Logo
Logo
×
   

Advertisement

সম্পাদকীয়

ই-কমার্স প্রতারণা

ভোক্তাস্বার্থ সুরক্ষার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে

Advertisement

Icon

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ই-কমার্স প্রতারণা

Advertisement

বিশ্বব্যাপী ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়লেও আমাদের দেশে এ খাতের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের হতাশা বাড়ছে। সম্প্রতি দেশে কয়েকটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের প্রতারণার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্ণধারদের গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এতে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা তাদের ক্ষতিপূরণ পাবেন কিনা এ প্রশ্ন উঠেছে। বস্তুত অতীতে ডেসটিনি, যুবকসহ এ রকম বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকরা তাদের ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায় এমন প্রশ্ন উঠেছে। করোনার কারণে গত প্রায় দেড় বছর ব্যবসায়ীরা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পণ্য বিক্রি করতে পারেননি। এ সময় বহু ক্রেতা অনলাইনে পণ্য ক্রয়ে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। বস্তুত গত কয়েক বছরে দেশে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে এ খাতে প্রতারণার অভিযোগ। প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মামলায় সর্বশেষ ইভ্যালির প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মো. রাসেল এবং চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এখন পর্যন্ত এ প্রতিষ্ঠানটির দায় হাজার কোটি টাকার বেশি হলেও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আছে মাত্র ত্রিশ লাখ টাকার মতো। অবশ্য ইভ্যালির সিইও ও চেয়ারম্যানের মুক্তির দাবিতে বেশকিছু গ্রাহকের তৎপরতা লক্ষ করা গেছে। তারা মনে করছেন, সিইও ও চেয়ারম্যান গ্রেফতার না হলে তারা দ্রুত তাদের অর্থ ফেরত পেতেন। জানা গেছে, গ্রাহকের অর্থ দিয়েই ইভ্যালির যাবতীয় ব্যয় নির্বাহ করা হতো। আরও জানা গেছে, মাত্র এক কোটি টাকা দিয়ে মো. রাসেল ইভ্যালির কার্যক্রম শুরু করেন। ডেসটিনি, যুবকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের মতো ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের অর্থ ফেরত পেতে যাতে বিড়ম্বনার শিকার হতে না হয়, তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে সরকারকে।

অনলাইনে পণ্য ক্রয় করতে গিয়ে ক্রেতারা অহরহ নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। অগ্রিম অর্থ পরিশোধ করার পরও সময়মতো পণ্য না পাওয়া; পরিশোধিত অর্থের বিপরীতে প্রাপ্ত পণ্যের গুণগত মান ঠিক না থাকা-এমন নানা বিড়ম্বনার শিকার হলেও এ থেকে পরিত্রাণের উপায় তাদের অজানা। এ ব্যাপারে ভোক্তাস্বার্থ সুরক্ষার জন্য একটি যথাযথ নীতিমালা ও ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন বলে মনে করি আমরা। সেই সঙ্গে ভোক্তাদেরও সচেতন হতে হবে, বিশেষ করে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের চটকদার বিজ্ঞাপনে সাড়া দিয়ে ক্রয়াদেশের পণ্য হাতে পাওয়ার আগেই টাকা পাঠানো থেকে ক্রেতাকে বিরত থাকতে হবে।

বাস্তব পরিস্থিতির কারণে আগামীতেও বহু ক্রেতা অনলাইনে পণ্য ক্রয়ে আগ্রহী হবেন, এটাই স্বাভাবিক। এ অবস্থায় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত যথাযথ আইনি কাঠামোতে আনা দরকার, যাতে কোনো প্রতিষ্ঠান প্রতারণার আশ্রয় নিলেও সহজে গ্রাহকের ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তি নিশ্চিত করা যায়। একইসঙ্গে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মী হয়রানির শিকার হলে দ্রুত যাতে প্রতিকার মেলে তাও নিশ্চিত করতে হবে। মোটকথা, এ ক্ষেত্রে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের স্বার্থ যাতে অক্ষুণ্ন থাকে, তা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নিতে হবে। ব্যবসার আড়ালে কোনো ব্যক্তি গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণার চেষ্টা করলে যাতে সফল হতে না পারে, তেমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। আমরা আশা করব, দেশের ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকের আস্থা অর্জনের চেষ্টা অব্যাহত রাখবে। সব ধরনের লেনদেনে পারস্পরিক আস্থার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। দেশে ই-কমার্সের বিকাশে সবাইকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।

 

Advertisement

ই-কমার্স প্রতারণা

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম