অল্পকথা
তুলা চাষে গতি আসুক
Advertisement
ড. মো. তাসদিকুর রহমান
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
'Cotton is Good' প্রতিপাদ্য নিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্ব তুলা দিবস পালিত হচ্ছে আজ। বাংলাদেশে দ্বিতীয়বারের মতো তুলা উন্নয়ন বোর্ড দিবসটি উদযাপন করতে যাচ্ছে। তুলা একটি আন্তর্জাতিক মানের শিল্প ফসল, যা বিশ্বব্যাপী ‘সাদা সোনা’ হিসাবে পরিচিত।
তুলার সঙ্গে জড়িয়ে আছে ঐতিহ্য, ইতিহাস, সভ্যতা ও অর্থনীতি। এটি আমাদের দ্বিতীয় মৌলিক চাহিদা, জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত আমাদের তুলার তৈরি বস্ত্রের প্রয়োজন হয়। খাদ্য ছাড়া আমরা কিছুদিন বাঁচতে পারলেও তুলা এবং তুলার তৈরি বস্ত্র ছাড়া আমরা একদিনও চলতে পারব না।
বিশ্বে ৭৫টিরও বেশি দেশে তুলা চাষ করা হয়। তুলা উৎপাদনে প্রতিনিধিত্বকারী দেশগুলোর মধ্যে ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান ও ব্রাজিল অন্যতম। বাংলাদেশ তুলা আমদানিকারক দেশ হিসাবে বিশ্বের দ্বিতীয়। গত বছর যেসব দেশ থেকে তুলা আমদানি করা হয় তা হলো ভারত থেকে ২৩ শতাংশ, ব্রাজিল থেকে ১৪ শতাংশ, মালি থেকে ৮ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৪ শতাংশ, বেনিন থেকে ১০ শতাংশ, বুরকিনো ফাসো থেকে ৭ শতাংশ, ক্যামেরন থেকে ৪ শতাংশ, আইভরি কোস্ট থেকে ৪ শতাংশ এবং অন্যান্য দেশ থেকে ১৬ শতাংশ।
প্রতি টন বীজতুলা প্রতিদিন গড়ে পাঁচজন লোকের কর্মসংস্থান তৈরিতে সহায়তা করে। বিশ্বের ২.১ শতাংশ চাষযোগ্য জমিতে তুলার আবাদ হয় এবং সেই তুলা টেক্সটাইল সেক্টরে ২৭ শতাংশ অবদান রাখে। বাংলাদেশে তিনটি শস্য মৌসুমের মধ্যে খরিপ-২-তে মাত্র ০.৫২ শতাংশ জমিতে তুলা চাষ করা হয়। তুলা থেকে আঁশ ছাড়াও ভোজ্যতেল, খৈল জ্বালানি উপজাত হিসাবে পাওয়া যায়। এ ভোজ্যতেলে খুব কম পরিমাণ কোলেস্টেরল থাকে এবং তুলার বীজ থেকে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ তেল পাওয়া যায়, যা উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ এবং সয়াবিন তেলের চেয়েও পুষ্টিকর।
স্বাধীনতা আগে বাংলাদেশে তুলা উৎপাদন হতো না। স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১৪ ডিসেম্বর তুলা উন্নয়ন বোর্ড গঠন করেন। পাটচাষের জন্য পশ্চিম পাকিস্তানে নেওয়া ৩২৫ জন চাষিকে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনেন এবং ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈলে ৭৯৬ একর জমি তাদের মধ্যে বরাদ্দ করেন তুলা চাষের জন্য। এর মধ্য দিয়ে দেশে তুলা চাষের শুভ সূচনা ঘটে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর দেশে তুলাচাষ কার্যক্রম অনেকটা স্তিমিত হয়ে যায়।
তুলা উন্নয়ন বোর্ডের কোনো নিজস্ব ভবন ছিল না। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তুলা উন্নয়ন বোর্ডের জন্য একটি নিজস্ব ভবনের জায়গা ও অর্থ বরাদ্দ করেছেন। গত বছর তুলা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। তুলা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। জিডিপির ১১.১৬ শতাংশ আসে বস্ত্র খাত থেকে। করোনার কারণে অর্জন কিছুটা কম হলেও ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ সেক্টর আয় করেছিল ৩৩.৬৭ বিলিয়ন ডলার। বিশ্ব তুলা দিবস উদযাপনের মধ্য দিয়ে দেশের তুলার সঙ্গে সম্পর্কিত সব কার্যক্রম আরও বেগবান হবে এবং তা অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্র্ণ ভুমিকা রাখবে-এই হোক অঙ্গীকার।
কৃষিবিদ ড. মো. তাসদিকুর রহমান : উপ-পরিচালক (স: দ:), তুলা উন্নয়ন বোর্ড
