে দেখা দরকার।
কিছু কর্মকতা-কর্মচারীর দুর্নীতি ও দায়িত্বহীনতার কারণেই পদ্মা সেতুর মতো একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ফেরির ধাক্কার ঘটনা ঘটেছে। আমাদের প্রশ্ন, আর কত বড় দুর্ঘটনার পর কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে? ভিটিএস কার্যকর করতে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
যাদের কারণে এ প্রযুক্তি অকার্যকর ছিল, তাদের সবার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না হলে অন্য দুর্নীতিবাজরা যে আরও বেপরোয়া হবে, তা বলাই বাহুল্য। শুধু বিআইডব্লিউটিসি নয়, কোনো সরকারি সংস্থারই পরিবহণ সেক্টরে যাতে তেল চুরির মতো ঘটনা না ঘটে, সে জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
