Logo
Logo
×

Advertisement

সম্পাদকীয়

দেশি মাছের স্বাদ-গন্ধ

ফিরিয়ে আনা সম্ভব কি?

Advertisement

Icon

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২১, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

দেশি মাছের স্বাদ-গন্ধ

Advertisement

কয়েক যুগ আগেও দেশের নদী-খাল-বিল-পুকুরসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক জলাশয়ে বিপুল পরিমাণ দেশি মাছ পাওয়া যেত। বর্তমানে দেশি-বিদেশি মাছ মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও দেশি মাছের আসল স্বাদ হারিয়ে গেছে। পরিবারের প্রবীণ ব্যক্তিরা এখনো বিভিন্ন জাতের দেশি মাছের স্বাদের স্মৃতি ভুলতে পারেন না। বিশ্বে মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান উপরের দিকে। দেশে গত এক দশকে দেশি জাতের ছোট মাছের উৎপাদন বেড়েছে কয়েকগুণ। এসব মাছের স্বাদ-বৈচিত্র্য কেন হারিয়ে গেল, তার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা প্রয়োজন। এসব মাছের পুষ্টিমানে কী পরিবর্তন হয়েছে, তাও খুঁজে বের করা দরকার। দেশে এখন বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছ বাণিজ্যিকভাবে পুকুরেও চাষ হচ্ছে। সেসব মাছকে প্রতিনিয়ত কৃত্রিম খাবার দেওয়া হয়। তিন দশক আগেও দেশি কিংবা চাষ করা বিদেশি মাছে প্রকৃত স্বাদ-গন্ধ ছিল। ওই সময়েও পুকুরে প্রাকৃতিক খাবারের পাশাপাশি কৃত্রিম খাবার দেওয়া হতো। এখন কোনো কোনো মাছচাষি বেশি লাভের আশায় পুকুর বা জলাশয়ে অতিরিক্ত খাবার দিয়ে থাকে।

জানা যায়, দেশে এক সময় তিন শতাধিক দেশীয় প্রজাতির মাছ ছিল। এসব মাছের অধিকাংশই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তবে বিলুপ্ত হওয়া প্রায় ৩০ প্রজাতির দেশীয় মাছ এখন বিশেষ পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা হচ্ছে। তাছাড়া নদী-হাওড়-বিলে দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্তকরণ এবং মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিলুপ্তপ্রায় মাছের উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। এ ক্ষেত্রে দেশীয় মাছের স্বাদ-গন্ধ পুনরুদ্ধার করা যায় কিনা, তারও গবেষণা হওয়া উচিত। বর্তমানে চাষ করা বিভিন্ন প্রজাতির মাছে বিরক্তিকর গন্ধের উপস্থিতি ভোক্তাদের ভাবিয়ে তুলেছে। অভিযোগ রয়েছে, সামুদ্রিক পচা মাছ, ট্যানারির বর্জ্যসহ ক্ষতিকর ধাতু মেশানো হয় মাছের খাবারে। বিষাক্ত এই খাবারে বেড়ে ওঠা মাছ খেলে মানবদেহে নানা জটিল রোগ সৃষ্টির আশঙ্কা থাকে। জানা গেছে, বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ মেশানো মাছের খাবারের সঙ্গে মাছ দ্রুত বৃদ্ধির সম্পর্ক রয়েছে। মাছ মানুষের পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই মাছ চাষের সঙ্গে সম্পর্কিত সব বিষয় যথাযথ পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা জরুরি হয়ে পড়েছে। বিশেষত মাছের কৃত্রিম খাবার নিয়মিত পরীক্ষা করে দেখতে হবে সেগুলোতে কোনো ক্ষতিকর পদার্থ আছে কিনা। আমাদের ঐতিহ্যবাহী এ খাদ্যটিকে নিরাপদ রাখা সম্ভব না হলে ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ কথাটি অর্থহীন হয়ে পড়বে।

Advertisement

দেশী মাছ

Advertisement

আরও পড়ুন

ফের এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি

ফের এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি

আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য

আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য

পোশাকশিল্পে অনাকাঙ্ক্ষিত অস্থিরতা

পোশাকশিল্পে অনাকাঙ্ক্ষিত অস্থিরতা

এইচএসসির ফল বিপর্যয়ের বার্তা

এইচএসসির ফল বিপর্যয়ের বার্তা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম