Logo
Logo
×
   

সম্পাদকীয়

রাস্তাজুড়ে ঝুলন্ত মৃত্যুদূত

Icon

হাসান হামিদ

প্রকাশ: ০৮ মে ২০১৮, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

রাস্তাজুড়ে ঝুলন্ত মৃত্যুদূত

রিকশা করে শিল্পকলা একাডেমি যাচ্ছিলাম। নয়াপল্টনে একটা গলির ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় লক্ষ করলাম, ঝুলন্ত বৈদ্যুতিক তারের বিরাট জটলায় একটা গাড়ি আটকা পড়েছে।

এ দৃশ্য রাজধানীর প্রতিটি গলির। রাজধানীজুড়ে বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটিগুলোতে বিপজ্জনকভাবে তারের জট নয়, যেন মৃত্যুদূত ঝুলছে।

কয়েকদিন আগে শান্তিনগরে এক যুবকের মৃত্যুর কথা শুনেছি, যিনি নিজের দোকানের সামনের এসব তার নিজেই সরাতে চেয়েছিলেন। ঢাকা শহরে প্রায় সব ফুটপাত বা রাস্তায় নেমে এসেছে তারের লাইন।

ঝুলে থাকা এসব তারের মাধ্যমেই মাঝে মাঝে ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। জঞ্জালের মতো এসব তার নষ্ট করছে ঢাকার সৌন্দর্যও। কিন্তু এসব তার অপসারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কোনো পদক্ষেপই কাজে আসছে না।

যদিও রাজধানীতে ইন্টারনেট আর ক্যাবল টিভির তার মাটির নিচ দিয়ে সরবরাহের কথা; কিন্তু তা মানছেন না ব্যবসায়ীরা। ফলে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন সাধারণ পথচারীরা। এসব যেন দেখার কেউ নেই।

এবার দেখি ন্যাশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক (এনটিটিএন) সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এ ব্যাপারে কী বলে আসছে অনেক দিন ধরে।

তারা বলছে, রাজধানীর মতিঝিল, গুলশান, নিকেতন ও মহাখালীতে তারা শতভাগ ভূগর্ভস্থ ক্যাবল অবকাঠামো নির্মাণ করেছেন। সড়কগুলো থেকে বিপজ্জনক তার অপসারণ করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অভিযান চালালেও কয়েক দিন পরই ফিরে আসে আগের রূপ।

ফলে ভোগান্তি কমে না। আবার ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভূগর্ভস্থ সুবিধা না থাকায় তারা এভাবে যত্রতত্র তার ঝুলিয়ে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারীদের সংগঠন আইএসপিএবি বলছে, এনটিটিএন হল মাটির নিচ দিয়ে তারের সংযোগ ব্যবস্থা। উন্নত দেশগুলোর মতো ঢাকায় এনটিটিএন ব্যবস্থা চালু হলে ইন্টারনেট সচল রেখে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার নামিয়ে ভূগর্ভস্থ করা সম্ভব।

আমরা যতদূর জানি, মতিঝিল, গুলশান, নিকেতন ও মহাখালী ওল্ড ডিওএইচএস এলাকার প্রতিটি ভবনে স্থাপন করা হয়েছে অপটিক্যাল ফাইবার। ভূগর্ভস্থ ক্যাবলের মাধ্যমে প্রতিটি বাড়িতেই সংযোগ প্রদানের ব্যবস্থা করে তুলেছে এনটিটিএন।

তারপরও এসব এলাকার সড়কগুলোতে এখনও কেন ঝুলছে তারের ঝুরি? আমরা দেখি, বিদ্যুতের পিলারে পিলারে রয়েছে তারের জট। একই চিত্র রাজধানীর অন্যান্য এলাকারও।

যদিও এনটিটিএন প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সড়কগুলো থেকে বিপজ্জনক তার অপসারণ করতে গত পাঁচ বছরে নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। কোনো কোনো সড়কে তার কেটে অপসারণ করার কয়েকদিন পরই ফিরে পাচ্ছে আগের রূপ।

বারবার সময় দেয়ার পরও বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ঝুলানো তারের জট সরানো যায়নি। এখনও রাজধানীর সড়কগুলোয় বিপজ্জনক অবস্থায় ঝুলছে স্যাটেলাইট ক্যাবল অপারেটরদের ডিশলাইন ও ইন্টারনেটের শত শত তার। এই তার ছিঁড়ে মাঝে-মধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা।

পত্রিকা মারফত জেনেছি, ২০১০ সালে সরকার রাজধানীর সব ঝুলন্ত তার ও বিদ্যুৎ বিতরণ লাইন মাটির নিচ দিয়ে নেয়ার ঘোষণা দেয়। এরপর থেকে সংশ্লিষ্টরা সময় নিয়েছে। কর্তৃপক্ষ সময় দিয়েছেও। কিন্তু তার আর সরেনি।

ঝুলন্ত তার ঝুলেই আছে। নগরীর সব জায়গায় এসব তার, বিশেষ করে ইন্টারনেট ও ডিশের তার বিদ্যুতের খুঁটিতে ঝুলছে বিশৃঙ্খলভাবে। কিছু কিছু স্থানে তারের চাপ এমন যে খুঁটি হেলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

এর আগেও ২০০৮ সালে সরকারের পক্ষ থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ভূগর্ভস্থ কমন নেটওয়ার্ক স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। এর অংশ হিসেবে তারা সরকারি টাকা খরচ করে এনটিটিএন গাইডলাইন তৈরি করেন।

ওই গাইডলাইন অনুযায়ী ফাইবার অ্যাট হোম এবং সামিট কমিউনিকেশন রাজধানীর অধিকাংশ এলাকায় ভূগর্ভস্থ অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কাজ শেষ করে। কিন্তু তারের জঞ্জাল সরেনি। আমরা এ থেকে মুক্তি চাই।

হাসান হামিদ : প্রাবন্ধিক

 

সড়ক

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম